প্রিয় দর্শক, গল্প শুরু করার আগে আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করছি, আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন, যাতে আপনি সবসময় নতুন গল্প ও খবর পেতে পারেন! চলুন, তাহলে শুরু করা যাক আজকের গল্প!”
ইউটিউব চ্যা সাবস্ক্রাইব করুন, এবং 10 হাজার টাকা জিতুন, চ্যানেলের ভিডিও তে কমেন্ট করুন, আমরা 3 জন বিজয়ী বেছে নেব।
https://youtube.com/@mrtempestis-q7f?si=g3B45DE2WFSjYpOi

(গল্পটি পড়ার আগে সাবধান হন, ভয় পেলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়)
ডার্ক ওয়েব
রাত দুটো। ঢাকার একটা ছোট ফ্ল্যাটের ঘরে নীল আলোয় চোখ জ্বলছিল আরিফের। তার ল্যাপটপের স্ক্রিনে একটা সাধারণ টর ব্রাউজার খোলা। কৌতূহলের শুরুটা ছিল নিরীহ। এক বন্ধু বলেছিল, “দেখবি? সত্যি সত্যি আছে।” আরিফ হেসে উড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু আজ, ঘুম না আসায়, সে টাইপ করল: “dark web links”.
প্রথম কয়েকটা লিংক মৃত। তারপর একটা খুলল। কালো পটভূমিতে লাল অক্ষরে লেখা: “Welcome to the Real World. No Rules. No Mercy.”
সে ভাবল, এটা নিশ্চয়ই ফেক। কিন্তু ক্লিক করল।
প্রথমে দেখল ড্রাগ মার্কেট। ছবিতে সাদা পাউডারের প্যাকেট, নীল পিল, সবুজ তরল। দাম লেখা বিটকয়েনে। এক ক্লিকে কেনা যায়। কমেন্ট সেকশনে ক্রেতারা লিখছে, “প্যাকেট এসেছে। কোয়ালিটি ফায়ার।” আরিফের গা শিরশির করল। সে স্ক্রল করতে লাগল।
তারপর অস্ত্রের দোকান। এ কে-৪৭, গ্লক, সাইলেন্সার, এমনকি ছোট ড্রোন যাতে বোমা লাগানো যায়। একটা লিস্টিংয়ে লেখা: “Used in 3 successful operations. Clean history.” বিক্রেতার রেটিং ৪.৯।
আরিফের হাত কাঁপছিল। সে বন্ধ করবে ভাবল। কিন্তু একটা লিংক চোখে পড়ল— “Forbidden Vault”.
ভিতরে ঢুকতেই তার মনে হলো পৃথিবীর সমস্ত নিষিদ্ধতা এক জায়গায় জড়ো হয়েছে।
মানুষ বিক্রি হচ্ছে।
১৯ বছরের একটা মেয়ের ছবি। “Virgin. Obedient. Delivery in Europe or Middle East. Starting 8 BTC.” কমেন্টে কেউ লিখেছে, “Already used her. Good product.”
অঙ্গ বাণিজ্য।
লাইভ অকশন চলছে। “Healthy 28yo male kidney. Bid starts now.” একটা ভিডিওতে দেখানো হচ্ছে কীভাবে ডাক্তাররা (নাকি ডাক্তার সেজে) অজ্ঞান মানুষের শরীর থেকে অঙ্গ বের করছে।
স্নাফ ফিল্ম।
রিয়েল ডেথ ভিডিও। কেউ অর্ডার দেয়, কেউ মারা যায়। একটা ভিডিওতে একজনকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হচ্ছে। ভিউয়াররা টিপস দিচ্ছে।
হিটম্যান সার্ভিস।
“Target: Anyone. Anywhere. Price depends on difficulty. 100% success rate last 47 jobs.” প্রোফাইলে ছবি আছে— রক্তাক্ত দেহ, খবরের কাটিং।
আরিফের পেট মোচড় দিচ্ছিল। সে বুঝতে পারছিল, এটা কোনো মুভি নয়। এটা বাস্তব। এই মুহূর্তে কোথাও কেউ হয়তো এই সাইট দেখে অর্ডার দিচ্ছে।
সে আরও গভীরে গেল। একটা ফোরামে ঢুকল— “The Abyss”.
সেখানে মানুষ শেয়ার করছে তাদের “কালেকশন”। শিশুদের ছবি, ভিডিও। আরিফ তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দিল। কিন্তু তার মাথায় ছবিগুলো আটকে গিয়েছিল। সে বমি করতে গেল।
রাত কেটে গেল। সকালে আরিফ ঘুমাল না। তার মনে হচ্ছিল, সে এখন আর নিরাপদ নয়। সে একটা লিংকে রেজিস্ট্রেশন করেছিল। তার আইপি লগ হয়ে গেছে।
দুদিন পর তার ইনবক্সে একটা মেসেজ এলো।
“Welcome, new user. We saw you browsing. Interested in something special?”
