Posts

উপন্যাস

মেরি শেহেজাদি

May 17, 2026

Jannatul

20
View

সূর্যের সোনালি আভা চারিদিকে ছড়িয়েছে। বর্ষার থই থই পানি উপর যেন সোনালি কিরণ ছড়িয়ে পরছে সারা বিল ছেয়ে আছে ফোটা পদ্ম ফুলে। পাখির কিচিরমিচির ডাক শান্ত শীতল বয়ে যাওয়া বাতাস গ্রামের এই রাঙা প্রভাত দিয়ে মানুষের দিন শুরু।

এর মধ্য এক কিশোরী দৌড়ে চলছে হাতে পদ্ম ফুল কোমরে শাড়ির আচল বাঁধা। পায়ে কাদা লেগে আছে। দৌড়ানোর জন্যে তার লাল ফিতে বাধা বেনুনি বাতাসে বারি খাচ্ছে। সে বেখেয়ালি দৌড়াচ্ছে তার চিন্তা মা যদি জানতে পারে আজ আস্ত রাখবে না। দৌড়াতে গিয়ে কারো সাথে জোরে ধাক্কা খেল। তাল সামলাতে না পেরে পড়ে যায় তার উপর চৌখ তুলে তাকাতে না তাকাতে এক পুরুষালি কন্ঠ ভেসে আসে,,

এ তো দেখি জমিদার বেটি। তাকি এই দৌড়ে আমার উপর পরার অভ্যাস এহো কলে যাবে না গো জমিদার বেটি ।তা এমন উড়নচন্ডী দৌড়াচ্ছ কেন।

হুড়মুড়িয়ে উঠে মাটিতে অর্ধ হেলে থাকা পুরুষ টির দিকে তাকিয়ে বলে, এসব কি বলছন শেখর ভাই আমি কি ইচ্ছে করে পড়েছি নাকি আপনি তো কোতথেকে ভূতের মতো চলে আসলেন।

শেখর উঠে হাত দিয়ে মাটি ঝারতে ঝারতে বলে, 

ও হে আমি তো সবসময় ভূতের মতে চলে আসি আর আপনি তো সবসময় সচেতন ই থাকেন, আমি তো ভুলে গেছি। 

ইশরা এবার থতমত খেয়ে যায়। তারপর বলে,, আমি আসলে... 
বলার আগেই শেখর বলে ওঠে। একসময় তো সরাদিন আমার কাধে চড়ে বেড়াতে, উঠলে নামতে চাইতে না আার এখন আমার উপরেই পরো । কদিন পরে তো যাবে শশুর বাড়ি, বাচ্চাকাচ্চার মাও হয়ে যাবে তো এই উড়নচণ্ডী দৌড় আার পদ্ম ফুল তোলা থামাও। 

ইশরা এবার খুব লজ্জা পেয়ে মুখ নামিয়ে ফললো। 

থাক! আর লজ্জা পেতে হবে না কিছু নাই বলতেই লজ্জাবতীর মতো নিজেকে গুটিয়ে ফেলার সভাব তোমার। আর সাবধানে বাড়িতে যাও

হুম বলেই মাথা নিচু করেই ইশরা পাশ কাটিয়ে চলে যায়। একটু দূর যেতেই শেখর ফিরে তাকায় ইশরার দিকে মুচকি হেসেই আবার হাটা ধরে। সে জানে এটা নতুন কিছু না। প্রত্যেক বর্ষায় সাত সকলে পদ্ম তোলার অভ্যাস এই মেয়ের ,। 

তবে এর মহান কোণ কারণ নেই বাড়িতে গিয়ে বোতলে পানি দিয়ে ঘরে রাখবে না হলে ছাদে আর তা না হলে স্কুলের বান্ধবী দের বিলাবে।আর তার উপর পড়া এ ছোট থেকে হয়ে আসছ। এ আর নতুন কি। তারপর সে ও হাটা ধরে।

রাস্তায় আবার দেখা হয় তার ফুফাতো ভাই রাতুল এর সাথে যে এসেছে তা কেও জানে না। নানাবাড়ি না গিয়ে সে শেখরের পিছে ছুটছে। একটুর জন্য সে হাতছাড়া হয়েছে।" যা ইশরা বাড়িতে গিয়ে বলিস আমি আসছি বাড়িতে"। বলেই হাটা ধরে।


ইশরা বাড়িতে ঢোকার আগে পুকুর পার থেকে পা ধুয়ে চুপিচুপি বাড়িতে ঢোকে যেন তার মা টের না পায়। তাদের মাটির দোতালা। ইশরার বাবা কাকারা সমলায় এই জমিদার বাড়ি। জমিদরি নাম বংশকলে পাওয়া এই পদবি। এক কলে ছিল জমিদারি এই বাড়িতে। জমিদার দের পরে পরপর্তীতে অনেক সময় পেড়িয়ে গেছে । তার দাদা উত্তরাধিকার সুত্রে পয়েছিল এই বাড়ি এখন তার বাবা আর কাকারা দেখাশোনা করে। তার দাদা এখন বৃদ্ধ । কিন্তু সম্পত্তি আার নামে কিছুটা প্রভাব রয়েছে । বাড়িয় এক সময় ভাঙাচোরা হয়ে যায় তারপর ইশরার বাবারা তিন ভাই মিলে বাকিটা গড়েছে ।এই বাড়ির একমাত্র মেয়ে শেফালি যার শহরে বিয়ে হয়েছে ।

সে ফুল গুলো ছাদে ছোট বালতিতে রেখে নিচে এসে বলে ,, মা,, কাকি, দাদি শোন সবাই রাতুল ভাই এসেছে শহর থেকে, বাড়িতে আসছে। 
ছোট কাকি বলে,, তোকে কে বললো 

আরে কাকিমনি রাস্তায় দেখা হয়েছিল। তারমনে তুই আবার সাতসকালে বাইড়ে বেড় হইছিলি ইশরার মা বলে ওঠে। সে তো কিছু মা ভেবে বলে ফেলেছে। জিভে কামড় দিয়ে সে তার কাকির ফেছনে লুকায়। কাকি বাঁচাও বলে তার কোমর ধরে। 

নুরজাহান বেগম বলে,,আহ কি শুরু করলে তোমরা, কতদিন পর আমার নাতিডা আইতেছে বাড়িতে। তারাতাড়ি রান্না বসাও।
চলবে......।

Comments

    Please login to post comment. Login