"তুমি ৩/৪ দিন ধরে কলেজে যাও না। আমি ফোন দেই, ধরো না। ব্যাকও করো না। মেসেজ দিলে রিপ্লাই নাই।
ইনায়ার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো। রায়হানের চোখের দিকে তাকাতে পারছে না।
রাস্তার হালকা হলুদ আলোয় রাইহানের মুখটা শুকনো লাগছে। মনে হচ্ছে ঘুমায়নি রাতে।
"চুপ করে থাকবা না ইনায়া। কিছু তো বলো,
রায়হানের কণ্ঠটা এবার একটু কেঁপে উঠলো ।
ইনায়া দরজার আড়াল থেকে একটু বের হয়ে এলো। ঠান্ডা বাতাসে ওর শরীর কাঁপছে।
"আপনি চলে যান । প্লিজ। কেউ দেখে ফেললে সর্বনাশ হয়ে যাবে।
হুহ... হুহ..." করে ফুঁপিয়ে কেঁদে ফেললো।
"ইনায়া! এই ইনায়া! কী হয়েছে? কাঁদছো কেন তুমি?
ইনায়া দুই হাতে মুখ ঢেকে মাথা নাড়লো।
"কিছু না... কিছু না। আপনি চলে যান প্লিজ।
"আমি যাবো না," রায়হান আস্তে করে বললো।
রায়হান হাত বাড়িয়ে ইনায়ার কাঁধ ছুঁলো।
"শান্ত হও। আমি আছি তো। কী হয়েছে বলো আমাকে।
কিন্তু মনে শুধু একটাই নাম ঘুরছিলো— _পারুল খালা_।
ইনায়া মনে মনে ভাবলো, _এখন আমি কী করবো? কার কাছে বলবো ?
কাঁদতে কাঁদতে ওর দম বন্ধ হয়ে আসছিলো।
রায়হান ওর কান্না দেখে আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলো না। ধীরে ধীরে বললো,
ইনায়া একটু শান্ত হলো। চোখের পানি মুছে ফিসফিস করে বললো,
"আপনাকে কেন আর ভালো লাগবে না? আমি তো আপনাকে... আপনাকে ভীষণ ভালোবাসি।
রায়হানের বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠলো।
তুমি কাঁদলে আমার বুকের ভেতরটা ভেঙে যায়।প্লিজ তুমি আর কেঁদো না।
" হুম। "যান এবার," ইনায়া ফিসফিস করে বললো। নাহলে সত্যি ধরা পড়ে যাবো।
রায়হান একবার গভীর ভাবে ওর দিকে তাকালো।
"কাল কলেজে যেও।আমি অপেক্ষাই থাকব।
ইনায়া দরজা বন্ধ করে, চুপিচুপি নিজের রুমে গিয়ে মেঝেতে বসে পড়লো।