Posts

উপন্যাস

অন্তরের ভালোবাসা

May 8, 2026

Md Josam

Original Author MD samim sikdar

Translated by MD Shamim sikdar

20
View

প্রিয় দর্শক, গল্প শুরু করার আগে আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করছি, আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন, যাতে আপনি সবসময় নতুন গল্প ও খবর পেতে পারেন! চলুন, তাহলে শুরু করা যাক আজকের গল্প!”

ইউটিউব চ্যা সাবস্ক্রাইব করুন, এবং 10 হাজার টাকা জিতুন, চ্যানেলের ভিডিও তে কমেন্ট করুন, আমরা 3 জন বিজয়ী বেছে নেব।

https://youtube.com/@mrtempestis-q7f?si=g3B45DE2WFSjYpOi

গল্পের নাম: আত্মার প্রেম
ঢাকার এক ব্যস্ত সকালে, শহরের রাস্তাগুলো তখনও পুরোপুরি জেগে ওঠেনি। হালকা কুয়াশার মধ্যে সূর্যের আলো ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে। সেই সকালেই প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল গেট পেরিয়ে ভেতরে ঢুকেছিল আদিত্য। নতুন শহর, নতুন মানুষ, নতুন জীবন—সবকিছুই তার কাছে অচেনা।
আদিত্য ছিল খুব সাধারণ এক ছেলে। গ্রামের বাড়ি থেকে শহরে এসেছে বড় স্বপ্ন নিয়ে। তার বাবা একজন স্কুলশিক্ষক, মা গৃহিণী। ছোটবেলা থেকেই সে শুনে এসেছে—“জীবনে বড় হতে হলে পড়াশোনা করতে হবে।” তাই সে নিজের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছে, আর আজ দেশের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পেরেছে।
অন্যদিকে, একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকেছিল মেহরীন। শহরের মেয়ে, আত্মবিশ্বাসী, মেধাবী এবং প্রাণবন্ত। মেহরীনের হাসি এমন ছিল, যেন কেউ মন খারাপ নিয়ে তার সামনে দাঁড়ালে মুহূর্তেই সব দুঃখ ভুলে যাবে।
প্রথম দিনেই তাদের দেখা হয়েছিল—একদম সিনেমার মতো নয়, বরং খুব সাধারণভাবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির সামনে দাঁড়িয়ে আদিত্য মানচিত্র দেখে ক্লাসরুম খুঁজছিল। হঠাৎ পেছন থেকে একটা মিষ্টি কণ্ঠ—
“আপনি কি পথ হারিয়ে ফেলেছেন?”
আদিত্য ঘুরে দাঁড়িয়ে দেখল, সাদা-নীল পোশাকে এক মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
“না… মানে… একটু,” আদিত্য লজ্জা পেয়ে বলল।
মেহরীন হেসে বলল, “চলুন, আমি দেখিয়ে দিচ্ছি।”
সেদিনের সেই ছোট্ট সাহায্যটাই তাদের গল্পের প্রথম অধ্যায় হয়ে গেল।
প্রথম কয়েক মাসে তাদের বন্ধুত্ব গড়ে উঠল। একসাথে ক্লাস করা, ক্যান্টিনে বসে চা খাওয়া, লাইব্রেরিতে নোট শেয়ার করা—সবকিছুতেই তারা ধীরে ধীরে একে অপরের খুব কাছের হয়ে উঠল।
আদিত্য লক্ষ্য করত, মেহরীন খুব সহজে সবার সঙ্গে মিশতে পারে, কিন্তু তার হাসির আড়ালে যেন একটা লুকানো দুঃখ আছে।
একদিন ক্যান্টিনে বসে আদিত্য জিজ্ঞেস করল, “তুমি সবসময় হাসো কেন?”
মেহরীন একটু থেমে বলল, “কারণ কাঁদলে কেউ পাশে থাকে না, কিন্তু হাসলে সবাই থাকে।”
এই উত্তর শুনে আদিত্য চুপ হয়ে গেল।
সেদিন সে বুঝেছিল—মেহরীন শুধু সুন্দর নয়, সে গভীরও।
শীতের এক সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সবাই খুব ব্যস্ত। মেহরীন গান গাইবে, আর আদিত্য দর্শকদের মাঝে বসে আছে।
