নদীর ধারে সন্ধ্যা নামলে
জঙ্গল প্রথমে শব্দ হারায়, তারপর মানুষ।
শুধু ভেজা বাতাসে তোমার চুলের গন্ধ ভেসে আসে
যেন বহুদিনের ডুবে থাকা কোনো চিঠি
হঠাৎ জলের ওপর উঠে এসেছে।
আমি তখন ট্যুরলাইনের পাথর হাতে বসে থাকি,
স্পর্শ করলেই ঠান্ডা হয়ে যায় আঙুল।
তুমি বলেছিলে-
“কিছু পাথর নদীর তলায় থেকেও ডুবে না পুরোপুরি।”
তারপর অনেকক্ষণ আমরা কথা বলিনি।
দূরে কাদামাটির ভেতর বুনো পাখি ডাকছিল,
আর তোমার চোখে অদ্ভুত এক অন্ধকার জন্ম নিচ্ছিল ধীরে।
আমি বুঝতে পারছিলাম,
ভালোবাসা কখনো কখনো জঙ্গলও হয়-
পথ দেখায় না, শুধু গভীরে নিয়ে যায়।
হঠাৎ তুমি নদীতে ছুঁড়ে দিলে পাথরটা।
জল কেঁপে উঠলো কয়েকবার,
আমার বুকও।
তবু ডুবে যাওয়ার আগে পাথরটা
এক মুহূর্ত আলো ধরেছিল।
মনে হয়,
তুমি আছো মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে।
শেওলা, বৃষ্টি আর অন্ধকারের নিচে,
আমার নাম না ডেকেও
বারবার ডেকে যাচ্ছো।