Posts

উপন্যাস

এক ছাতার নিচে। পর্ব:৩৩

May 17, 2026

busra islam

19
View

#গল্প- এক ছাতার নিচে

 #লেখিকা- বুশরা নাদরাহ

 #পর্ব - ৩৩  

  "কলেজের গেটের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটা হালকা হেসে ডাক দিলো,  

 "ইনায়া!"  

শীতের সকালের নরম রোদে রায়হানের মুখটা কেমন ঝলমল করছিল। সাদা শার্টের হাতা গুটানো, কলারের একটা বোতাম খোলা। চুলগুলো এলোমেলো, যেন হাওয়ার সাথেই বন্ধুত্ব করে নিয়েছে। হাতে তার কালো হেলমেট।  

 ইনায়া চমকে তাকালো। বুকের ভেতরটা হঠাৎ করেই ধুকধুক করে উঠলো। 

  "আপনি এখন?

  রাইহান এক পা এগিয়ে এসে হাসলো। সেই হাসিতে একরকম নিশ্চিন্ত ভরসা ছিল।  

 "ক্লাস তো দশটায় শুরু। এখনো অনেক সময় বাকি। বাইকে উঠো, একটু ঘুরে আসি। অনেকদিন হলো তোমাকে হাসতে দেখিনা। 

 ইনায়া একটু থমকে গেল। চারপাশে তাকিয়ে দেখলো কেউ দেখছে কিনা। কলেজের গেটের সামনে সবসময়ই ভিড় থাকে। ওর মতো শান্ত মেয়ের জন্য এগুলো একটু বেশিই সাহসের কাজ। 

  " আজকে না। দেরি হয়ে যাবে... অন্য এক দিন যাবো।  

   রায়হান ভ্রু কুঁচকে একটু সামনে ঝুঁকে ফিসফিস করে বললো,  

 "দেরি হলে আমি স্যারের থেকে বকা শুনে নিবো। প্লিজ ইনায়া, চলো।

  রায়হানের গলার স্বরে এমন কিছু ছিল, যে না বলাটা অন্যায় লাগলো।  

 ইনায়া আর কিছু বলতে পারলো না। চুপচাপ ব্যাগটা সামলে বাইকের পিছনে উঠে বসলো। 

 বাইক চলতে শুরু করলো। শীতের হালকা বাতাস এসে লাগছে মুখে, রায়হান আস্তে করে বললো, 

  "ধরে বসো, নাহয় পড়ে যাবে।তোমার কি ভয় লাগছে??  

 ইনায়া হালকা করে শার্টের কোনা খামচে ধরলো। ধরলো না রাইহানকে। বলা হয়নি, কিন্তু মনে মনে বললো  " আমার তো বাইকে ভয় লাগে না, ভয় লাগে আপনাকে  হারানোর।  

শহরের এ গলি ও গলি ঘুরে ওরা চলে এলো নদীর  পাড়ে। নদীর পানি শীতের সকালে কেমন নীলচে লাগছে। নৌকাগুলো ধীরে ধীরে দুলছে, মাঝিরা গান গাইছে। 

রায়হান বাইক থামিয়ে হেলমেট খুলে বললো,   

"নামো। আজকে তোমাকে আমার প্রিয় জায়গাটা দেখাবো।অনেক ঘুরব। দুনিয়ার সব টেনশন ভুলিয়ে দিবো।   

ফুচকাওয়ালার সামনে দাঁড়িয়ে রায়হান ব্যস্ত হয়ে বললো,   

"চাচা, হাললা ঝাল দিয়ে এক প্লেট ফুচকা দেন।

  ইনায়া অবাক হয়ে তাকালো। 

  "উনি জানেন? 

 চুপচাপ ফুচকা খেতে খেতে ওর চোখ ভিজে আসছিল।  খাওয়া শেষে ওরা লেকের ধারে বসলো। চারপাশে কয়েকটা বাচ্চা ঘুড়ি উড়াচ্ছে, আকাশে রঙিন ঘুড়ি উড়ছে মেঘের সাথে পাল্লা দিয়ে। 

 রায়হান গল্প করছে কলেজের পাগলামি নিয়ে—কিভাবে একবার স্যারকে না বলে সবাই মিলে পালিয়ে ক্রিকেট খেলতে গিয়েছিল, কিভাবে ও নিজে ফাইনাল ম্যাচে ক্যাচ মিস করে সবাইকে হাসির খোরাক বানিয়েছিল।   

 ইনায়া শুনছে আর মাঝে মাঝে খিলখিল করে হাসছে। কতদিন পর মনটা হালকা লাগছে।    কিন্তু ইনায়ার মনের ভেতরটা শান্ত হতে পারছিল না।   

 " উনি কেন এত সহজে কেন সবকিছু এলোমেলো করে দেয়? 

"কেন মনে হয়, উনার পাশে থাকলে দুনিয়ার আর কিছু লাগে না? 

" উনি যদি আমাকে ছেড়ে চলে যায়?  

রাইহান হঠাৎ থেমে ইনায়ার দিকে তাকালো। চোখে একটা গভীর দৃষ্টি।

   "কি হলো? চুপ হয়ে গেলে যে? আবার কি ভাবছো? তুমি চুপ থাকলে আমার ভয় লাগে ইনায়া। মনে হয় আমি কিছু ভুল করলাম।

  ইনায়া আকাশের দিকে তাকিয়ে ধীরে বললো,  

 "কিছু না। শুধু মনে হচ্ছে... থাকুক না কিছু কথা আজকের মতো। সব কথা বলে ফেললে তো রহস্য থাকে না।

  রায়হান কিছু বুঝলো না, শুধু মাথা চুলকে হাসলো।  

 "তুমি আসলেই অদ্ভুত। আচ্ছা ঠিক আছে, আজকে থাক। কালকে আবার জিজ্ঞেস করবো। আর পালাতে পারবে না। এখন চলো, না হলে সত্যি দেরি হয়ে যাবে।   

ইনায়া উঠে দাঁড়ালো। 

বাইকে ওঠার সময় হাতটা একবার কেঁপে উঠলো। রাইহান সেটা দেখলো কিনা কে জানে।    ফিরার পথে দুজনেই চুপ। শুধু বাইকের ইঞ্জিনের শব্দ আর বাতাসের শোঁ শোঁ আওয়াজ। কিন্তু সেই নীরবতার ভেতরেও একটা কথা না বলা গল্প জন্ম নিচ্ছিল।  

  কলেজের গেটের সামনে এসে রায়হান বললো,  

 "কালকে একই সময়ে এখানে থেকো। কথা আছে।  ইনায়া কিছু বললো না। শুধু মাথা নেড়ে ভিতরে চলে গেল।   

 পেছন ফিরে দেখে রায়হান তখনো দাঁড়িয়ে। ওর চোখে অপেক্ষা, আর ইনায়ার বুকে একটা অজানা অনুভূতি দলা পাকিয়ে রইলো। 

  হয়তো এটাই.……………,.

Comments

    Please login to post comment. Login