টেবিলের ঝুড়ি থেকে আঙুল ফল নিয়ে মুখে দিয়ে চিবুতে লাগলেন শামস। উনার সামনে চেয়ারে বসে আছে অর্থমন্ত্রী জয়নুল।
জয়নুল বলল, এবারের বাজেট এর ব্যপারে আপনার কি মতামত? আমাদের তো ঋণ দিন দিন বেড়ে চলেছে। ২৬ বিলিয়ন ডলার ঋণ ছিল কুড়ি বছর আগে। সেটা গিয়ে ঠেকেছে ১২০ বিলিয়ন ডলারে।
শামস ঠোঁটের কাছে আঙুল রেখে বললেন, তো তুমি কি চাও যে বাজেটে আমরা কোন রাস্তা ঘাট, ব্রিজ, ট্রেন এসব উন্নয়ন কাঠামো কাটছাট করব? যাতে বাজেট কম হয়? সাধারন মানুষের ভালো হয়?
জয়নুল এর ঠোঁটের কোনায় মুচকি হাসি রেখে বলল, এটা করলে জনগন আপনাকে কি ৫বছর পর ভোট দিবে? তারা দেখতে চায় উন্নয়ন।
শামস গম্ভীর হয়ে বললেন, তবে উন্নয়ন করতে গিয়ে তো দেশ আরো ঋণ করে ফেলসি। যখন সকল জিনিসে ভ্যাট বাড়িয়ে দেওয়া হবে। তখন তো জনগন ক্ষুব্দ হবে। অতীতে অনেক রাষ্ট্রনেতা ই তো এই মুর্খ জনগনের কারনে চেয়ার থেকে নামতে বাধ্য হয়েছে।
জয়নুল বলল, জনগন মুর্খ নয়। জনগন হচ্ছে আপনার স্বার্থপর। তাদের চাহিদা পূরন না করতে পারলে আপনাকে তো চেয়ার থেকে নামাবে। এটাই স্বাভাবিক।
শামস দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে ভাবতাম যে তারা কত সুখে জীবন কাটায়। এখন দেখি গত সরকাররা যা করেছে। দেশটা একদম ডুবিয়ে গেছে।
এমন সময় সেই কক্ষে উপস্থিত হলো শামসের মামা (ইয়াকুব মিয়া) উনার কপাল ফেটে রক্ত বের হচ্ছে। উনি কপালে হাত দিয়ে আছেন।
শামস অবাক হয়ে বলল, মামা। আপনি তো চন্দ্রমা গ্রামে গিয়েছিলেন। হঠাৎ আপনার এই অবস্থা।
ইয়াকুব রেগে বলল, তুমি আর্মিকে খবর দাও। পুরো গ্রাম উড়িয়ে দাও। কত বড় সাহস প্রধানমন্ত্রীর মামার শরীরে ইটা মারে। হু।
শামস বোঝার চেষ্টা করলেন৷
শামস বললেন, আমি বুঝতে পারছি আপনি রেগে আছেন। রেস্ট নেন। আর আমি এখন প্রধানমন্ত্রী। চাইলেই যাকিছু করতে পারি না। খুব ভেবে চিন্তে করতে হয়।
ইয়াকুব রেগে দাতে দাত চেপে বলল, কিসের বালের প্রধানমন্ত্রী। যার মামা আহত। আর সে কিছুই করতে পারছে না। তোমার জায়গায় আমি হলে এতোক্ষণে রক্তের বন্যা বইয়ে দিতাম। কোন সাউয়ায় তোমারে প্রধানমন্ত্রী বানাইসে। পলিটিক্স বুঝো তুমি? বইয়ের পলিটিক্স আর বাস্তবের টা অনেক তফাৎ। তুমি এখনই সেই গ্রামে পুলিশ পাঠাও।
শামস বলল, পরে পাঠাবো।।আগে বলেন কাহিনী কী? তারা হঠাৎ এরকম আক্রমণ করলো কেন?
