রেভেল মফিজের চায়ের দোকানে বসে ম্যচিয়াভেলির 'প্রিন্স' বইটা পড়ছিল। তবে তার কান খাড়া ছিল চায়ের দোকানে থাকা লুৃঙ্গি পড়া অল্পবয়সী। মাথায় অল্পচুল, তবে পুরো টাক নয়। সেই ছেলেটার দিকে ছিল নজর।
ছেলেটা চা খেতে খেতে গল্প করছে মফিজের সাথে।
ছেলেটা চায়ে চুৃমুক দিয়ে বলল, আমগো চেয়ারম্যান আইসিলো দুপুরে। সালায় কয় রাস্তা বানাইবো না, ব্রিজ বানাইবো না।আমি ই ইটা মারছিলাম জনগনের পেছন থেকে।
আগ্রহী চোখে মফিজ বলে, তারপর কি হইলো? আমার তো দোকানদারী করতে হয়। না হলে এমন একটা ঘটনা মিস কইরা ফেললাম আফসোস।
ছেলেটা বলল, তারপর আর কী? চেয়ারম্যান সালার মাথা ফাটায় দিসি। সালায় ভয়ে গাড়ি দিয়ে পালাইসে।
মুখের ওপর থেকে বই নামিয়ে রেভেল ছেলেটাকে বলে, একদম ঠিক করেছিস। দোস্ত। কেওস ছাড়া কোনকিছুই হয় না।
মফিজ বলল, কেওস আবার কি?
ছেলেটা বলল, আরে ইংরেজি শব্দ এর মানে হইলো বিচ্ছৃঙ্খলা। পুরো প্লানডা ছিল রেভেল এর। আর যখন আমি ইটা মারি। তখনই ওরে পাই নাই।
রেভেল চুপ করে শুনছে।
মফিজ বলল, হ। কাজের সময় ওরে পাওয়া যায় না।
ছেলেটা বলল, ও হইলো গিরগিটি নিজে অন্যরে দিয়ে ঝামেলা বাধাবে। কিন্তু ওর হাত নোংরা করব না।
রেভেল এর ঠোঁটে মুচকি হাসি। এটা এরকম যে কেউ তার মনের কথা বলে দিয়েছে।
মফিজ বলল, তয়। রাজনৈতিক ব্যপারে সাবধান থাকাই ভালো। কহন কোন বিপদ হয় বলা তো যায় না। আর এমনিও সন্ধ্যা হয়ে আসছে। আইজা মনে হয় চাদনী রাইত।
<<<>>>>
এদিকে চেয়ারম্যান ইয়াকুব নিজের ঘরে পায়চারী করতে লাগলো। ঘরের এই মাথা থেকে ও মাথা হাটতে লাগলো। ওনার হাতে বরফ। উনি মাথায় বরফ ধরে আছেন। এতে ব্যথা আগের চেয়ে কমেছে। তবে কপাল ফুলে উঠেছে।
এমন সময় লাইলা (উনার স্ত্রী) এসে বলল, এমন ঘরের মাঝে পাইচারী করতাসেন কেন? বইসা রেস্ট নেন।
ইয়াকুব বলল, এই যে গ্রামের লোক আমাকে ইটা মারলো। আমার ভাগিনা কোন প্রতিবাদ করলো না। এটা আমাকে অস্হির করে তুলছে। শুনেছি মেয়ে মানুষের নাকি অনেক কূটনীতিক ক্ষমতা। আচ্ছা। বলো তো কিভাবে প্রতিশোধ নিব?