মেহরীন মঞ্চে উঠে গান শুরু করল—
"তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম..."
গান চলার সময় আদিত্যর মনে হলো, যেন এই গানটা শুধু তার জন্যই।
সেদিন প্রথমবার সে নিজের মনে স্বীকার করল— “আমি মেহরীনকে ভালোবাসি।”
কিন্তু সে বলেনি।
কারণ সে ভয় পেয়েছিল— বন্ধুত্ব হারানোর ভয়।
দিন কেটে গেল।
দ্বিতীয় বর্ষে উঠার পর একদিন মেহরীন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ল। ক্লাসের মাঝখানে মাথা ঘুরে পড়ে যায়।
আদিত্য ছুটে গিয়ে তাকে ধরে।
হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ডাক্তারের কেবিনের বাইরে সারারাত বসে থাকে।
ভোরে মেহরীন চোখ খুলে দেখে—আদিত্য তার হাত ধরে বসে আছে।
“তুমি এখনো যাওনি?”
আদিত্য হেসে বলল, “তুমি না জাগা পর্যন্ত যাব কেন?”
সেদিন মেহরীনের চোখে জল এসেছিল।
সে বুঝেছিল— এই ছেলেটা তাকে সত্যিই ভালোবাসে।
এরপর তাদের সম্পর্ক বদলাতে শুরু করল।
আগের মতো শুধু বন্ধু নয়— এখন তারা একে অপরের অভ্যাস।
সকালে “শুভ সকাল” না বললে দিন শুরু হতো না।
রাতে “ভালো থেকো” না বললে ঘুম আসত না।
একদিন বৃষ্টির দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো অশ্বত্থ গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আদিত্য বলল—
“মেহরীন, আমি তোমাকে ভালোবাসি।”
মেহরীন কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল।
তারপর বলল, “এতদিনে বললে?”
আদিত্য অবাক।
“মানে?”
মেহরীন হেসে বলল, “আমি তো অনেক আগেই তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি।”
সেদিন বৃষ্টির শব্দের মাঝখানে তাদের প্রথম আলিঙ্গন হয়।
আর সেই মুহূর্তে মনে হয়েছিল— পৃথিবীতে এর চেয়ে সুন্দর কিছু নেই।
তারপর শুরু হলো তাদের প্রেমের দিনগুলো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের লাল ইটের পথ, লাইব্রেরির নীরব কোণ, ক্যান্টিনের এক কাপ চা, ছাদের উপরে বসে সূর্যাস্ত দেখা— সব জায়গায় তারা একসাথে।
বন্ধুরা বলত, “তোরা তো একদম স্বর্গের জুটি।”
মেহরীন বলত, “আমরা শুধু প্রেমিক-প্রেমিকা নই, আমরা একে অপরের আত্মা।”
এই কথাটাই পরে তাদের গল্পের নাম হয়ে যায়— আত্মার প্রেম।
কিন্তু সব প্রেমের গল্পেই পরীক্ষা আসে।
তাদের গল্পেও এলো।
চতুর্থ বর্ষে এসে আদিত্য বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেল।
সবাই খুশি।
কিন্তু আদিত্য খুশি হতে পারছিল না।
কারণ তাকে যেতে হবে, আর মেহরীন থাকবে এখানে।
এক সন্ধ্যায় নদীর ধারে বসে সে বলল, “আমি যেতে চাই না।”
মেহরীন তার হাত ধরে বলল, “যেতে হবে।”
“তোমাকে ছেড়ে?”
“ভালোবাসা যদি সত্যি হয়, দূরত্ব কিছু করতে পারবে না।”
আদিত্যর চোখ ভিজে গেল।
“যদি তুমি বদলে যাও?”
মেহরীন মৃদু হেসে বলল, “আত্মা কি বদলায়?”
আদিত্য চলে গেল।
প্রথম কয়েক মাস খুব কষ্ট ছিল।
সময়ের পার্থক্য, ব্যস্ততা, পড়াশোনা— সব মিলিয়ে কথা কমে গেল।
কখনো ভুল বোঝাবুঝিও হলো।
একদিন মেহরীন অভিমান করে ফোন ধরল না।
আদিত্য সারারাত জেগে ছিল।
পরদিন ভিডিও কলে শুধু বলল— “তুমি রাগ করো, অভিমান করো, ঝগড়া করো… কিন্তু আমাকে ছেড়ে যেও না।”
মেহরীন কেঁদে ফেলল।
“আমি তোমাকে ছাড়ব না।”