ইয়াকুব বললেন, তুমি আমাকে সেখানে চন্দ্রমা গ্রামের চেয়ারম্যান বানিয়েছো। ভালো কথা, আমি দেখলাম যে প্রচুর ঋণী আছে দেশ। তাই ওই গ্রামের সভায় আমি বক্তব্য দিলাম যে আগে ঋণ ক্লিয়ার হোক। তারপর রাস্তাঘাট উন্নয়ন করবো। তারা আমার কথা শুনে রেগে যায়। তারপর হঠাৎ জনগন ক্ষেপে নিয়ন্ত্রণ এর বাইরে চলে যায়। একটা ইটা এসে লাগে আমার কপালে। আর গার্ডরা কোন মতে আমাকে গাড়িতে তুলে দেয়।
শামস জয়নুল এর দিকে তাকিয়ে বলল, তো মশাই। কি বুঝলেন ঘটনা?
জয়নুল রহস্যময় হাসি রেখে বলল, ঘটনা খুব জটিল। গনতন্ত্র বিষয়টা খুব অদ্ভুত। এখানে জনগনের কথায় রাজার চলতে হয়। তবে জনগন যদি অশিক্ষিত ও স্বার্থপর হয়। তাহলে?
শামস হেসে বলল, তাহলে আর কি? আমার মামার মতো ইটের আঘাত খেতে হবে।
তারা দুজনেই মুচকি হেসে উঠে।
<<<<>>>>>>
সন্ধাবেলা গোয়ালঘরে ঘুম থেকে উঠলো রেভেল। চোখ খুলে প্রথম দৃশ্যটা দেখলো সাদা গরু পটি করছে। এটা কোন কথা। রেভেল শার্ট থেকে ঘাষগুলো ঝেড়ে ফেলল। গতরাতে মদ্যপান করে গোয়ার ঘরে শুয়ে ছিল। আর এখন উঠলো। এটাই রেভেল এর জীবন। অনেক ছন্নছাড়া।
এই চন্দ্রমা গ্রামে রেভেলকে সবাই বুদ্ধিমান ছেলে হিসেবেই চিনে। কারন রেভেল প্রচুর বই পড়ে। দেশ বিদেশের নানান দেশের বই পড়ে। তবে কোন কাজ কাম করে না। এই যে বিয়ের বয়স হচ্ছে। বিয়েও করে না। এ নিয়ে সমাজে কেউ কথা শোনাতে আসলে রেভেল তাদের পাউডার ছাড়াই ধুয়ে দেয়।
একবার একলোক রেভেলকে বলল, ভাই।আপনি বিয়ে করেন না কেন?
রেভেল বলেছিল, বিয়ে সাদী এসব সমাজের নিয়ম। আমি এসব সমাজের নিয়ম মানি না। আমি নিজে নিয়ম বানাই। নিজের নিয়মে চলি।
লোকটা বলল, তাহলে মদ খান কেন?
রেভেল ভুরু কুচকে বলল, আপনার বাপের টাকায় খাই?
লোকটা ভয়ে বলল, সরি ভাই। ভুল হয়েছে।
এই গ্রামে চায়ের দোকানদার মফিজ হলো রেভেল এর সবচেয়ে ভালো বন্ধু। সেখানেই বসে আড্ডা দেয় রেভেল। তবে মফিজ লোকটা ধূর্ত। সবার সাথেই 'হা' তে 'হা' মিলায়। ও সবসময় ঠোঁটে হাসি। তবে রেভেল জানে মফিজ সবার সাথেই খাতির রাখে। ও সবাইকে স্পেশাল ফিল করায়। আর পেছনে গিবত গায়। রেভেলের নামে গীবত গায় সে। তবে রেভেল এসবে মাথা ঘামায় না। একবার পেছন থেকে রেভেল শুনেছিল মফিজ কাকে যেন বলসে, আরে রেভেল হইলো পাগল। আমার দোকানে বাকি খায়। না হইলে ওরে দোকানেই আসতে দিতাম না। হ ঠিক কইসেন। ওর মাথায় সমস্যা। হ। হ।
#সরকার
#পর্ব_১
#রুদ্র_সিয়াম