রেভেল ও তানজিম বাসে করে ঢাকা এসে পৌছালো। একটা রিক্সা নিল। রিকশা চলতে লাগলো হঠাৎ ওসমান হাদীর কবর দেখে রেভেল রিকশা থামাতে বললো।
রিকশা থেকে নেমে রেভেল হাদীর কবরের সামনে দাড়ালো।
তানজিম তার পাশে এসে দাড়িয়েছে।
তানজিম বলল, হঠাৎ হাদীর কবর দেখে থেমে গেলেন?
রেভেল কবরে হাত ছুয়ে বলল, এই লোকটা ছিল সৎ সাহসী ও সিস্টেম বুঝতো। যার কারনে সিস্টেম এর লোকেরা তাকে মেরে ফেলেছে।
তানজিম বলল, হ্যা। তিনি রিকশা দিয়ে যাচ্ছিলেন তখনই একটা বাইকে করে বন্দুক হাতে ২জন আসে। উনাকে রাস্তাতেই গুলি করে পালায়।
রেভেল এর মনটা খুব খারাপ। তানজিম এর আগে রেভেলকে ইমোশন হতে দেখেনি।
রেভেল বলল, হাদী ভাই ছিল আমার মতো তিনি সিস্টেম বুঝতেন ও সরাসরি প্রতিবাদ করতেন। তবে রাজনৈতিতে সৎ মানুষরা টিকে না।
তানজিম বলল, চলেন। আমাদের দেরী হয়ে যাচ্ছে।
যাওয়ার আগে রেভেল হাদীর কবরে একটা চুমু খেল যেন তার কপালে চুমু খেয়ে শেষ বিদায় নিল।
তারা ২জন এসে পৌছালো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে। সেখান থেকে তারা গেল শিক্ষার্থীদের হোস্টেলে।
হোস্টেলের যে নেতা ছিল তার গাল খানিকটা কাটা। উনি সাইন্স বিভাগের ছাত্র। উনার নাম জামসেদ।
জামসেদ তখন বসে হোস্টেলের ৪৪ নম্বর রুমে আড্ডা দিচ্ছিল তার গ্রুপের সাথে। এই গ্রুপের একেকজন একেক বিভাগ থেকে জয়েন করেছে। সবাই ই নিজেদের বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী মনে করে।
দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকলো তানজিম তার পেছনেই সিগারেট হাতে রেভেল ঢুকলো।
ঘরের সবাই দরকার দিকে তাকিয়ে দেখলো কে আসছে? এটা?
জামসেদ দেখলো তার মামতো ভাই তানজিম এসেছে। তবে পাশের ছেলেটা কে?
তানজিম হাসি মুখে বলল, সালামালাইকুম ভাই। কেমন আছেন? মনে আছে রেভেল এর কথা বলেছিলাম আপনাদের এটাই সেই রেভেল।
জামসেদ এর ঠোঁটে মুচকি হাসি রেখে বললেন, এই সেই রেভেল? হাহাহা। শুনেছি ও নাকি অনেক বুদ্ধিমান ছেলে। তবে জামাকাপড় ময়লা, চুলগুলো বড় বড়। দেখে তো মনে হচ্ছে টোকাই পোলাপান।
রেভেল এর এমনেই মন খারাপ ছিল। আরো খারাপ হয়ে গেল। মন খারাপ হলে রেভেল চুপ ই থাকে।
জামসেদ বলল, তো তোমরা বসো। আমরা বিদেশি মদ খাচ্ছি। তোমরা গ্রামের পোলাপান মদ খাও তো?
