সেই খুপড়ি ঘরে রেভেল বসে ছিল। বাইরে সমুদ্রের স্রোতের উঠাল পাতাল যেন তারও মনে। তবে শারীরিক ভাবে দুর্বল হলেও মার খেয়ে রেভেল একটুও মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েনি।
কিছুক্ষন পর দুপুরের খাবারের সময় হলো। সেই খুপড়ি ঘরের দরজার নিচ দিয়ে কে যেন খাবার এর প্লেট দিয়ে গেল।
রেভেল সেই দরজার নিচ দিয়ে চেচিয়ে বলল, আমার এখানে বোরিং লাগছে দয়া করে একটা বই দিয়ে যাবেন।
প্লেট টা তুলে নিল হাতে। ২টা শুকনা রুটি আর অল্প একটু আলুভাজি। রুটিটা পুরো গোল হয়নি৷ হাত দিয়ে ধরে যেন পাথরের মতো শক্ত। তবে খুদা যেন সবকিছুকেই হার মানায়। সেই শক্ত রুটি ই চিবিয়ে খেতে লাগলো রেভেল। শক্তি জোগাতে হবে, বেচে থাকতে হবে।
সেই খুপড়ি ঘরে রেভেল বসে ছিল। বাইরে সমুদ্রের স্রোতের উঠাল পাতাল যেন তারও মনে। তবে শারীরিক ভাবে দুর্বল হলেও মার খেয়ে রেভেল একটুও মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েনি।
কিছুক্ষন পর দুপুরের খাবারের সময় হলো। সেই খুপড়ি ঘরের দরজার নিচ দিয়ে কে যেন খাবার এর প্লেট দিয়ে গেল।
রেভেল সেই দরজার নিচ দিয়ে চেচিয়ে বলল, আমার এখানে বোরিং লাগছে দয়া করে একটা বই দিয়ে যাবেন।
প্লেট টা তুলে নিল হাতে। ২টা শুকনা রুটি আর অল্প একটু আলুভাজি। রুটিটা পুরো গোল হয়নি৷ হাত দিয়ে ধরে যেন পাথরের মতো শক্ত। তবে খুদা যেন সবকিছুকেই হার মানায়। সেই শক্ত রুটি ই চিবিয়ে খেতে লাগলো রেভেল। শক্তি জোগাতে হবে, বেচে থাকতে হবে।
এদিকে তানজিমকে আনা হলো র্যাব অফিসার এস কে রাব্বির সামনে। উনি ইজিচেয়ারে বসে ফোনে কথা বলছিলেন। তানজিমকে দেখে চোখ সরু করে ফেললেন।
তানজিমকে ২জন গার্ড ধরে আছে। তার হাতে হ্যন্ডকাপ। তানজিমকে চেয়ারে বসিয়ে দেওয়া হলো।
রাব্বি বললেন, তোমার ব্যগে নীল নকশা পাওয়া গেছে। পুরো গেমের মাস্টার তুমি। এটা স্বীকার করো আমরা তোমাকে থানায় পাঠিয়ে দিব।
এমনিতেও অনেক মার খেয়েছে তানজিম। তাই তার মন কিছুটা দুর্বল।আবার পরিবার এর কথাও মনে পড়ছিল।
তানজিম বলল, হ্যা। আমি স্বীকার করছি সব দোষ আমার।
ভুরু কুচকে রাব্বি বললেন, আর তোমার যে ছেলেটা ছিলো সে কে?
তানজিম বলল, চিনি না। উনি হয়তো ককটেল এর শব্দে পালাতে গিয়েছিল। তখনই উনাকে আর আমাকে একত্রে ধরে ফেলে।
রাব্বি রেগে টেবিলে থাপ্পড় দিয়ে বলল, মিথ্যা বলো না আমায় আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি তোমরা চন্দ্রমা গ্রামের ছেলে। একই সাথে দুজন ঢাকা এসেছো। তারপর তোমার ঢাকার কয়েকটা স্থানে দেখা গিয়েছিল আমি আশেপাশের সি.সি ক্যমেরা থেকে এসব তথ্য জোগাড় করেছি।
ভয়ে চোখ বড় বড় হয়ে গেল তানজিমের।
তানজিম কাঁদতে কাঁদতে বলল, আমাকে ছেড়ে দিন। আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি ফ্যমিলির কাছে যাবো।
রাব্বি কোন কথাই শুনলো না। গার্ডকে ইশারা করতেই তানজিমকে ২জন গার্ড ধরে আবার খুপড়ি ঘরে রাখতে গেল।
হঠাৎ রেভেল এর রুমে ২জন গার্ড প্রবেশ করে রেভেল এর মাথায় কালো কাপড় পড়িয়ে দিল। রেভেল কিছু দেখতে পাচ্ছে না শুধু শব্দ শুনছে। চারিদিকে চিৎকার চেচামেচি। তাকে একটুপর শুনলো হেলিকপ্টার এর শব্দ। রেভেল বুঝলো তাকে হেলিকপ্টারে তোলা হয়েছে। তবে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে এরা?
