মনের কথা
জানো, আজকে অফিস থেকে ফিরে চুপচাপ বসে আছি।
কিছুই করতে ইচ্ছে করছে না।
শুধু তার কথা ভাবছি।
আজ সে পাশ দিয়ে গেল। হাতে একটা ফাইল, খুব তাড়া ছিল মনে হয়। তবু যাওয়ার সময় আমার দিকে তাকিয়ে একটু হাসল।
একটু। খুব সামান্য।
আর আমি সেই সামান্য হাসি নিয়েই পুরো দিন পার করে দিলাম।
বোকার মতো লাগে নিজের কাছেই।
তবু কী করব বলো?
এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই এখন আমার দিনের সবচেয়ে বড় ঘটনা।
প্রতিদিন একটা ইচ্ছে বুকের ভেতর ঘুরে বেড়ায়।
শুধু একবার তার হাতটা ধরব।
কোনো নাটক না, কোনো স্বীকারোক্তি না, কোনো বড় কথা না।
শুধু চুপচাপ হাতটা ধরব একটু।
কিন্তু পারি না।
কাছে যাই, তারপর বুকের ভেতর কেমন এলোমেলো হয়ে যায় সব।
গলা শুকিয়ে আসে।
মনে হয়, এই বুঝি সে শুনে ফেলবে আমার সমস্ত ভেতরের শব্দ।
তাই থেমে যাই।
গতকাল বৃষ্টির সময় আমরা একসাথে ছাদের নিচে দাঁড়িয়েছিলাম।
এত কাছে যে চাইলে হাত ছুঁয়ে ফেলা যেত।
আমি অন্যদিকে তাকিয়ে ছিলাম, কিন্তু পুরোটা সময় টের পাচ্ছিলাম সে পাশে আছে।
তার নিঃশ্বাস।
তার নীরবতা।
তার হাত দুটো ঠিক আমার হাতের কাছেই ঝুলে ছিল।
মাত্র এতটুকু দূরত্ব।
অথচ সেই দূরত্বটাই পার হতে পারলাম না।
বৃষ্টি থেমে গেল।
সে চলে গেল।
আর আমি দাঁড়িয়ে রইলাম আরও কিছুক্ষণ, যেন বৃষ্টি এখনো পড়ছে।
মাঝে মাঝে সত্যি ভাবি, একটা ছোঁয়া কি এত কঠিন?
তারপর নিজেই হেসে ফেলি।
হ্যাঁ।
কিছু মানুষের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজটাই হয়তো কারো হাত ধরা।
রাত অনেক হয়েছে।
কাল সকালে আবার দেখা হবে।
আবার কাছে যাব।
আবার থেমে যাব।
আর মনে মনে বলব, আজ না... কাল।
কাল হয়তো সত্যিই পারব।