দুই বছর পর আদিত্য দেশে ফিরল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই পুরনো গেটের সামনে মেহরীন দাঁড়িয়ে।
একই হাসি।
একই চোখ।
কিন্তু আরও বেশি পরিণত।
আদিত্য কাছে গিয়ে বলল, “তুমি বদলাওনি।”
মেহরীন বলল, “বলেছিলাম তো—আত্মা বদলায় না।”
এরপর তারা বিয়ে করল।
ছোট্ট, সাদামাটা অনুষ্ঠান।
দুই পরিবার, কিছু বন্ধু, অনেক ভালোবাসা।
বিয়ের রাতে আদিত্য বলল, “আজ মনে হচ্ছে আমি পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান মানুষ।”
মেহরীন হেসে বলল, “আমিও।”
বিয়ের পর তাদের জীবন ছিল খুব সাধারণ কিন্তু সুন্দর।
সকালে একসাথে নাস্তা বানানো।
অফিসে যাওয়ার আগে কপালে চুমু।
রাতে ছাদে বসে গল্প।
ছুটির দিনে পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে যাওয়া।
একদিন তারা সেই অশ্বত্থ গাছটার নিচে দাঁড়াল, যেখানে প্রথম প্রেমের কথা বলেছিল।
আদিত্য বলল, “মনে আছে?”
মেহরীন বলল, “সব মনে আছে।”
“যদি আবার জীবন শুরু করতে পারতে?”
মেহরীন এক মুহূর্ত না ভেবে বলল, “আবার তোমাকেই বেছে নিতাম।”
কয়েক বছর পর তাদের একটি মেয়ে হলো।
নাম রাখল আত্মা।
সবাই অবাক।
“এমন নাম কেন?”
মেহরীন বলল, “কারণ আমাদের প্রেম শুধু শরীরের নয়, আত্মার।”
সময় বয়ে চলল।
চুলে পাক ধরল।
মুখে বলিরেখা পড়ল।
কিন্তু তাদের ভালোবাসা কমল না।
একদিন বৃদ্ধ বয়সে, বারান্দায় বসে সূর্যাস্ত দেখছিল তারা।
মেহরীন ধীরে বলল, “আদিত্য, যদি আমি আগে চলে যাই?”
আদিত্য সঙ্গে সঙ্গে বলল, “এমন কথা বলো না।”
“না, বলো… তখন কী করবে?”
আদিত্য তার হাত শক্ত করে ধরে বলল, “তোমাকে আবার খুঁজে নেব।”
“কোথায়?”
“যেখানেই থাকো।”
মেহরীন হাসল।
“আমি অপেক্ষা করব।”
কয়েক মাস পর মেহরীন সত্যিই অসুস্থ হয়ে পড়ল।
ডাক্তার বললেন— সময় খুব বেশি নেই।
আদিত্য ভেঙে পড়ল।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মেহরীন বলল, “কাঁদো না।”
“কীভাবে না কাঁদি?”
“আমাদের প্রেম তো শেষ হচ্ছে না।”
“তুমি চলে যাবে।”
“শরীর যাবে, আত্মা নয়।”
শেষ রাতে মেহরীন আদিত্যর হাত ধরে ফিসফিস করে বলল—
“পরের জন্মেও তোমাকেই চাই।”
আর তারপর তার চোখ ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে গেল।
আদিত্য অনেকক্ষণ তার হাত ধরে বসে ছিল।
কাঁদেনি।
কারণ সে জানত— মেহরীন ঠিকই বলেছিল।
প্রেম শেষ হয় না।
শুধু রূপ বদলায়।
বছর কয়েক পরে, একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই পুরনো গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল আদিত্য।
চারপাশে নতুন ছাত্রছাত্রী।
হঠাৎ একটা মেয়ে এসে বলল—
“আপনি কি পথ হারিয়ে ফেলেছেন?”
আদিত্য চমকে উঠল।
কণ্ঠটা…
একই।
হাসিটা…
একই।
সে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে শুধু মৃদু হেসে বলল—
“না… এবার আর পথ হারাইনি।”
তার মনে হলো— মেহরীন আবার ফিরে এসেছে।
হয়তো অন্য নামে।
অন্য রূপে।
কিন্তু একই আত্মা নিয়ে।
কারণ সত্যিকারের ভালোবাসা কখনো মরে না।
তা সময়ের ওপারে গিয়ে অপেক্ষা করে।
আর একদিন আবার ফিরে আসে।
এই জন্যই এর নাম— আত্মার প্রেম।

Comments

    Please login to post comment. Login