আরিফ রিপ্লাই দেয়নি। কিন্তু পরের দিন আরেকটা মেসেজ: “We have your data. Your mother’s address. Your sister’s college route. Want to play a game?”
সে ল্যাপটপ বন্ধ করে ফেলল। ফোন বন্ধ করল। দরজা লক করল। কিন্তু জানালা দিয়ে রাস্তায় তাকিয়ে মনে হলো প্রত্যেকটা গাড়ি, প্রত্যেকটা লোক তার দিকে তাকিয়ে আছে।
তারপর শুরু হলো আসল ভয়াবহতা।
রাতে তার কম্পিউটার নিজে নিজে চালু হয়ে গেল। স্ক্রিনে একটা লাইভ ফিড। তার ঘরের ভিতরের ক্যামেরা। কেউ তার কম্পিউটার হ্যাক করেছে। সে দেখল, তার ঘুমন্ত মুখ। তারপর স্ক্রিনে লেখা উঠল:
“You can’t leave. You are now part of us.”
আরিফ চিৎকার করে ল্যাপটপ ভেঙে ফেলল। কিন্তু তার ফোনেও একই মেসেজ এলো। তারপর টিভিতে। তারপর বাড়ির সব লাইট জ্বলে উঠল একসাথে।
সে পালাতে চাইল। বাসায় কাউকে বলতে চাইল না, লজ্জায়। কিন্তু তৃতীয় দিন তার বোনের ফোন থেকে একটা ভিডিও এলো। ভিডিওতে তার বোন ঘুমাচ্ছে। পাশে একটা ছায়ামূর্তি দাঁড়িয়ে।
আরিফ কাঁদতে কাঁদতে পুলিশে গেল। পুলিশ হাসল। “স্যার, ডার্ক ওয়েবে ঢুকলে এমন হয়। আমরা কী করব? আপনার আইপি তো ওদের কাছে।”
সে লুকিয়ে থাকল। কিন্তু এক রাতে দরজায় নক। বাইরে কেউ নেই। শুধু একটা ছোট বাক্স। ভিতরে একটা USB আর একটা চিরকুট: “Your sister’s kidney is healthy. Thank you for the donation.”
আরিফ চিৎকার করে উঠল। সে বুঝতে পারল, ডার্ক ওয়েব শুধু একটা সাইট নয়। এটা একটা সমান্তরাল পৃথিবী। যেখানে মানুষের আত্মা বিক্রি হয়, শরীর কাটা হয়, স্বপ্ন ধ্বংস হয়। যেখানে প্রতিটা নিষিদ্ধ কাজের একটা মার্কেট আছে— খুন, ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন, মানব পাচার, জীবন্ত নির্যাতনের ভিডিও, এমনকি কালো জাদুর জন্য মানুষের রক্তও।
সে শেষ চেষ্টা করল। একটা ফোরামে পোস্ট করল: “How to escape?”
উত্তর এলো এক মিনিটে। শত শত কমেন্ট।
“Escape? There is no escape.”
“You are meat now.”
“Welcome to the family, brother.”
শেষ মেসেজটা এলো তার নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে, যেটা সে কখনো খোলেনি:
“Tomorrow, we will visit. Sleep well.”
আরিফ জানালা খুলে নিচে তাকাল। রাস্তায় কালো ভ্যান দাঁড়িয়ে। দরজা খুলছে।
সে পিছিয়ে গেল। তার হাতে একটা ছুরি। কিন্তু জানত, এটা কোনো লড়াইয়ের জন্য নয়।
ডার্ক ওয়েব কখনো তোমাকে ছেড়ে দেয় না। তুমি যতই ক্লিক করো, ততই তুমি তাদের হয়ে যাও। পৃথিবীর আলোয় যা নিষিদ্ধ, সেখানে তা সাধারণ বাণিজ্য। যেখানে মানুষ আর মানুষ নয়, শুধু প্রোডাক্ট।
আরিফের চিৎকার শোনা গিয়েছিল সেই রাতে। কিন্তু কেউ আসেনি।
পরের দিন তার ফ্ল্যাট খালি পাওয়া গেল। শুধু ল্যাপটপটা টেবিলে, স্ক্রিনে একটা লাইভ স্ট্রিম চলছে।
স্ট্রিমে দেখা যাচ্ছে— একটা অন্ধকার ঘর। আরিফ চেয়ারে বাঁধা। তার চোখে ভয়। আর পাশে একটা মাস্ক পরা লোক ছুরি তুলছে।
ভিউয়ার কাউন্ট: ১২,৪৫৭।
কমেন্ট আসছে: “Cut deeper.” “Make him scream.” “Sell the organs live.”
ডার্ক ওয়েব চলতে থাকে।
আর তুমি, যে এই গল্প পড়ছ, যদি কখনো কৌতূহল হয়... মনে রেখো।
একবার ঢুকলে, বেরোনোর রাস্তা নেই।
শেষ