Story

খুনসুটির পাহাড় তুলি

May 10, 2026

136 views

লেখক: মুহাম্মদ লিটন ইসলাম

পর্ব: ১


কাঁথা মুড়িয়ে শুয়ে আছে বিশাল। ঈদের দিন সকাল সকাল উঠলেও ফজর সালাত শেষে সে আবার ঘুমিয়েছে। শিলা বিশালের অর্ধাঙ্গিনী—পাতলা ছিপছিপে গড়ন, রেশমি লাল-গোলাপি ঠোঁট, আর নাকের বাঁ পাশে কালচে তিলক। তিলক বরাবর কৃষ্ণ কেশের দোলন তাকে বেশ আকর্ষণীয় করেছে।

সকাল ৭টা বাজে। বিশালের আম্মু সাহেদা বেগম সেমাই রান্না করেছেন।পরিবারের সকলকে তিনি খেতে ডাক দিয়েছেন। বিশালের বোন সীমা এবং বাবা আব্দুল কুদ্দুছ মিয়া উভয়েই উপস্থিত, কিন্তু বিশাল এখনো ঘুমোচ্ছে। শিলা ঘরে এসেছে বিশালকে ডেকে দিতে। তার হাতে একখানা স্টিলের থালা।

বিশালকে ডাকছে— "সাহেব, সকাল কি হয়েছে? ও সাহেব! স্যার মহাশয় উঠুন...!"

কিন্তু বিশাল উঠছে না দেখে সে এবার থালা দিয়ে ঝনঝন শব্দের সৃষ্টি করল। হঠাৎ করেই বিশাল শিলার হাতখানা ধরে তাকে নিজের বুকের ওপর টেনে আনল। শিলার কোমরে বাঁ হাত দিয়ে জাপটে ধরল সে। নড়াচড়া করা শিলার জন্য একদম বৃথা চেষ্টা। দুজনেই চোখাচোখি, মুখোমুখি।

শিলা ফিসফিস করে বলছে, "স্যার, ছাড় দেন।" প্রত্যুত্তরে বিশাল শিলাকে আরও জোরে চেপে ধরে খশখশ করে হাসতে শুরু করল। বলল, "জি ম্যাডাম, দিচ্ছি তো! হি হি..."

"আরে মিয়া ছাইড়া দেন, আম্মী দেখে ফেলবে তো? তাছাড়া আপনার সিসিটিভি ম্যান সীমা দেখলে তো ক্যাল্যাঙ্কারি হয়ে যাবে!" বিশালের কানে মুখ লাগিয়ে নিচু স্বরে বলল শিলা। "আগে একখান উম্মাআআ... দিন, এরপর ১০০% ছাড় নিয়ে যান। স্টক সীমিত," দুষ্টু সুরে বলে উঠল বিশাল।

লজ্জা পেয়ে শিলা উম্মা দিতে গেলেই বিশাল তার ওপরের ওষ্ঠে কামড় দিয়ে সিল বসিয়ে দিল। শিলা রেগে তার বক্ষে দু-চারটা ঘুসি মেরে আয়নার সামনে দাঁড়াল। নিজের ওষ্ঠের দাগ নিয়ে ঘর থেকে বের হতে তার ভীষণ লজ্জা লাগছে। একে তো নবদম্পতি, তার ওপর এমন অবস্থা!

সংকোচ নিয়ে শিলা খাবার টেবিলে গেল, পেছনে বিশালও হাজির হলো। সবার চোখ শিলার দিকে। ভালো অবস্থায় মেয়েটা ঘরে গেল, আর ফিরে এলো এ কেমন অবস্থায়!

আম্মী তার ওষ্ঠের ফোলা দেখে জিজ্ঞেস করলেন, "কী গো মায়া, এডি তোমার হোডে কী হইছে? একদম ফুইলা গেছে!" শিলা দুই সেকেন্ড চিন্তা করে লজ্জামাখা মুখে বলল, "পিঁপড়া কামড় দিছে গো আম্মী।"

পাশ থেকে 'সিসিটিভি ম্যান' খ্যাত সীমা জিজ্ঞেস করল, "ভাবি, এডি গলদা না ছুঁচো পিঁপড়া?" এবার শিলা লজ্জা কাটিয়ে বলে উঠল, "তোর ভাইরে জিগা, হেতা প্রত্যক্ষ করছে।"

বিশালকে কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই সে উত্তর দিল, "আমি কিতান করে জানুম? আমি তো ঘুমাইছিলাম, কিতালই প্রত্যক্ষ করব কও? তোর ভাবি দেখ গিয়া কোন সময় মিষ্টি খাইবার গেছিল, ঐঠান লইত পিঁপড়া কামড় দিছে।"

শিলা নিচু মুখে সেমাই খাচ্ছে। বিশাল আর সীমা মুচকি হাসছে। ভণ্ডামি থামাতে আব্দুল কুদ্দুছ মিয়া শিলার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন, "আম্মাজান, খাওয়াই দাওনি!"

শিলা এই মিয়া পরিবারের সবার চোখের মণি। শ্বশুরের কাছে একদম নিজের মেয়ের মতো, আবার ছোটবেলার বান্ধবীর মতো। শাশুড়ির কাছে সে যেন ঘুমের ওষুধ; শিলা বিহীন তার চোখে ঘুম আসে না। আর সীমা? তার জন্য তো সে এক লুকানো গুপ্তধনের ভাণ্ডার। তারা দুজনেই বেস্ট ফ্রেন্ড; ক্লাস ফোর থেকেই তারা বন্ধুত্বের বাঁধনে আবদ্ধ। সেই সুবাদেই শিলার ছোটবেলা থেকে এই পরিবারে আসা-যাওয়া ছিল। শিলাকে সবার খুবই পছন্দ ছিল, তাই আর অন্য কিছু চিন্তা না করে তাকে ঘরের বউ করে নিয়ে এসেছে বিশাল।

পরিবারের কাছে শিলা এখন এমন এক সত্তা যে, রক্তের কেউ না হয়েও বৈবাহিক বন্ধনের ফলে সে বিশালের চেয়েও অতি আপন। বিশাল অসুস্থ হলে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই, কিন্তু শিলার সামান্য কিছু হলেই তার এই তিন বন্ধু-বান্ধবী মিলে আকাশ-জমিন একাকার করে তোলে।

চলবে...

Picked up where you left off

Comments

    Please login to post comment. Login

  • Md Liton Islam 4 months ago

    কেমন লাগল জানাবেন...