সুবোধ বাবু সরকারি কর্মচারী।মা,মেয়ে,ছেলে নিয়ে উনার বসবাস।সংসার টানতে পারেন না।বেশ কষ্ট হয়ে যায়।আজকেই দেখুন না,উনার পরিবারের ঔষধের দাম আসলো ২৭০০ টাকা।উনার ছেলে আর মেয়ের ঔষধের দাম।বাবু পকেট থেকে ২ হাজার বের করলেন।আর টাকা মেলে না।মনে পড়লো,বিকাশে কিছু টাকা আছে।আমাই বললো,আরে,বিকাশে তো টাকা আছে।আমি বললাম,আচ্ছা দাদা দেন তবে।তিনি বিকাশ খুললেন।খুলে মুখটা ভার করলেন।চিন্তা করলেন।আমাকে দেখালেন ২২৭ টাকা আছে।উনার পকেট থেকে ৪৫০ আর বিকাশ থেকে ২৫০ দিয়ে কোনোমতে এই পাট চুকালেন।বাসায় এসে মেয়ে বললো,কি জামা আনো নি?এই জামার জন্য বসে আছি।সুবোধ বাবু বললেন,কাল আনব।আমার দিকে তাকালো,মুখ কালো।আকাশ যেন ভেঙে পড়লো উনার মাথায়।আমাকে নিয়ে বের হয়ে বললো,পকেটে আর টাকা নেই।মেয়ে বলছে জামার কথা।আমি বললাম, কাল সকালে হয়ে যাবে, ভাইবেন না।আমিও তাকিয়ে দেখি মানুষের ঘরের কাহিনি। এটাই বাস্তবতা। আমরা সবাই গরিব।বড়লোক কেউ নই!
খারাপ লাগছে, ভীষণ খারাপ লাগছে। সুবোধ বাবুর মতো হাজার মানুষ পথে পথে ঘুরে।চাকরি ঘামে তার শাট ভিজে।কেউ বুঝে না।হয়তে বুঝবেও না।বলতেও পারে না।পারবও না।শুধু সুবোধ বাবুর মতো মুচকি হেসে বলবে,
আগামিকাল আনব।
এটাই জীবনের মূল গতিধারা।
এটাই জীবন।বাস্তবতা।
মেনে নিতে হয়,হবে।
লেখকঃ অভি চক্রবর্ত্তী।