Posts

উপন্যাস

এক ছাতার নিচে। পর্ব:২৬

May 12, 2026

busra islam

63
View

#গল্প - এক ছাতার নিচে 

#লেখিকা - বুশরা নাদরাহ 

#পর্ব - ২৬ 

 "শ্রাবণ মাসের শুরু তে  ইদ্রিস শেখ (ইনায়ার দাদা) তোমার নানা নানি আর পারুল রে দাওয়াত দেয়।তোমার নানা নানি আইতে চায় না। কারন পারুলের লেগা তোমার মার অনেক কথা শুনতে হইছে। হেল্লেগা হেরা আইতে চায় না কিন্তু পরে তোমার দাদার জোড়া জুড়ি তে হেরা আহে।  

 হেদিন রাইতে সবাই খাইয়া হুইয়া পরবো। তখন ইদ্রিস শেখ পারুল রে ডাক দিয়া  কয়,,,,,,,  ইমতিয়াজ তোমারে লইয়া জাইতে কইছে।

  " কই জাইতে কইছে।খালু।  

" ইমতিয়াজ তোমারে আজকে রাইতে পলাইয়া  বিয়া করবো। 

 " কিন্তু পলাইয়া কেন বিয়া করবো?  

 " তোমারে বিয়া কইরা হের পর সবাইরে কইবো।

 " কেন?  খালু 

 " বিয়া না করলে তোমার বইনে তোমারে ইমতিয়াজ এর লগে বিয়া বইতে দিবো না।  

  পারুল গ্রামের সহজ সরল মাইয়া ইদ্রিস শেখ যা কইছে পারুল সব ওই বিশ্বাস কইরা লাইছে।  

 আমি সব ঠিক কইরা মাত্র জামু হুইতে। তখন ওই ইদ্রিস শেখ আমারে কয় গাড়ি বাইর করতে।

    হেই অনেক সময় রাইত কইরা বাইরে ঘুরতো। হেল্লেগা আমিও চুপচাপ গাড়ি বাইর করি।  

 ইনায়া এক দৃষ্টি তে রহিম চাচার দিকে তাকিয়ে তার কথা শুনছে।   

 " তারপর কি হলো?  চাচা।

   " হেরপর আমি গাড়ি বাইর করি। তখন দেহি পারুল ও লগে। 

 " আমি সাহস কইরা জিগাইলাম,,,,,,,, পারুল তুই কই যাবি?   

 পারুল কিছু কওনের আগেই ইদ্রিস শেখ কইলো 

" তোর জানতে হইবো না।  

"না করছে দেইখা আমি আর কিছু কওনের সাহস পাইলাম না৷  

 " হঠাৎ কইরা কয় এই গাড়ি থামা।ইদ্রিস শেখের কন্ঠ। 

 সামনেই বাশঁ ঝাড় দেহা জাইতাছে। ইদ্রিস শেখ আর পারুল নামে।

 " তুই এখানেই থাক। আমি আইতাছি। 

 দুইজনই বাশঁ ঝারের দিকে যাইতে থাকে।

 আমিও হেগো পিছে পিছে যাই। কিন্তু হেরা আমারে দেহে না। 

 বাঁশঝাড়ের ভিতর ঢুকতেই চারপাশ আরও অন্ধকার। বাতাস বন্ধ। শুধু বাঁশের পাতা সরসর করে, যেন হাজারটা সাপ ফিসফিস করতাছে।

  পারুল খাড়ায়। 

  “খালু, ইমতিয়াজ কই?  

কথা শেষ হয় না। 

ইদ্রিস শেখ  পিছন থাইকা পারুলের মুখ চাইপ্পা ধরে। আরেক হাতে গামছা। নাক-মুখ বাইন্দা লায় এক টানে। পারুলের চোখ বিস্ফারিত। গোঁ গোঁ শব্দ করতাছে। পা ছুঁড়তে থাকে। 

 “চুপ! একদম চুপ!” ইদ্রিস শেখ  হিসহিস কইরা কয়। 

“তুই আমার পোলারে বিয়া করবি? তোর এতো সখ,,, আজকে আমি তোর সখ পুরা করমু।

  পারুলরে মাটিতে হালায় দেয়।শুকনা বাঁশপাতার উপরে পারুল মোচড়াইয়া উঠে। 

ইদ্রিস শেখ কোমর থেকে রামদা বের করে। জং ধরা, কিন্তু ধার আছে। চাঁদের আলোয় চকচক করে। মনে হয় এইডার ব্যাবহার ভালোই করা হয়।

  “ তুই আজ মরবি। তারপর তোর লাশ বিলের পানিতে ভাসাইয়া  দিমু।

   পারুল মাথা নাড়তে থাকে। চোখ দিয়া পানি পড়তাছে। গামছার ভিতর দিয়া “আম্মা... আম্মা...” শব্দ বের হয়তাছে। আবছা হুনা জাইতাছে।

 রামদা উঁচা করে। “এই নে তোর প্রেমের শোধ...” 

 এক কোপ। পারুলের গলা দিয়া গরম রক্ত ছিটকাইয়া ইদ্রিস শেখের মুখে লাগে। পারুলের শইল দুইবার ঝাঁকি দিয়া নিথর হইয়া যায়। বাঁশঝাড়ের নিস্তব্ধতা আরও গাঢ় হয়। হুদা একটা কানা কুয়োর থেকা ঝিঁঝি পোকার ডাক আহে... একটানা... যেন মৃত্যুর গান।  

ইদ্রিস শেখ রামদা বাঁশপাতা দিয়া মুইচ্ছা কোমরে গুঁজে। লাশটা টাইন্না নিয়া যায় বিলের দিকে। পিছনে কাদায় রক্তের দাগ পইরা থাকে। সকালের শিশির পড়লে ধুইয়া যাইব।  কেউ জানবো না পারুল কই গেল। শুধু বাঁশঝাড় জানবো। আর জানবো ইদ্রিস শেখের  জং ধরা রামদা। রহিম চাচা থামলেন। 

Comments