গ্রামের একদম শেষ মাথায় ছিল একটা পুরোনো বাড়ি। সবাই সেটাকে “কালো বাড়ি” বলে চিনত। দিনের বেলাতেও বাড়িটার দিকে কেউ তাকাতে চাইত না। কারণ রাতে নাকি সেখানে অদ্ভুত শব্দ শোনা যেত—কখনো কান্না, কখনো পায়ের আওয়াজ।
একদিন সপ্তম শ্রেণী ছাত্র রাফি তার বন্ধু নীলকে বলল,
— “চল, আজ রাতে কালো বাড়ির রহস্য বের করব!”
নীল ভয় পেলেও রাজি হয়ে গেল। রাত ঠিক
বারোটায় তারা টর্চ নিয়ে বাড়িটার সামনে পৌঁছাল। বাতাস ঠান্ডা, চারদিকে নিস্তব্ধতা। হঠাৎ দরজাটা “কড়রর” শব্দ করে নিজে নিজেই খুলে গেল।ভেতরে ঢুকতেই তারা দেখল দেয়ালে পুরোনো ছবি ঝুলছে। একটা ছবিতে ছিল ছোট্ট একটা মেয়ে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়—মেয়েটার চোখ যেন তাদের দিকেই তাকিয়ে আছে!হঠাৎ ওপরে থেকে কারো হাঁটার শব্দ এলো।
টুপ…টুপ…টুপ…
রাফি সাহস করে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলো। শেষ ঘরের সামনে গিয়ে দেখে দরজাটা একটু খোলা। ভেতর থেকে মৃদু কন্ঠে কেউ বলছে,
- আমাকে বাঁচাও…"
নীল কাঁপতে কাঁপতে দরজাটা ঠেলে খুলল। ঘরের মাঝখানে একটা পুরোনো আয়না। আয়নায় তাদের পেছনে সাদা কাপড় পরা একটা মেয়ের ছায়া দেখা যাচ্ছে। কিন্তু পিছনে তাকাতেই—কেউ নেই!হঠাৎ ঘরের বাতি জ্বলে উঠল। মেয়েটার ছায়া আয়না থেকে ধীরে ধীরে বের হতে লাগল। তার চোখ দুটো একদম কালো।
রাফ চিৎকার করে বলল,
—“ দৌড়াও!”
দুজন দৌড়ে নিচে নেমে বাইরে চলে এলো। কিন্তু বাড়ির দরজার সামনে এসে তারা থেমে গেল। কারণ বাইরে যাওয়ার দরজাটা আর নেই…
শুধু দোয়েলের লাল রঙে লেখা ছিল —
“ যারা একবার আসে, তারা আর ফিরে যায় না…”