Novel

সরকার (পর্ব ১২) রুদ্র সিয়াম

May 20, 2026

Original Author রুদ্র সিয়াম

195 views

রেভেল ও তানজিন সিড়ি দিয়ে নিচে নামছে। সিড়ির শেষ মাথায় এসে গলির বাইরে বের হচ্ছে মেইন রাস্তায়। 
যখনই তারা দুজন মেইন রাস্তায় এলো চারিদিকে রিকশা, বাস পুড়ছে আগুন জ্বলসে। তখনই কোথাথেকে যেন র্যাব এসে তাদের পেল সবার আগে আর সন্দেহভাজন অবস্থায় হ্যন্ডকাপ পড়িয়ে দিল।

এদিকে হাসপাতালে শুয়ে আছেন শামস। এখনও জ্ঞান ফিরেনি উনার। ডক্টর বলেছে মাথায় পেছনে খুব বড়সর আঘাত পেয়ে উনি কোমায় চলে গেছেন।

হাসপাতালের বাইরে মিডিয়া এসে ঘিরে ধরেছে। তারা খবর জানতে চায়।

জয়নুল এগিয়ে গেল মিডিয়ার কাছে বলল, আমাদের দেশনেতা এখনও জ্ঞান ফিরেনি। হয়তো খুব শ্রীঘ্রই ফিরবে। তবে উনি বেচে আছে এটাই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া।

জয়নুল এর ফোনে মেসেজ আসতেই উনি হলুদ গাড়িতে উঠে সোজা মিটিংয়ে চলে আসলেন। কে এখন দেশ চালাবে?

মিটিংরুমে ঢুকেই জয়নুল দেখলেন এখানে দেশের সব বড় বড় মাথা একত্রে হয়েছে। একদিকে দেশের নেতা অসুস্থ, আরেকদিকে ক্ষমতা ভাগাভাগি এখনই শুরু হয়ে গেছে।

জয়নুল একটা চেয়ার টেনে বসে পড়লেন গ্রুপের মাঝে।

সেনাবাহিনীর প্রধান মোজামেল বললেন, দেশের নেতা যে কোমায় গেছে এই তথ্য লিক না করে ভালো করেছেন। কারন এতে দেশে একটা শোলখোল বেধে যেত।

হঠাৎ ইয়াকুব মিয়া বলল, এতো কথা বাদ। এখন কও কে হবে অস্থায়ী সরকার? আমি যেহেতু ওর মামা লাগি। তয় আমি ই যোগ্য।

পাশ থেকে জয়নুল বলল, তাহলে তো বিষয়টা রাজতন্ত্র হয়ে হয়ে। তবে আমি তো জানতাম এটা গনতান্ত্রিক বাংলাদেশ।  

ইয়াকুব দাতে দাত কামড়াতে লাগলেন এই কথা শুনে।

মোজামেল বললেন, আমি যেহেতু সেনাবাহিনীর প্রধান। তাই আমি ই দেশের অস্থায়ী সরকার হওয়ার যোগ্য। কারন আমার কাছে বিশাল আর্মি ও সেনা আছে।

জয়নুল ঠোঁটে মুচকি হাসি রেখে বলল, যদি ক্ষমতাই সব হতো তাহলে অতীতে দেখা গেছে একজন সেনাবাহিনীর প্রধান কখনও ভালো সরকার হতে পারেনি। যেমন ধরেন হোসেন মুহাম্মদ এরশাদ (জাতীয় পার্টি) জনগন তাকে ক্ষমতার ৭ বছরের মাথায় চেয়ার থেকে নামায়। তার মানে কি? আর্মি ই সব?

মোজাম্মেল এর কপালে ভাজ পড়লো। উনি প্রশ্ন করলেন, তাহলে আপনার মতামত কী? কে হবে অস্থায়ী  সরকার?

জয়নুল এবার ডাবার বোর্ডে নিজের গুটি চালায়।

জয়নুল বলে, আমার কোন ইচ্ছে নেই অস্থায়ী সরকার হওয়ার। আমি তো সাধারণ অর্থমন্ত্রী। তবে আপনারা জানেন শামসের সাথে আমার সম্পর্ক বন্ধুর মতো ছিল। তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ছিলাম আমি। তার অনেক গোপন কথাও আমি জানি আপনারা জানেন না।

জয়নুল কথাগুলো শেষ করে চুপ করে ভাবলো, তার লজিকে ভুল আছে সেটা শুধু তার চোখেই পড়ছে। ভুলটা হলো প্রধানমন্ত্রীর কাছের লোক হলেই কি তাকে অস্থায়ী সরকার বানাবে? এই প্রশ্নটা করলেই জয়নুল কুপোকাত। তবে দেখা গেল সবার ব্রেইন এক না।

মোজামেল বললেন, ঠিক আছে আপনি শপথ গ্রহন করেন আর আমি তো আছি সেনাবাহিনীতে দুজন মিলেই চলেন দেশ চালাই।

ইয়াকুব রেগে বলল, আর আমরা কি? বসে বসে আঙুল চুষবো?

তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে রইলেন মোজামেল ইয়াকুব এর চোখের দিকে। যে ইয়াকুব ভয় পেয়ে কোন কথা বাড়ালো না।


এদিকে রেভেল ও তানজিমকে ধরে একটা গোপন জেলখানায় নিয়ে আসলো। তাদের দুজনের মাথায় কালো কাপড় দিয়ে ঢাকা। হাতে হ্যন্ডকাপ তাই কিছুই দেখছে না।

তারপর তাদের দুজনকে প্রচুর মার দেওয়া হলো। রেভেল শুধু অনুভব করেছিল কিভাবে তার দেহে একেরপর এক মোটা লাঠি দিয়ে পশ্চাৎদেশ ঝা ঝা করে দিচ্ছে। এটাই কি তাদের বিচার? চিৎকার যাতে না করতে পারে তাই মুখে কাপড় গুজে দেওয়া হয়েছিল।

তারপর তাদের দুজনকে আলাদা করে একটা ছোট খুপরি ঘরে লক করে দিল। রেভেল দেখলো ঘরটা এতো ছোট যে এখানে শুধু বসা যায়। দাড়ানোও যায় না। রেভেল ২ হাত মেলে ধরে সাইজ বোঝার চেষ্টা করলো। এতো ছোট যে হাত দুটোও মেলতে পারলো না। কনুই পর্যন্ত মাপ নিল সে। উপড়ের দিকে তো দাড়ানোই যাচ্ছে না। মাথার চুলের সাথে দেয়াল ঠেকে যায়।

ছোট একটা জানালা আছে। এতো ছোট গর্ত যে শুধু চোখ দিয়ে বাইরের দৃশ্য যায়। সেই জানালার হাত মেলে ধরতে দেখলো দৈর্ঘ্য সাইজ কব্জি পর্যন্ত হয়। আর প্রস্থ হচ্ছে ৩ আঙুল একসাথে ধরলে যেটুকু সাইজ।

সেটা দিয়ে বাইরে তাকাতেই রেভেল একটা বক পাখি উড়ে যাচ্ছে। দূরে পাথর ও সমুদ্রের খেলা দেখা যাচ্ছে। একটার পর একটা ঢেউ এসে আছড়ে পড়ছে পাথরের গায়ে। রেভেল বুঝলো না তাকে কোথায় আনা হয়েছে।

#সরকার
#পর্ব_১২
#রুদ্র_সিয়াম
 

Picked up where you left off

Comments

    Please login to post comment. Login