Posts

গল্প

সকালটা তোমার জন্য

May 12, 2026

ওমর ফারুক আশরাফি

5
View

সকালটা তোমার জন্য 

ওমর ফারুক আশরাফী

সুভাষদার দোকানে চাকরিটা পেয়েছিলাম বাধ্য হয়ে। সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা, খাতা লেখা আর কাস্টমারের হিসাব। জীবনটা একদম রুটিনে বাঁধা।

তখনই একদিন নজর গেল ওর দিকে। দোকানের উল্টো দিকের পার্লারে কাজ করত। সবার থেকে আলাদা। ভিড়ের মধ্যেও চুপচাপ, শান্ত। মুখে সবসময় একটা হালকা হাসি লেগেই থাকত, যেন নিজের একটা আলাদা জগৎ আছে। কোনো ছেলের সাথে অকারণে কথা বলত না। নাম জানতাম না, ডাকতাম "Uncommon"।

বন্ধুকে বলতেই ও লাফিয়ে উঠল, "সত্যি? কে রে মেয়েটা? বল না!"  
আমি শুধু বললাম, "আছে একজন। সাদিয়া নাম। কিন্তু বলার সাহস পাই না। যদি রিজেক্ট করে দেয়?"

রোজ সকাল সকাল বের হতাম, শুধু ওকে একবার দেখব বলে। দূর থেকে দেখতাম, ও কাজে ঢুকছে। এভাবেই দিন যাচ্ছিল।

তারপর একদিন সব হিসাব পাল্টে গেল। অফিস থেকে ফিরছি, বৃষ্টি নামল হঠাৎ। একটা অটোতে উঠে দেখি কিনারের সিটে ও বসে আছে। সাদিয়া। প্রথমবার এত কাছ থেকে।

সাহস করে জিজ্ঞেস করলাম, "আপনার নাম?"  
ও হেসে বলল, "সাদিয়া। আপনি?"  
সেই প্রথম কথা। অটোর ঝাঁকুনি, বৃষ্টির শব্দ, আর আমাদের টুকরো টুকরো আলাপ। জানলাম ও কথা কম বলে, কিন্তু মন দিয়ে শোনে।

সেই দিনের পর থেকে অজুহাত খুঁজতাম। "কেমন আছো", "আজ বৃষ্টি হবে নাকি", "শরীর ভালো তো"। ও হাসত, উত্তর দিত। কিন্তু আসল কথাটা গলার কাছে এসে আটকে যেত। ভালোবাসি, এটা বলা হয়নি একদিনও।

বন্ধু রোজ খোঁচায়, "আরে বেটা বলে ফেল। শুরুটা কর। না বললে বুঝবে কী করে?"  
আমি বলি, "যদি হাসিটা বন্ধ হয়ে যায়? যদি রাগ করে আর কথাই না বলে?"

আজও সুভাষদার দোকানে হিসাব লিখি। কিন্তু হিসাব মেলে না একটাই। অটোর শেষ সিটে বসা মেয়েটাকে কীভাবে বলব যে, প্রতিদিন সকালটা আমি শুধু ওর হাসিটা দেখব বলেই শুরু করি।

হয়তো কাল বলব। অটোতে না, ওর পার্লারের সামনে দাঁড়িয়ে। শুরুটা করব এভাবে, "সাদিয়া, তোমার হাসিটা Uncommon। ওটা রোজ দেখার জন্য পারমিশন লাগবে?"

Comments

    Please login to post comment. Login