Posts

উপন্যাস

সরকার (পর্ব ১১) রুদ্র সিয়াম

May 19, 2026

Rudro Siyam

Original Author রুদ্র সিয়াম

18
View

১০তলা বিল্ডিংয়ের সাদে বসে সিগারেট টানছে রেভেল। নিচে রাস্তায় জনগন বলছে, হাদী হত্যার বিচার চাই। বিচার চাই, বিচার চাই।

তানজিম ফ্লাক্স থেকে চা বের করে দিল কাপে ঢাললো। তারপর রেভেলকে দিল।

রেভেল চায়ে চুমুক দিয়ে বলল, উহু। চিনি বেশি হয়েছে। যাই হোক। এই আন্দোলনে আমাদের লোকসংখ্যা কত?

তানজিম বলল, মাত্র ৫০জন। তবে গতকাল আপনি যে কথা বলছেন ইংরেজরা মাত্র ৩হাজার সৈন্য নিয়ে যেভাবে সিরাজুদ্দৌলাকে কুপোকাত করলো। আমার বিশ্বাস আমরাই জিতবো।

রেভেল তীক্ষ্ণ চোখে বলল, আমরা কি জেতার জন্য লড়ছি? নাকি আমরা সুস্থ বিচার চাই? অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ছি?

তানজিম বলল, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ছি।

রেভেল চিন্তিত হয়ে চায়ে চুমুক দিয়ে বলল, মিডিয়া এখনও আসছে না কেন?

তানজিম বলল, কারন আমাদের জনগনরা সুস্থভাবে আন্দোলন করছে। তাই তো পুলিশও নাই আশেপাশে।

রেভেল বলল, কেওস শুরু করতে বলো। এখনই ফোন দাও দলের নেতা জামসেদকে বলো কেওস শুরু করে দিতে।

তানজিম ফোন করলো। নিচে জনগনের সাথে আন্দোলন করছে জামসেদ।

ফোন ধরে জামসেদ বলল, কি বলছেন? বুঝতে পারছি না। হ্যালো।

তানজিম বলল, আপনি একটু সাইডে যান।

জামসেদ বলল, এখানে প্রচুর চিল্লাচিল্লি আমি কিছুই শুনতে পারছি না। আপনি মেসেজে বলুন।

তানজিম ফোন কেটে মেসেজ পাঠিয়ে দিল। সেখানে একটাই শব্দ 'কেওস'।

জামসেদ মেসেজ দেখেই বুঝে গেল। ৫০জনকে বলল, কেওস শুরু করো।

জনগন তখন তাদের সামনে দিয়ে একটা রিকশা যাচ্ছিল সেটা থামিয়ে দিল। রিকশাওয়ালা ও পেসেন্জার ভয়ে দৌড় দিল। জনগন রিকশায় পেট্রল ঢেলে  দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিল।

সাদের ওপর থেকে এই দৃশ্য দেখে রেভেল বলল, কেওস হচ্ছে। এখন ব্যপারটাকে সবাই সিরিয়াস নিবে।

এদিকে শামস টিভিতে নিউজে দেখতে লাগলেন কিভাবে জনগন ভাংচুর করছে উগ্র হয়ে গেছে। জনগন পুলিশদের ইট পাথর ছুড়ে মারছে। তবে পুলিশ এখনও একসন নিচ্ছে না।

শামসের পিএস গৌড় এসে বলল, স্যার। আপনার ফোন এসেছে। এসপি অফিসের থেকে চৌধুরী এরশাদ কল করেছে। তিনি তার পুলিশ টিমকে আক্রমন করবে কি না সেই অর্ডার দিতে পারছে না। আপনার কাছে পারমিশন চাচ্ছে।

শামস তার পাশে থাকা জয়নুলকে বললেন, তোমার কি মনে হয়? আমার কি করা উচিত?

জয়নুল বলল, পুলিশকে পারমিশন দেন। পুলিশ সবকয়টা আন্দোলনকারী কে পিটিয়ে মেরে রাস্তা পরিষ্কার করুক।

শামস বললেন, এটাই কি সমাধান? আমাদের কাছে ক্ষমতা আছে তাই বলে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের আক্রমন করবো? তুমি কি দেখো না মিডিয়া পুরো বিষয়টা কভার করছে? দেশ বিদেশে খবর এতোক্ষণে পৌছে গেছে।

জয়নুল বলল, আপনার যা ভালো মনে হয় করেন। সব সরকার ই এমনই করে। আপনার কি নতুন কোন প্লান আছে?

শামস বলল, হ্যা। আমার নতুন প্লান আছে। আমি সেখানে যাবো তাদের বুঝাবো কেন তারা আন্দোলন করছে? তাদের সাথে কথা বলে মিটমাট করব।

জয়নুল ঠোঁটের কোনায় হাসি রেখে বললেন, এটা কি কোন সিনেমার কাহিনী? আপনি নায়কের মতো যাবেন তাদের ভাষন দিবেন আর তারা চলে যাবে?