লাইলা বিরক্ত হয়ে বলল, প্রতিশোধ নেওয়া লাগবো না। রাইত হইসে ঘুমান। গ্রামের মানুষ তো চাইবোই যে ওদের গ্রাম উন্নত হোক। এতে দোষের কিছু না।
ইয়াকুব বিরক্ত স্বরে বলল, আহা! তোমরা মেয়ে মানুষের একটাই দোষ। খালি চাও চাও করো। একটা ব্রিজ বানাবো, কালকে বলবে রাস্তা বানাও, তারপর কলকারখানা। জনগনের চাহিদার তো শেষ নাই।
লাইলা রেগে বলল, বিয়ের আজকে ৩০বছর হলে আপনি আমার কোন চাহিদাটা পূরন করছেন? বছরে ২টা শাড়ি দেয়। আর বাকি জামাগুলো তো আমার বাপের বাড়ি থেকে আসে। আপনার মতো কিপটার সাথে বিয়ে করে আমার লাইফের সুখ নাই।
ইয়াকুব এর মুখ হঠাৎ গম্ভীর হয়ে গেল। উনি ভেতরে আহত হয়েছেন সেটা বোঝা যাচ্ছে।
ইয়াকুব বলল, ফাউ তর্ক কইরা লাভ নাই। তুমি ঘুমায় পড়ো। অনেক রাইত হইসে। আমার মাথায় অনেক টেনসন। এগুলো কমলে ঘুমালো।
লাইলা আর তর্ক বাড়ালেন না। খাটে শুয়ে পড়লেন। তবে উনার ঘুম আসলো না। আজকের উনার ঘুম হয় না। সারাক্ষণ স্বামীকে নিয়ে টেনসন করেন। তবে সেটা বুঝতে দেন না। নারীরা হয়তো এমনই হয়।
<<>>>>>
এদিকে রাতের বেলা রেভেল একটা বঠি নিয়েছে হাতে। জঙ্গলে ঝোপের কাছে দাড়িয়ে আছে। তার পাশেই মফিজ দাড়ানো। মশার কামড়ে উনি বিরক্ত।
রেভেল বঠিটা মফিজের হাতে দিয়ে লুঙ্গি টাইট করে বাধলো। তারপর তারা দুজন একটা ডাব গাছের নিচে এসে দাড়ায়।
রেভেল বলল, আমি গাছে উঠি মফিজ ভাই। যদি কেউ আসে আমাকে নিচের থেকে সিগন্যাল দিয়েন।
মফিজ বিরক্ত হয়ে বলল, এসব চুরি করা পাপ, অন্যায়। এটাই শেষবার।
রেভেল ঠান্ডা গলায় বলল, আরে মফিজ ভাই। দুনিয়ার সবাই চোর। সরকার জনগনের টাকা চুরি করে। বিজ্ঞানীরা একজন আরেকজন এর আবিষ্কার চুরি করে। নিকোলা টেসলার আবিষ্কার চুরি করেই তো টেসলা গাড়ি বানালো ইলন মাস্ক।
মফিজ বলল, এতো জ্ঞানের কথা বুঝি না। আমি সাধারন মানুষ। সাধারন ভাবে জীবন যাপন করতে চাই।
রেভেল ডাব গাছের ওপড়ে উঠতে লাগলো। চারিদিকে অন্ধকার। আর জঙ্গলের মাঝে ডাবগাছ, দূরে শুধু সবুজ ক্ষেত। রেভেল ডাব গাছের থেকে ছাড়িয়ে নিচে মারলো মফিজের কাছে। একটা, দুইটা, তিনটা ডাব নিচে ফেলার পরই।
হঠাৎ জঙ্গলের ভেতর থেকে একলোক বের হয়ে এলো টর্চলাইট হাতে এসেই বলল, ওই কে রে? এতো রাতে ডাব চুরু করোস?
মফিজ এর মুখে টর্চের আলো পড়তেই মফিজ দৌড়ে পালিয়ে গেল ডাবগুলো সেখানে ফেলে দিয়েই। এদিকে গাছের ওপরে বসে আছে রেভেল।
রেভেল তখন গাছের পাশে থাকা পুকুরে লাফ মারলো।
#সরকার
#পর্ব_২
#রুদ্র_সিয়াম