শহরের যান্ত্রিকতায় ক্লান্ত হয়ে অভীক যখন পৈতৃক ভিটেয় ফিরল, তখন সন্ধ্যা নামছে। গ্রামটা আগের মতো নেই, তবে বাতাসের সেই সোঁদা গন্ধটা এখনো আছে। অভীকের বাবা মারা যাওয়ার পর এই বাড়িটা তালাবন্ধই ছিল কয়েক বছর। ধুলো জমা বারান্দায় দাঁড়িয়ে অভীকের মনে পড়ল ছোটবেলার সেই দিনগুলোর কথা, যখন লণ্ঠনের আলোয় দাদু তাকে রূপকথা শোনাতেন।
বাড়ির পেছনের বাগানে একটা বিশাল কৃষ্ণচূড়া গাছ ছিল। অভীক দেখল, গাছটা এখনো বেঁচে আছে, তবে অযত্নে লতাগুল্মে ঢাকা পড়েছে। হঠাৎ তার নজরে এল গাছের গোড়ায় একটা মরচে ধরা টিনের বাক্স আধা-পোতা অবস্থায় পড়ে আছে। কৌতূহলী হয়ে বাক্সটা খুলে সে অবাক হয়ে গেল। ভেতরে কিছু পুরনো চিঠির তাড়া আর একটা ছোট কাঠের বাঁশি।
চিঠিগুলো ছিল তার বাবার লেখা, যা কোনোদিন পোস্ট করা হয়নি। একটি চিঠিতে লেখা ছিল— "খোকা, তুই বড় হয়ে অনেক বড় মানুষ হবি জানি, কিন্তু মনে রাখিস এই মাটির টানই তোর আসল শিকড়। যখন খুব একা লাগবে, এই বাঁশিটা বাজাস। দেখবি তোর শৈশব তোকে ছোঁবে।"
অভীক বাঁশিটা হাতে নিল। সে কোনোদিন বাঁশি বাজাতে শেখেনি, তবুও যখন সে ফুঁ দিল, এক অদ্ভুত সুর বেজে উঠল। সেই সুরে বিষাদ ছিল না, ছিল ঘরে ফেরার আনন্দ। সেদিন রাতে অভীক স্থির করল, সে আর শহরে ফিরে যাবে না। এই গ্রামেই শুরু করবে নতুন এক জীবন। বড় কোনো চাকরি হয়তো নেই, কিন্তু আছে এক পরম শান্তি যা সে কোটি টাকা দিয়েও কিনতে পারত না।লেখক মুজাহিদুল ইসলাম লাবিব