Posts

উপন্যাস

এক ছাতার নিচে। পর্ব:২২

May 8, 2026

busra islam

42
View

*#গল্প - এক ছাতার নিচে

 #লেখিকা - বুশরা নাদরাহ

 # পর্ব - ২২

  "সকাল ৮টা*   

"ইনায়া, কলেজে যাবি না? উঠ মা," ফারহানা বেগম  ডাকছেন। 

 ইনায়া কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে। রাতে এক ফোঁটাও ঘুম হয় নি। চোখ জ্বলছে।  

"আম্মু আজকে যাব না। শরীরটা ভালো লাগছে না।  

ফারহানা বেগম বিরক্ত হয়ে বললেন, "সামনে না তর এক্সাম। এভাবে কলেজ না গেলে হবে?  দরজা টা লাগিয়ে চলে গেলেন।  

 ইনায়া খাটে হেলান দিয়ে বসে আছে। সামনে ভাতের প্লেট, হাত দেয় নাই এখনো।  মাথায় হাজার প্রশ্ন  — *ওই ছবির মেয়েটা কে? আম্মুর মতো কেন? "আমার কলিজা কার লেখা ? কাকে উদ্দেশ্য করে লিখা।

"  অনেক বার ভাবছে ছোট চাচ্চু কে জিজ্ঞেস করা যায়। আবার ভাবছে না,। দাভাই কে মেসেজ টাইপ করে আবার ডিলিট করে দেয়।  

*কাকে জিজ্ঞেস করবে? কে বলবে সত্যিটা?

  দুপুর গড়িয়ে গেল। বিকাল ৪টা বাজে। রোদ পড়ে আসছে।  ইনায়ার হঠাৎ মনে হলো —

 *রহিম চাচা!*  

চাচা তো এই বাসায় প্রায় ৩০  বছর যাবৎ আছেন। আম্মুর বিয়ে, দাভাইয়ের ছোটবেলা, সব দেখেছে। *চাচা নিশ্চয়ই জানে। চাচা ছাড়া আর কেউ বলবে না।

কিন্তু চাচাকে কিভাবে জিজ্ঞেস করবো? চাচা যদি আম্মুকে বলে দেয়?  

আরো ১ ঘণ্টা ভাবল। শেষে আর পারল না

  *বিকাল ৫:১০*  

 বুক ধড়ফড় করতে করতে নিচে নামল। ওড়না দিয়ে মুখের অর্ধেক ঢাকা।  গেটের পাশে রহিম চাচা বসে বিড়ি খাচ্ছে

 ইনায়া কে দেখে তাড়াতাড়ি ফেলে দিল। 

 "আরে ইনায়া মা! তুমি এসময়? শইল অসুখ করছে নি?

"  ইনায়া চারপাশ দেখল। কেউ নেই। গলির মাথায় কয়েকটা বাচ্চা খেলছে।  

 চাচার কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলল, "চাচা... তোমার সাথে একটু কথা ছিল। খুব দরকারি।

"  রহিম চাচা অবাক, "কও মা। কি হইছে?কি দরকার কও মা?  

  ইনায়া ঢোক গিলল। হাত কাঁপছে।  

 "চাচা... তুমি তো অনেক দিন ধরে আমাদের বাসায় আছো। তুমি... তুমি আমার আম্মুরে ছোটবেলা থেকে চিনো না?

"  রহিম চাচা ভ্রু কুঁচকাল, "হ মা। তোমার নানাবাড়ি থেকাই আমি তোমার মা রে চিনি। কেন রে মা?  

" চাচা... আমার আম্মুরা কি ২ বোন?  "আম্মুর... আম্মুর কোনো ছোট বোন ছিল চাচা? মানে... আম্মুর মতো দেখতে?

"  প্রশ্নটা শুনেই রহিম চাচার মুখটা শুখিয়ে গেল। চোখ বড় বড় হয়ে গেল। হাতের লাঠিটা ঠক করে পড়ে গেল।

Comments

    Please login to post comment. Login