হঠাৎ দরজার ওপাশ থেকে ফারহানা বেগমের ডাক ভেসে এলো,
"ইনায়া, আর কত ঘুমাবি? সাড়ে আটটা বাজে। কলেজে দেরি হয়ে যাবে তো!
ঘুম জড়ানো চোখে ধড়ফড় করে উঠে বসলো ইনায়া। চুলগুলো এলোমেলো, চোখে এখনো ঘুমের রেশ।
তাড়াতাড়ি বিছানা ছেড়ে ওয়াশরুমে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে নিলো। ঠান্ডা পানির ঝাপটায় ঘুম খানিকটা কাটলো।
নিচে নামতেই রান্নাঘর থেকে ভেসে আসছে গরম খিচুড়ি, বেগুন ভাজা আর ডিম ভাজার ঘ্রাণ।
ইনায়াকে দেখেই ফারহানা বেগম হেসে বললো,
"আয় মা, বস। দেখ তোর পছন্দের খিচুড়ি করেছি। ঠান্ডা হয়ে যাবে।
ছোট চাচি ও ব্যস্ত হয়ে সবার প্লেটে বেড়ে দিচ্ছে।
ইনায়া চুপচাপ চেয়ার টেনে বসে পড়লো। সবার হাসি-ঠাট্টার মাঝে ওর মনটাও হালকা হয়ে গেল।
খেতে খেতে আব্বু বললো, "তোমার নাকি কয়েক দিন পর পরিক্ষা ? প্রিপারেশন ঠিক মতো নিচ্ছো তো?
ইনায়া মাথা নেড়ে বললো, "হ্যাঁ আব্বু, নিচ্ছি। তুমি চিন্তা করো না।
খাওয়া শেষ করে হাত ধুয়ে উঠতেই রহিম চাচার গলা শোনা গেল বাহির থেকে, "আপা, গাড়ি বাইর করছি।
ইনায়া ব্যাগটা কাঁধে ঝুলিয়ে ফারহানা বেগম কে বললো, "আসি আম্মু।
ফারহানা বেগম কপালে হাত ছুঁইয়ে বললো, "আল্লাহ হাফেজ। সাবধানে যাস।
ইনায়া গাড়িতে উঠে বসতেই জানালা দিয়ে বাহিরের দৃশ্য দেখছে। রহিম চাচা গাড়ি চালাতে চালাতে বললো,
"আজকে রাস্তায় একটু জ্যাম আছে মা। কিন্তু তোমারে সময়মতো পৌঁছাইয়া দিমু।
ইনায়া শুধু হালকা হেসে আবার জানালার বাহিরে তাকিয়ে রইলো।
মনে মনে ভাবলো, কলেজের গেটে আজ আবার সেই চোখ দুটো অপেক্ষা করছে কিনা?
গাড়ি কলেজের সামনে থামলো, ঘড়িতে তখন নয়টা বাজতে পাঁচ মিনিট বাকি।
ইনায়া গাড়ি থেকে নেমে একবার পেছনে তাকালো।
রহিম চাচা হাত নেড়ে বললো, "যাও মা।
আর ঠিক তখনই, গেটের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটা চেনা মানুষ ইনাকে ডাক দিলো।