রেভেল ও পিয়াস হাটতে হাটতে দুজনে নদীর পাড়ে আসলো। আকাশে সূর্য লাল। সন্ধা হতে চলেছে।
দু হাত মেলে দাড়িয়ে শরীরে বাতাস লাগায় রেভেল।
পিয়াস বলল, ভাইয়া তোমার গার্লফ্রেন্ড মিলির কি অবস্থা?
রেভেল গম্ভীর হয়ে বলে, ব্রেকআপ করে ফেলসি। খালি বিয়ের প্যরা দেয়। এদিকে আমি বিয়ে সংসার এগুলো ভাবলেই দম বন্ধ হয়ে আসে। মনে হয় একটা খাঁচায় আটকে যাবো।
পিয়াস মুচকি হেসে বলে, আমরা সবাই ই তো কোন না কোন খাচায় বন্দী।
রেভেল বলল, তা অবশ্য ঠিক। কেউ প্রেমের খাচায় বন্দী, কেউ সমাজের খাঁচায়, কেউ বা নিজের মনের খাঁচায়। তবে আমও এসবের উর্ধে। আমি সম্ভবত খাঁচা থেকে বের হতে পেরেছি।
পিয়াস বলল, তোমাকে দেখলে আমার হিংসে হয়। কেন আমি এই খাঁচা থেকে বের হতে পারি না?
হেসে রেভেল বলল, চেষ্টা করলেই পারবি। প্রেম, ভালোবাসা, সুখ সব হচ্ছে মস্তিষ্কের ডোপামিন। এগুলো ভালোলাগা অনুভূতি দেয়। তবে আমরা কেন এই ডোপামিন এর দাষ হবো?
পিয়াস বলল, অবশ্যই। কেন হবো?
রেভেল বলল, তুই দেখি মফিজের মতো আমার হ তে হ মিলাস। আমি চাই এমন কেউ যে আমাকেও চ্যলেন্জ করবে।
পিয়াস খানিকটা বিরক্ত স্বরে বলল, হয়তো সে আসবে একদিন। যে তোমাকেও চ্যলেন্জ করবে।
>>>>><<<<<<<
এদিকে সংসদ ভবনে বসে আছেন শামস। সবার বক্ততা শুনছেন।
মাননীয় স্পিকার বললেন, এম এ জোবান (বিরোধীদল নেতা) আপনাকে ৫ মিনিট সময় দেওয়া হলো নিজের বক্তব্যের জন্য।
জোবান চেয়ার থেকে দাড়িয়েই বলতে লাগলো, মাননীয় স্পিকার ৫মিনিটে আমার মুতাও হয় না। এতো কম সময়ে কি করে হয়?
এদিকে সংসদের চাপা হাসির শব্দ শোনা গেল।
জোবান বলতে লাগলেন, অন্যরা যেখানে ৮/১০ মিনিট পায়। সেখানে আমাদের সাথে কেন এই সিন্ডিকেট? আমি সংসদ দিয়ে ঢুকছিলাম। তখন আমাকে এক ছেলে পচা ডিম মারে। আমার জামা নষ্ট হয়। মাননীয় স্পিকার এর দ্বায়ভার কে নিবে? আমি নতুন জামা চাই। আর ওই ছেলের শাস্তি চাই।
শামস মনে মনে বললেন, তোমরা নিজেদের ঝামেলা নিয়েই ব্যস্ত আবার সংসদে বিচার দাও। সেখানে ক্ষমতায় আসলে জনগনের যে কি ভালো করবা সেটা ভালো করেই আমার জানা।
জোবান বলল, মাননীয় স্পিকার আমার কোর্টে যে ডিমের দাগ এই দাগ মুছে ফেলা যাবে না। আমি সিওর এটা কারো চক্রান্ত। আমরা বিরোধী দল তাই কেউ আমাদের পছন্দ করে না। এসবের বিচার চাই। আপনি হাসবেন না স্পিকার ভাই।
মাননীয় স্পিকার বললেন, জি ভাই অবশ্যই হাসবো না। আপনার সময় শেষ। এখন কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী শামস।
শামস উঠে দাড়ালেন হাতে উনার কাগজ।
উনি কাগজ দেখে বললেন, আমি কথা বলতে চাই আমাদের দেশের ১২লাখ রহিঙ্গাদের নিয়ে। এদেরকে আমরা তাদের দেশে পাঠাতে পারছি না। এদিকে বিদেশ থেকে যা অর্থ সাহায্য আসে। তা দিয়ে তাদের ভরণপোষণ হচ্ছে না। উল্টো আমাদের টাকায় ৫০০মিলিয়ন ডলার প্রতি বছর এই রহিঙ্গাদের ওপর খরচ করতে হচ্ছে। যাকিনা আমাদের দেশের অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতি করছে। এই বিষয়ে আমি সবার মতামত চাই।
হঠাৎ দাড়িয়ে গেল জোবান রেগে বলল, রহিঙ্গারা আমাদের মুসলিম ভাই। ওদের ব্যপারে আপনি গীবত দিতে পারেন না। আপনি হিন্দু, আপনি কাফের।
মাননীয় স্পিকার মহল শান্ত করতে বললেন, জোবান আপনি বসে পড়েন। আপনাকে সময় দেওয়া হবে। আপনি বসে পড়েন।
জোবান আরো রেগে গেল বলতে লাগলো, না আমি বসবো না। আজ এই হিন্দুকে আমি দেশ ছাড়া করব। কত বড় সাহস রহিঙ্গাদের নামে বদনাম করে। কাফের মুশরিক কোথাকার।
শান্ত চোখে তাকিয়ে রইলেন শামস তার দিকে। কোন কথাই বলছেন না। কারন টিভিতে এসব লাইভ প্রচার হচ্ছে। দেশের সব জনগন এসব দেখছে।
#সরকার
#পর্ব_৭
#রুদ্র_সিয়াম