তানজিম বলল, আমি খাই না। তবে রেভেল ভাই খায়।
ঘরের থাকা ছেলেরা তাদের জায়গা করে দিল বসার জন্য। দুজন ছেলে ময়লা সোফাটা ছেড়ে দিল। সেখানে জমসো রেভেল ও তানজিম। তানজিম কাধের ব্যাগটা খুলে পায়ের ওপর রাখলো। এদিকে রেভেল গুনে দেখলো ঘরে মোট কয় জয়। ১৫জন আছে। খাটে ৫জন বসা। আর ১০জন ফ্লোরে বসে আছে।
জামসেদ বালিশের চিপা থেকে মদ বের করলো। তারপর গ্লাসে ঢেলে দিল। হাত বাড়িয়ে মদের গ্লাস দিল একজনকে। সে মদের গ্লাসটা দিল রেভেলকে।
রেভেল মদটা নিয়ে এক চুমুকে গিলে ফেলল। তারপর কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে ঝিমুনোর পর। রেভেল চোখ খুলল।
রেভেল বলল, একটা মানুষকে তার পোষাক দেখে যাচাই করা উচিত না। পোষাক তার বাইরের সৌন্দর্য। ভেতরের সৌন্দর্য হচ্ছে বই। আমি প্রচুর বই পড়েছি। নিজের ভেতরটা সুন্দর করেছি।
জামসেদ টিক্কারি করে বলল, তো কি কি বই পড়লে?
রেভেল এর চোখ তীক্ষ্ণ। রেভেল বলল, তুমি যেন কোন বিভাগে সাইন্স। মনে পড়ছে। আমি কখনও প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহন করিনি। তবে আউটবুক অনেক পড়েছি। তুমি কি আইন্সটাইনের থিওরী অফ রিলেটিভিটি পড়েছো? বা স্টিফেন হকিংয়ের থিওরী অফ এভরিথিং।
জামসেদ এবার রেভেল কে সিরিয়াসলি নিচ্ছে।
রেভেল ঘরের একছেলে কে বলল, তোমার নাম কী? কোন বিভাগে পড়ো?
ছেলেটা বলল, আমার নাম শহীদ। আমি পলিটিক্যাল সাইন্স নিয়ে পড়ছি।
রেভেল হেসে বলল, পলিটিকাল আমার পছন্দের বিষয়। তুমি কি জানো ম্যচিয়াভেলি বলেছে একটা রাজাকে হতে হবে সিংহের মতো সাহসী ও শেয়ালের মতো ধূর্ত। আচ্ছা। পারলে বলো তো, পলাশীর যুদ্ধে কেন সিরাজুদ্দৌলা হেরে গেল?
শহীদ মাথা চুলকে বলল, কারন সিরাজুদ্দৌলার কাছে সৈন্য কম ছিল। হয়তো এজন্য।
রেভেল বলল, না। সিরাজুদ্দৌলার কাছে সৈন্য ছিল ৫০হাজার। এদিকে ব্রিটিশ দের সৈন্য ছিল ৩হাজার মাত্র। তাও তারা হেরে যায় কেন?
শহীদ বলল, মির্জাফর বা ঘষেটি বেগম এর কারনে। আমি আসলে পুরোটা জানি না। বলেন কি হইছিল?
রেভেল দেখলো সবাই মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুনছে।
রেভেল বলল, পলাশীর যুদ্ধে সিরাজুদ্দৌলার দল ভালোই কামান দিয়ে আক্রমন করছিল তখন বিট্রিশরা পিছিয়ে যায়। আর শুধু হয় বৃষ্টি। ব্রিটিশরা তাদের কামান ঢেকে রেখেছিল। যাতে না ভিজে। এদিকে সিরাজুদ্দৌলার কামানগুলো সব ভিজে অকেজো হয়ে যায়।
সিরাজুদ্দৌলা যখন দেখে ব্রিটিশরা কামান দিয়ে একেক পর এক আক্রমণ করছে। তখন সে তার সেনাপ্রধান মির্জাপুর এর পায়ের কাছে নিজের মুকুট রেখে বলে, এবার আপনি যুদ্ধ করেন। তারপর কাপুরুষের মতো পালায় সে। পরে তাকে কলকাতায় লোক দিয়ে হত্যা করানো হয়।
এক দমে এতো কথা বলার পর থামলো রেভেল।
ঘরের বাইরেও বৃষ্টি দেখা যাচ্ছে খোলা জানালা দিয়ে বৃষ্টির ছিটে আসতে লাগলো ঘরের ভেতর। মেঘেরা গর্জন দিয়ে উঠলো।
#সরকার
#পর্ব_১০
#রুদ্র_সিয়াম