শামস কোন কথা শুনললেন না। পিএসকে বললেন, গাড়ি বের করতে।

এদিকে আন্দলোনে জামসেদ ও তার দলেরা একটার পর একটা বাস, গাড়ি, অটোরিকশা সব আগুনে ধরিয়ে রাস্তা ব্লক করে রেখেছে। চারিদিকে আগুন উড়ছে। তারা একপাশে। আরেকপাশে রাইফেন হাতে পুলিশের দলরা দাড়িয়ে তামাশা দেখছে ও অপেক্ষা করছে কখন অর্ডার আসবে আর তারা একসনে নামবে।

কিছুক্ষন পর সাইরেন বাজিয়ে নিজের ব্রুলেটপ্রুফ কালো গাড়ি ও বডিগার্ড নিয়ে সেখানে আসলেন শামস।

পুলিশ উনাকে দেখেই অবাক হয়ে গেল। মিডিয়াও বিষয়টা ক্যপচার করতে লাগলো। সাদের ওপর থেকে রেভেল প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো।

রেভেল বলল, ভালো একটা সুযোগ ছিল। একটা স্নাইপার হলেই হতো। এখন সাদের ওপর থেকে নিশানা করে মেরে দিতাম।

তার পাশ থেকে তানজিম বলল, হ ঠিক বলছেন।

সাদিক দেখলো একটা মাইক হাতে শামস নিজের কালো গাড়ির ওপর দাড়ালেন।তারপর ভাষানের মতো করে বললেন, ভাইসব। তোমরা যারা আন্দোলন করছো। আমি তোমাদের দাবী মেনে নিব। আর তোমরা এখন বাসায় চলে যাও। পড়াশোনা করো। তোমরা যে গরীব লোকেরা রিকশা জ্বালিয়েছো দেশের সম্পদ নষ্ট করেছো । এসব ঠিক করোনি। তবুও আমি তোমাদের মাফ করে দিলাম। তোমরা বাসায় চলে যাও।

এরকম সময় সাদের ওপর তানজিম এর ফোনে কল আসলো। তানজিম ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে জামসেদ বলল, আমরা এখন কি করবো?

তানজিম তাকালো রেভেল এর দিকে।

রেভেল একটা শব্দই বললো, ককটেল।

তানজিম এর চোখ বড় হয়ে গেল। তার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমতে লাগলো।

তানজিম এর গলা শুকিয়ে আসছে তবুও কোনমতে বলল, ককটেল।

জামসেদ বুঝে গেল। ব্যগের থেকে একটা ককটেল নিল। তারপর ওই যে দূরে পুলিশের গাড়ি তারপর প্রধানমন্ত্রী কে দেখা যায়। সেটা উদ্দেশ্য করে ককটেল ছুড়ে মারলো।

সেই ককটেল উড়ে যেতে লাগলো। রাস্তায় বাস আগুনে  জ্বলছে, রিকশা জ্বলছে। সেগুলো টপকে একদম সামনের সারির পুলিশদের টোপকে একদম প্রধানমন্ত্রীর কালো গাড়ির নিচে গিয়ে ব্রাস্ট হলো। বুম।

গাড়ির নিচে ককটেল বিস্ফোরণের সেই তীব্র ঝাঁকুনি আর ধাক্কায় চাকা নড়ে উঠেছে, আর ওপর থেকে প্রধানমন্ত্রী ছিটকে পড়েছেন। ধোঁয়ায় চারপাশ অন্ধকার—উনার অবস্থা আসলেই ধোঁয়াশা! উনি কি বেঁচে আছেন, নাকি গুরুতর আহত, নাকি উনাকে ওখান থেকে বডিগার্ডরা টেনে তুলছে। সেটা এখনও অজানা।


সাদের ওপর থেকে এই ধোয়া দেখে রেভেল বলল, এখন এই ১০ তলা  বিল্ডিং থেকে পালাতে হবে।

তানজিম ভয় পেয়ে  বলল, জামসেদ তো পুরা প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি উড়ায় দিল। এখন কি হবে? আর প্রধানমন্ত্রী যদি মারা যায়? তাহলে কি হবে?

রেভেল বলল, জানি না। চলে ব্যাগপত্র গুছিয়ে নাও। চায়ের ফ্লাক্সটা নাও। এখান থেকে বের হও।

তানজিম ব্যাগে চায়ের ফ্লাক্স ভরে ফেলল। তারপর সব ব্যক্তিগত জিনিস যেগুলো টেবিলের ওপর রাখা ছিল কাগজপত্র এমনকি প্লান করা ম্যাগ সবগুলো ব্যাগে ভরে চেইন লাগিয়ে দিল।

#সরকার
#পর্ব১১
#রুদ্র_সিয়াম

Comments

    Please login to post comment. Login