সকালে গোয়ারঘরে ঘুমিয়ে ছিল রেভেল। তার মামা বখতিয়ার এর গলার শব্দে ঘুম ভাঙলো।
পিট পিট করে চোখ মেলে চাইলো রেভেল। ওই যে দূরে ২টা গরু বাধা। একটা সাদা গরু হঠাৎ 'হাম্বা' বলে উঠলো। মুচকি হাসলো রেভেল। আহ! সকালে উঠে গরুটা তাকে সালাম দিল।
বখতিয়ার বললেন, তুমি নাকি গতরাতে ডাব চুরি করতে গিয়েছিলে? কেন? আমাদের গাছে কি ডাব নেই?
রেভেল খানিকা বিরক্ত হয়ে বলল, ওই সালায় আপনাকে বিচার দিসে তাই না? আজকে ওরে পেলে খবর আছে।
বখতিয়ার বলল, যার বাগান সে তো বিচার দিবেই। তোমাকে নাকি উনি দেখেছে যখন টর্চ লাইট মেরেছিল। তা তুমি কি কখনও ভালো হবে না। এখানে চুরি করে জীবন চলে? একটা কাজ খুঁজে করো।
রেভেল বলল, মামা। বাংলাদেশে ২৬লাখ শিক্ষিত বেকার। আপনি কয়জনকে কাজ দিবেন? আমরা কাজ পাই না। তার কারন আমাদের সিস্টেম। সরকার এর উচিত ৬৪জেলায় বড় ফ্যক্টরী খোলা। তার সেখানে সেখানে লোক নিয়োগ দেওয়া। তারপর আবার কৃষিতে ইনভেস্ট করুক তারা। কৃষকদের ঋণ দেওয়া হোক। তারা বেশি ফসল উৎপাদন করলেই দেশের উন্নতি হবে।
বখতিয়ার বললেন, এদিকে তোমার নিজের উন্নতি নাই। আর তুমি দেশের উন্নতি নিয়ে পড়ে আছো। এখনও সময় আছে কাজ কাম করো। ঘর বাড়ি তুলো। মামার বাড়িতে আর কতদিন এভাবে বসে খাবা?
রেভেল গম্ভীর হয়ে বলল৷ হুম। এমন না যে মামা আমার কাজকাম করতে মন চায় না। আমারও মন চায় দেশের সরকার হতে। দেশ শাসন করতে। যখন রাজনৈতিক বই পড়ি। আহা! মনে হয় এগুলো কি সরকার পড়ে না। পড়লে তাহলে কেন প্রয়োগ করে না।
বখতিয়ার বললেন, তোমাকে ওসব নিয়ে ভাবতে হবে না। যাও ভাত খেয়ে দাও। তারপর আমার গরুর জন্য ঘাষ কেটে দিও।
রেভেল বলল, ওইটা না বললেও করবো।
<<<<>>>>__<<<<
শামস তখন সোফায় বসে ফাইলপত্র দেখছিলেন। এমন সময় সেখানে উপস্থিত হলেন জয়নুল। শামস তার দিকে না তাকিয়েই বলল, তো কি খবর তোমার?
জয়নুল ঠোঁটে হাসি নিয়ে বলল, একটা খারাপ নিউজ আছে। তেল ব্যবসায়ীরা বলেছেন তেলের দাম বাড়াতে।
অবাক হয়ে শামস বলল, কেন? দেশে তো তেল প্রচুর পরিমানে মজুদ আছে। তারপরও কেন তারা তেলের দাম বাড়াতে চায়?
জয়নুল বলল, সেটা জানি না। তারা বলেছে, যদি দাম না বাড়ানো হয়। তাহলে তারা তেল দেওয়া আটকে দিবে। বলবে যে স্টকে তেল নেই। সারাদেশে তখন তেলের সংকট দেখা দিবে।
শামস রাগে কষ্টে হাসতে লাগলেন।
শামস বললেন, দেখো এই যদি আমি দাম বাড়াই জনগন আৃার ওপর ক্ষুব্দ হবে। আগের সরকার এটা করতো ব্যবসায়ীদের কথা মতো চলতো। তার পরিমান সবাই দেখেছে। আমি তার মতো ভুল করতে চাই না।
জয়নুল বলল, আমার কাছে একটা বুদ্ধি আছে। আপনি একেবারে লিটার প্রতি ৫০ টাকা বাড়ালে জনগন অবশ্যই ক্ষেপে যাবে। তাই আমাদের প্রথমে ১০০টাকা বাড়াতে হবে। তারপর সেখান থেকে ৫০টাকা হঠাৎ কমিয়ে দিবেন। জনগন তখন ভাববে দাম কমেছে। আর তারা সন্তুষ্ট ও থাকবে।
কিছুক্ষণ ভাবার পর শামস বললেন, আমি জনগনকে ধোকা দিতে পারব না। তুমি ব্যবসায়ীদের বলে দাও যে ওর প্রস্তাব রিজেক্ট করা হলো।
জয়নুল এর মুখ হঠাৎ ফ্যকাসে হয়ে গেল। জয়নুল ভাবেনি যে শামস ফিরিয়ে দিবে।
জয়নুল বলল, দেশে তেলের সংকট দেখা দিলে তখন বুঝবেন। আপনি চাইলে ব্যবসায়ীদের জেলখানাতেও ভরতে পারেন। এমনকি তাদের লাইসেন্স ও বাতিল করতে পারেন।
শামসু বলল, আপাতত কোনটাই করছি না।
জয়নুল শুধু বলল, শত্রুদের ওপর এই দয়ামায়া একদিন আপনাকে খতম করবে।
শামশু বললেন, আমাদের নবি (স.) ও শত্রুদের ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। আমার উচিত তাকে অনুসরন করা।
জয়নুল বলল, যখন জনগন আপনার ওপর ক্ষেপে যাবে। রাস্তায় আন্দোলন করবে। তখন কোন নবী আপনাকে বাচাতে?
শামশু দাঁতে দাত চেপে বলল, নাস্তিকদের মতো কথা বলবে না। আমি কাজ করছি। তুমি বাইরে যাও। আমাকে আর ডিস্টার্ব করো না।
খানিকটা ভয় পেল জয়নুল। তবুও চাকরী বাচাতে সেই কক্ষ থেকে বিদায় নিল।
#সরকার
#পর্ব_৩
#রুদ্র_সিয়াম