Posts

উপন্যাস

এক ছাতার নিচে। পর্ব:২৪

May 10, 2026

busra islam

37
View

#গল্প- এক ছাতার নিচে

 #লেখিকা- বুশরা নাদরাহ

 #পর্ব - ২৪ 

 "মাগরিবের আজান শেষ। আকাশে লালচে আভা মিলিয় গিয়ে জোনাকি জ্বলছে।বাহিরে শীতল বাতাস।  

ইনায়া দরজার আড়াল থেকে উঁকি দেয়। বাহিরে কেউ আছে কি না,। কাউকে দেখতে না পেয়ে,, পা টিপে টিপে বাহিরে যায়। বিকালে রহিম চাচা যে বলল — _“হুম  আম্মুর একটা বোন ছিলো...”_ — এরপর তো আর কিছু বলে নি।  

 ইনায়ার বুকের ভিতর ঢিপঢিপ করছে। ওই মেয়েটা কে? আমার মায়ের বোন? কোথায় আছে? আম্মু কেন কোনো কিছু বলে নাই। কেনো লুকালো?  

  রহিম চাচা গার্ড রুমের সামনে প্লাস্টিকের টুলে বসে চা খাচ্ছে। পাশে লাঠি। হঠাৎ ঘাড় ঘুড়িয়ে:   কি রে মা ? ওইখানে কি?

  "চাচা... বিকালে তুমি... আমার মায়ের বোনের কথা...  

রহিম চাচা চায়ের কাপ নামিয়ে রাখে। গেটের রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকে। রিকশার টুংটাং শব্দ।  

 " হ। তোমার মার ছোট বইন আছিলো।নাম আছিলো........ পারুল।

 " পারুল?? 

 " হ পারুল। 

" তিনি এখন কোথায় চাচা?  পারুল নামের যে আমার কোন খালামনি আছে, তা আগে তো কখনো শুনিনি।  

 রহিম চাচা এইবার ইনায়ার দিকে তাকালো। টিউব লাইটের আলোয় চাচার চোখে কেমন ঘোলা একটা কষ্ট দেখা যাচ্ছে। 

  " থাক গা মা! সব কথা শুনতে হয় না।  হঠাৎ একটা বাইক ফুল স্প্রিডে গেটের সামনে দিয়ে যায়। রহিম চাচা চমকিয়ে উঠে। গলাটা নামিয়ে বলে : 

"এহন এইসব কথা আর শুনতে হইব না। কেউ শুনলে ঝামেলা হইব।তুমি যাও গা মা।  

  ইনায়া চাচার হাত চেপে ধরে।

"   না চাচা,আজকে আমি যাবো না। পারুল খালামনি কোথায় আছে?   

  রহিম চাচা উঠে দাঁড়ায়। গার্ড রুমের দরজাটা টেনে দেয়। ফিসফিস করে বলে  

" পারুল... হেয় ৩২বছর আগে এই গেট দিয়াই শেষবার বাইর হইছিলো। এক শ্রাবণ মাসের রাইতে।লাল শাড়ি ফিন্দা। 

 " তারপর?   

" তারপর আর ফিরে নাই?   

"কোথায় গিয়েছে?   

" না ফিরোনের দেশে। 

" মানে? " কিভাবে মারা গেলো চাচা? 

  " হেয় তো নিজের ইচ্ছায় মরে নাই রে মা। হেরে কিছু মানুষ মাইরা লাইছে। 

" কেন চাচা?  আর কারা মারেছে?   

" হেইডা কোওন যাইবো না।

Comments

    Please login to post comment. Login