টিভিতে নিউজ চলছে,
' বাংলাদেশে যথেষ্ট তেল মজুদ রয়েছে বলে সরকার জানিয়েছে। এবার তেলের আশংকা হবে না। আর তেলের দাম বাড়ানো হয়নি। তবুও আমরা দেখতে পাচ্ছি জনগন লাইন ধরে আছে তেলের দোকানে তবে তেল পাচ্ছে না। বিস্তারিত সংবাদ বিরতির পরে। আমাদের সাথেই থাকুন। '
রেভেল টিভি থেকে চোখ ফিরিয়ে তাকালো পায়েস এর দিকে।
পায়েস বলল, তোমার চা তো ঠান্ডা হয়ে গেল। মফিজ ভাই আরেক কাপ চা দেন তো।
মফিজ চা বানাতে লাগলো।
রেভেল বলল, দেখলি সরকার বলছে দেশে যথেষ্ট তেল আছে। তবে জনগন তেল পাচ্ছে না।
হেসে পিয়াস বলল, এটাই তো সেন্ডিকেট। বাদ দাও এসব আমার আর্মি ট্রেইনিং কাহিনী বলি শোনো। যখন মেডিকেল টেস্ট করালো তখন কাপড় খুলে আমাদের টেস্ট করলো আমি তো খুব লজ্জাই পেয়েছিলাম।
কথা থামিয়ে রেভেল বলল, তোদের আর্মিদের মাঝে কোন বিচ্ছৃঙ্খলা হয় না?
পিয়াস বলল, ঝামেলা তো অবশ্যই হয়। আমরা নিজেরা নিজেরা মারামারি করি। তখন বড় স্যার এসে থামায়। পুরাই কেওস। পুরো ঘটনা না বললে বুঝবা না।
রেভেল বলল, তোর তো ট্রেনিং শেষ। এবার কোথায় জয়েন করবি?
পিয়াস বলল, আমি বর্ডারে চলে যাবে। বাংলাদেশ বিজিবিতে জয়েন করব।
রেভেল গম্ভীর হয়ে বলল, বর্ডারে তো অনেক অনৈতিক কাজ হয় শুনেছি। ইয়াবা পাচার হয়। এমনকি ইন্ডিয়া থেকে গরুও পাচার হয়। তুই কি এগুলোর পক্ষে না বিপক্ষে?
পিয়াস বলল, আমি অনৈতিক কাজের বিপক্ষে। এসব হলে বড় স্যারকে জানাবো।
ঠোঁটে মুচকি হাসি রেখে রেভেল বলল, কি হবে যদি বড় স্যারও এসব পাচারের সাথে জড়িত থাকে।
পিয়াস বলল, এতোকিছু নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না। আমার কাজ বর্ডারে পাহারা দেওয়া। আমি দিব। এতোটুকুই আর সবসময় জ্ঞানের কথা ভালোলাগে না।
রেভেল বলল, ঠিক আছে। এখন থেকে জ্ঞানের কথা না। শুধু হাসি ঠাট্টা হবে। তুই তো তাও ৬মাস ট্রেনিংয়ে টিকে গেলি।।আমি যে কুড়ে সকাল ৫টায় ঘুম থেকে ডাক দিলেই বলতাম৷ আমি আর এসবে নাই। বাসায় চলে যাই।
হেসে ফেলল পিয়াস বলল, হ ভাই। আমিও ভাবছি যে আমার জায়গায় তুমি হলে কি করতা। প্রথম কয়েকদিন অনেক খারাপ লাগছে। পরিবার এর কথা মনে পড়তো। আশেপাশে পাহাড় জঙ্গল ছিল। তুমি থাকলে হয়তো মানুষের সাথে মিশতে জঙ্গলে ঘুরে বেড়াতে। তবে আমি একা ছিলাম। চুপচাপ বসে থাকতাম। কারো সাথে মিশতাম ও না।
রেভেল বলল, একটা সৈনিকের সেটাই প্রয়োজন। কঠোর মনের হওয়া। নয়তো দেখবি বর্ডারে শত্রুপক্ষ বন্দুক হাতে দাড়ানো। তুই ভয় পেলি বা মায়া দেখালি। তখন শত্রুই তোকে গুলি করে দিবে।
গম্ভীর হয়ে শুনলো পিয়াস। কোন উত্তর দিল না।
<<<<>>>>
ডাইনিং টেবিলে বসে দুপুরের ভাত খাচ্ছিলেন শামস। এমন সময় সেখানে উপস্থিত হলেন জয়নুল।
জয়নুল বলল, প্রেসিডেন্ট কি দিয়ে ভাত খাচ্ছেন ডাল, বেগুন ভাজা আর আলুভর্তা।
পানি খেয়ে শামস বললেন, যে দেশের মানুষ না খেয়ে থাকে। সেখানে নিচ্ছই আমাকে গরুর মাংস বা খাসি দিয়ে খেতে পারি না।
জয়নুল বলল, অবশ্যই তা পারেন না।
শামস বলল, তুমি খেয়েছো দুপুরে? না হলে আমার পাশে বসো খেয়ে নাও।
জয়নুল ইতস্তত করে বলল, না। আমি খেয়েছি। একটা খবর দিতে আসলাম। তেলের দাম বাড়াননি।।তাই দেশে তেল ব্যবসায়ীরা তেল স্টক করে রেখেছে। বিক্রি করছে না। দেশে তেলের সংকট দেখাচ্ছে।
কিছুক্ষন চুপ থেকে কি যেন ভাবলেন শামস।
তারপর শামস বললেন, টুটুলকে বলো আমার সাথে ব্যক্তিগত ভাবে দেখা করতে। এই বিষয়ে আমি তার সাথে কথা বলবো।
জয়নুল বলল, অবশ্যই।
#সরকার
#পর্ব_৫
#রুদ্র_সিয়াম