জয়নুল বলল, আপনার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর আপনি আর বিয়ে করলেন না কেন?
নিজ কক্ষে বসে ভ্যাটের হিসাব নিকাশ করছিলেন শামস। এমন সময় জয়নুল সেখানে উপস্থিতি হয়েই এই কথা বলায় খানিকটা বিরক্ত হলেন শামস।
কাগজের ওপর থেকে মুখ না সড়িয়ে উত্তর দিলেন শামস বললেন, আমার বিয়ে নিয়ে মনে হয় তুমি খুব চিন্তিত?
জয়নুল মুচকি হেসে বলল, তেমন কিছু নয়, গুরুত্বপূর্ণ কথা বলার আগে হাল্কা কথা বলে নিতে হয়।
শামস দাঁতে দাত চেপে বললেন, এরপর আমার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কোন আলাপ করবে না।
জয়নুল বলল, শুধু একটা প্রশ্ন? আজ সংসদে যে আপনাকে অপমান করলো জোবান। তার বিরুদ্ধে আপনি কি গেম খেলবেন?
শামস খানিকটা রেগেই বললেন, তোমার কি মনে হয় আমি এসব ছোটখাটো কথা ধরে বসে থাকি৷ বিরোধী দল এর মুখ আছে তারা সমালোচনা করবে। এটাই স্বাভাবিক। আমার ভালো লাগতে হবে এমন কোন কথা নেই।
জয়নুল বলল, আপনার জায়গায় আগের সরকার হলে তাদেরকে আয়নাঘরে নিয়ে শাস্তি দিত।
শামস বলল, দেখো শাস্তি দেওয়ার আমি কে? আমার কাজ রাষ্ট্র পরিচালনা করা। আমি সেটা করছি। এসব ছোটখাটো বিষয় শাস্তি নিয়ে পড়ে থাকি না।
জয়নুল বলল, টিভিতে দেখলাম আপনার বক্তব্য মুগ্ধ হয়ে ছিলাম৷ রহিঙ্গাদের ব্যপারটা তুললেন। তা নিচ্ছই এই বিষয়ে কোন প্লান করে রেখেছেন।
শামস এর ঠোঁটে মুচকি হাসি দেখা গেল।
শামস বলল, তুমি ঠিকই ধরেছো। রহিঙ্গাদের আমি দেশ থেকে তাড়িয়ে দিব। তারা তাদের দেশে ফেরত যাবে।
আগ্রহ হয়ে জয়নুল বললেন, এটা কিভাবে করবেন?
শামস বললেন, গোপনে আমার 'আইটি' বাহিনী কাজ করবে। তারা চোরাই বন্দুক কিনে রহিঙ্গাদের দিবে। তারপর তাদের আরাকানে যুদ্ধ করতে পাঠানো হবে।
জয়নুল বলল, কি হবে? যদি বন্দুক পেয়ে তারা আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা শুরু করে?
রেগে শামস ধমমকের স্বরে বললেন, মুর্খের মতো কথা বলো না। ১৯৭১ সালে ইন্ডিয়ানরা বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনী কে রাইফেল দিয়ে হেল্প করেছিল। মুক্তিবাহিনী তখন পাকিস্তানিদের সাথে করেছে। তারা কখনই উল্টো ইন্ডিয়া আক্রমন করেনি।
জয়নুল বলল, তা অবশ্য ঠিক। তবে রহিঙ্গারা তো ১২ লাখ। তাদের মধ্যে যদি ১লাখ বন্দুক পায়। তাহলে তো আমাদের বর্ডারে উত্তেজনা শুরু হবে। তখন কি করবেন?
শামস বলল, যদি রহিঙ্গারা বন্দুক পেয়ে যুদ্ধ না করে ভয়ে এদেশে ফিরে আসে। তখন সীমান্ত বাচাতে বর্ডার গার্ডরা তাদের গুলি করে দিবে। হয়তো তারা মরবে নয়তো ওদের দেশ দখল করবে।
জয়নুল বলল, তা তো বুঝলাম। তবে ওদের কাছে যে অস্ত্র থাকবে সেটা যদি আরাকান আর্মি পায়? তখন তো তারা জেনে যাবে? বা আপনার এই প্লান যদি ইন্ডিয়ান 'র' জানে তখন?
শামস বলল, আমি আগেই বলেছি রহিঙ্গাদের চোরাই অস্ত্র দেওয়া হবে যেগুলো ইন্ডিয়া থেকে আসবে। যেখানে ইন্ডিয়ার নাম থাকবে অস্ত্রে। যদি ধরাও পড়ে। তো সব দোষ আমরা ইন্ডিয়ার দিব। মিডিয়ায় ঘোষনা করব ইন্ডিয়া রহিঙ্গাদের অস্ত্র দিয়ে আমাদের দেশে বিচ্ছৃঙ্খলা করবে।
জয়নুল এর ঠোঁটে হাসি রেখে বলল, বিচ্ছৃঙ্খলা আমার পছন্দের শব্দ। তবে আপনি তো সৎ নেতা। হঠাৎ এরকম পথ?
শামস খানিকক্ষণ চুপ থেকে জয়নুল এর চোখে চোখ রেখে বললেন, একজন শাসককে হতে হবে সিংহের মতো সাহসী আর শেয়ালের মতো ধূর্ত।
জয়নুল বলল, আর আপনি দুটাতেই বাজিমাত। আপনার সাথে থেকে অনেককিছু শিখলাম।
শামস বললেন, যদি এই রহিঙ্গা পরিকল্পনা বাইরে লিক হয়। তাহলে সবার আগে তোমাকেই সন্দেহ করবো। মনে রেখো? কারন আমি জানি আমার লোকেরাই ইন্ডিয়ার সাথে জড়িত।
চুপ করে চোখের পলক ফেলে জয়নুল বলল, আপনার মনে সন্দেহ এর বীজ। আমি যদি নিজেকে নির্দোষ প্রমান করতে যাই এখন। সেটা হবে আমার ভুল। তাই সন্দেহ থাকা ভালো।
শামস মুচকি হাসলেন। তার হাসিতে সমর্থন দিয়ে জয়নুলও হাসলো।
#সরকার
#পর্ব_৮
#রুদ্র_সিয়াম