"রহিম চাচার কাঁপা গলার কথাগুলো ইনায়ার মাথায় হাতুড়ির মতো বাজছিল।
"পারুল খালামনির খুনি শুধু ইদ্রিস শেখ না....
ইনায়া দৌড়ে নিজের রুমে এসে দরজা বন্ধ করে দিল। বুকের ভেতরটা ধকধক করছে।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখলো। চোখ দুটো লাল, ঠোঁট কাঁপছে।
"আমি কি করবো এখন? মনে মনে নিজেকেই প্রশ্ন করলো।
যাকে দেখলেই ইনায়ার বুকের ভেতর শীতল বাতাস বয়ে যায়।
যার চোখে তাকালে মনে হয়, দুনিয়ার সব ঝড় থেমে যাবে।
যাকে ইনায়া না বুঝেই, না বুঝেই ভালোবেসে ফেলেছে।
রায়হানের কথাটা মনে পড়তেই ইনায়ার বুকটা দুমড়ে-মুচড়ে গেল।
তাহলে কি ইনায়া কখনো রায়হানকে পাবে না?
ভালোবাসা কি রক্তের কাছে হেরে যাবে?
" রায়হান, তুমি কি আমায় ছেড়ে যাবে ?
এই প্রশ্নটা লিখতেই হাত কাঁপলো।
বাইরে রাত গভীর হচ্ছে। দেয়ালের ঘড়িতে কাঁটা টিকটিক করে এগোচ্ছে। ১১টা...১২টা....... ১টা...
চোখের পাতা ভারী হয়ে আসছে। মাথার ভেতর হাজারটা প্রশ্ন, হাজারটা "যদি"।
ঘুমের মধ্যে ফোনটা বেজে উঠলো। ভাইব্রেশনে বিছানা কাঁপছে।
ইনায়া চোখ না খুলেই ফোনটা হাতে নিল। স্ক্রিনে ভেসে উঠলো —
কিন্তু চতুর্থবার যখন বাজলো, তখন ইনায়ার বুকের ভেতরটা অদ্ভুতভাবে ধক করে উঠলো।
ইনায়া ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে ভেসে এলো রায়হানের গলা। গলাটা ভারী, কাঁপছে।
"ইনায়া... প্লিজ, নিচে আসো। এখনই। আমি তোমার বাসার নিচে দাঁড়িয়ে আছি।