সিড়ি দিয়ে নেমে এলেন জয়নুল। মুখ গম্ভীর করে আছেন।
তেল ব্যবসায়ী টুটুল অপেক্ষা করছিলেন তার জন্য। টুটুল জয়নুলকে সিড়ি দিয়ে নামতে দেখে কথা বলার জন্য এগিয়ে গেলেন।
টুটুল সোফা থেকে উঠে হেটে জয়নুল এর কাছে এসে বলল, সরকার কি রাজি হয়েছেন তেলের দাম বাড়াতে?
গম্ভীর মুখে জবাব দিলেন জয়নুল বললেন, মনে হয় না উনি তেলের দাম বাড়াবেন।
রেগে টুটুল বলল, দেশের ৮০% তেল আমাদের কাছে মজুদ রয়েছে। আমরা বিদেশ থেকে জাহাজে করে তেল এনে সাপ্লাই দেই দেশে। এজন্য আমরা সরকারকে ভ্যট দেই। এখন কেন উনি দাম বাড়াবেন না? আমরা যদি টিকে না থাকি। তাহলে মনে রাখবেন উনার ও টিকে থাকা কঠিন হবে।
কপালে ভাজ দেখা গেল জয়নুলের। উনি বললেন, সেটা সময়ই বলবে। কে টিকে থাকে আর কে ধ্বংস হয়।
টুটুল রেগে দাঁতে দাত চেপে বলল, আমি চলে যাচ্ছি। তবে মনে হচ্ছে অপমান নিয়ে চলে যাচ্ছি। এটার জবাব অবশ্যই পাবেন তিনি।
জয়নুল এবার ঠোঁটের কোনায় হাসি রেখে বলল, আপনাদের যা ইচ্ছা করুন। তবে এই বিষয়ে সাহায্য করতে পারলাম না। দুঃখিত। তবে মনে রাখবেন ইগো মানুষকে ধ্বংস করে।
টুটুল খানিকটা ভয় পেয়ে গেলেন। টুটুল বলল, এটা ইগো না। সেল্ফ রিসপেক্ট। মনে রাখবেন একজন আহত মানুষের চেয়ে ভয়ংকর কেউ না।
জয়নুল বলল, হ্যা। অবশ্যই মনে রাখবো। যে আপনি শুধু শুধু টাকার গরমে অন্ধ আর আমার ওপর রাগ দেখাচ্ছেন।
কিছুটা শান্ত হলেন টুটুল। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, আল্লাহ হাফেজ।
<<<_>_>>>
দীর্ঘ ৬মাস সেনাবাহিনীতে ট্রেনিং করার পর ছুটিতে বাসায় ফিরেছে পিয়াস। তার মা ছেলেকে দেখে খুশিতে জড়িয়ে ধরলো। কপালে চুম্বন করলো। খানিকটা অশ্রু উনার চোখ বেয়ে পানিতে পড়লো।
পিয়াসও তার মাকে জড়িয়ে ধরলো।
পিয়াস বলল, মাত্র ৭দিনের ছুটি দিয়েছে। বাবা কোথায়? আর নেহা কোথায়?
তার মা বললেন, তোর বাবা বাজারে গেছেন। আর ঘরে যা নেহা ঘরেই আছে।
পিয়াস ঘরে এসে দেখলো রেভেল পান্তাভাত ও কাচামরিচ দিয়ে ভাত খাচ্ছে আয়েশ করে মাটিতে বসে।
রেভেল পিয়াসকে দেখেই উল্লাসিত হয়ে বলল, অবশেষে তুই ফিরে এলি।
পিয়াস বলল, কেমন আছো ভাইয়া? আর তোমাকে এসব দিয়ে ভাত দিয়েছে কেন? ঘরে কি মাছ, মাংস নাই?
রেভেল অর্ধেক খাওয়া শেষ না করেই প্লেটে হাত ধুয়ে লুঙ্গিতে হাত মুছে উঠে দাড়ায়।
রেভেল বলল, যার মা-বাবা নাই। মামার বাড়িতে থাকে। তাকে আর কতটুকু আদর করবে? এটাও একটা পলিটিক্স। তুই সেসব বুঝবি না।
তারপর রেভেল পিয়াসকে জড়িয়ে ধরে।
পিয়াস বলল, আমি কি তোমার ভাই না? ঠিক আছে মামতো ভাই। তবে তুমি তো ছোটবেলা থেকে আমাদের সাথেই বড় হইসো। তোমাকে নিজের ভাইয়ের মতোই দেখি।
রেভেল তার চোখে চোখ রেখে বলল, আফসোস। যদি সবাই তোর মতো দেখতো তাহলে আজ পেয়াজ ও মরিচ দিয়ে ভাত খেতে হতো না।
পিয়াস দেখলো নেহা খাটে বসে ফোন দেখছে। কানে হেডফোন তাই হয়তো খেয়ালও করেনি যে ঘরে কে?
পিয়াস এগিয়ে গেল নেহার কাছে। তারপর কানের থেকে টান মেরে হেডফোন খুলে ফেলল।
নেহা রেগে চোখ লাল করে তাকালো পিয়াসের দিকে।
নেহা বলল, কুত্তা আমি কোরিয়ান ড্রামা দেখতাসি। সুন্দর একটা দৃশ্য হইতাসে। আর তুই কানের থেকে হেডফোন খুলে ফেললি। খোদায় তোর উপড়ে ঠাডা ফেলুক।
হেসে পেছন ফিরে তাকায় পিয়াস রেভেলের দিকে। পিয়াস বলে, ও দিকে এখনও আগের মতোই বাচ্চামি করে। ওর ভাই ৬মাস পর ফিরলো। এদিকে ওর কোনই আগ্রহ নাই।
পিয়াস এবার নেহার দিকে তাকিয়ে বলল, তোর জন্য ঝিনুকের নুপুর এনেছি।
আগ্রহী হয়ে নেহা বলল, সত্যি ভাইয়া। কই দেখি দেখি।
পিয়াস বলল, এহ্যে। আগে সরি বল। তারপর নুপুর পাবি।
নেহা ২কানে হাত দিয়ে বলল, আচ্ছা। সরি ভাইয়া।
#সরকার
#পর্ব_৪
#রুদ্র_সিয়াম