হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নের আলো গ্রামের একদম শেষ প্রান্তে ছোট্ট একটি টিনের ঘর। বর্ষার সময় ছাদের ফাঁক দিয়ে পানি পড়ত, আর শীতের রাতে ঠান্ডা বাতাস ঢুকে ঘরটাকে আরও নিঃসঙ্গ করে তুলত। সেই ঘরেই থাকত রাহাত, তার মা, আর ছোট বোন মায়া। রাহাতের বাবা ছিলেন একজন দিনমজুর। সকাল হলে মাথায় কোদাল নিয়ে বের হতেন, আর সন্ধ্যায় ক্লান্ত শরীরে ফিরে আসতেন। সংসারে অভাব ছিল, কিন্তু ভালোবাসার কোনো অভাব ছিল না। মা নিজের না খেয়ে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতেন। বাবা বলতেন, “গরিব মানুষ আমরা হতে পারি, কিন্তু মনটা যেন কখনো গরিব না হয়।” কিন্তু সুখ যেন তাদের ঘরে বেশিদিন থাকতে চাইল না। এক বর্ষার রাতে কাজ থেকে ফেরার পথে রাহাতের বাবা দুর্ঘটনায় মারা গেলেন। সেই রাতের বজ্রপাত, বৃষ্টির শব্দ, আর মায়ের কান্না—সবকিছু যেন রাহাতের জীবনে এক কালো অধ্যায় হয়ে রয়ে গেল। পরদিন সকাল থেকেই বদলে গেল তাদের জীবন। স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেল রাহাতের। ছোট্ট বয়সেই তাকে কাজ খুঁজতে বের হতে হলো। কখনো চায়ের দোকানে, কখনো ইটভাটায়, কখনো বাজারে বোঝা টানার কাজ করত সে। দিনের শেষে হাতে যা টাকা আসত, তা দিয়ে কোনোমতে চাল-ডাল কিনে বাড়ি ফিরত। মা মাঝে মাঝে লুকিয়ে কাঁদতেন। রাহাত দেখত, কিন্তু কিছু বলত না। শুধু মনে মনে ভাবত— “একদিন সব ঠিক হবে।” কিন্তু জীবন সবসময় সহজ হয় না। একদিন মায়া খুব অসুস্থ হয়ে পড়ল। ডাক্তার বলল, দ্রুত চিকিৎসা দরকার। কিন্তু চিকিৎসার টাকা কোথায়? রাহাত গ্রামের অনেক মানুষের কাছে সাহায্য চাইলো। কেউ সাহায্য করল, কেউ দরজা বন্ধ করে দিল। সেই রাতে রাহাত আকাশের দিকে তাকিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল— “হে আল্লাহ, গরিবদের এত পরীক্ষা কেন?”