এদিকে তানজিমকে ২জন গার্ড একটা রুমে নিয়ে আসলো। তানজিম দেখলো একটা ফাঁসির দড়ি ঝুলছে। ভয়ে তার গলা শুকিয়ে গেল।
তানজিম বলল, আমার শেষ ইচ্ছা হলো পরিবার এর সাথে একটু কথা বলতে চাই।
গার্ডরা তার কোন কথাই শুনলো না। তাকে ফাঁসির দড়ি পড়িয়ে দিল। তারপর একটা বাল্টির ওপর দাড়া করালো তাকে।
কিছুক্ষণপর সেখানে রাব্বি আসলেন। রাব্বি ইশারা করতেই তানজিম এর পায়ের নিচ থেকে বাল্টিটা সড়িয়ে ফেলা হলো।
মুরগির মতো ছটফট করতে লাগলো তানজিম। এতোগুলো গার্ড, তারাও তো মানুষ। তবে কারোই মায়া হলো না। একসময় তার দেহ ছটফট করা বন্ধ করে দিল। সবাই বুঝলো দেহটা আর নেই।
এদিকে রেভেল দেখলো এখন আর হেলিকপ্টার এর শব্দ আসছে না। হেলিকপ্টারটা মাটিতে ল্যন্ড করলো।
দুজন গার্ড রেভেলকে ধরে হেলিকপ্টার থেকে নিচে নামালো। চোখের পর্দা খুলতেই সরাসরি সূর্যের আলো লাগলো রেভেলের চোখে। পিট পিট করে তাকালো আশপাশে।
ঢাকার আদালতের সামনে তাকে আনা হয়েছে । এখানে জনগনের ভিড় জমে আছে। তাদের পুলিশ বেরিকেট দিয়ে আটকে রাখছে। তারা চেচামেচি করছে, প্রেসিডেন্ট আহত হওয়ার বিচার চাই। বিচার চাই।
রেভেল বুঝে গেল মিডিয়ায় তার কথা প্রকাশ হয়ে গেছে। জনগন এখন বিরুদ্ধে চলে গেছে।
রেভেলকে আদালতে এনে কাঠগড়ায় দাড়া করানো হলো। একটুপর সেখানে বিচারপতি আসলেন। উনার চেয়ারে বসলেন।
বিচারপতি বললেন, শুরু করো। তো রেভেল আপনার পক্ষ থেকে কোন উকির লড়তে চায়নি। আপনি চাইলে সরকারি উকিল আবেদন করতে পারেন।
রেভেল চুপ করে আছে। কোন কথা বললো না।
বিপক্ষ দলের উকিল আরমান হোসেন বললেন, তো শুরু করছি। এই যে রেভেল। উনি কোন সাধারন ছেলে নয়, একটা সাইকোপ্যাথ বলতে পারেন। উনি প্রেসিডেন্ট কে হত্যার নীল নকশা তৈরি করেছেন৷ আদালতে উনার নীলনকশা দেখানো হোক।
একলোক বিচারপতির টেবিলে একটা কাগজ লাগলেন। সেই কাগজ খুলে চশমা ঠিক করে নীল নকশা দেখলেন বিচারপতি। একবার তাকালেন রেভেলের দিকে। তবে কিছু বললেন না।
আরমান হোসেন বললেন, রেভেল উনার গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে কোন প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত না হলেও প্রচুর বই পড়ে। আর গ্রামের লোকদের বিভ্রান্ত করে বেড়ায়। ছন্নছাড়া জীবন তার। বাবা মা নেই ছোটবেলা থেকে। তাই মামার কাছে মানুষ হয়েছে। ভাবতে পারেন এমন একটা ছেলে প্রেসিডেন্ট কে ককটেলে মারার চেষ্টা করেছে। তাও ভাগ্য ভালো যে প্রেসিডেন্ট হাসপাতালে অসুস্থ অবস্থায় আছেন। মারা যাননি। এরকম ছেলে দেশের জন্য বিপদজনক এরা যেকাউকে ক্ষতি করতে পারে। তাই আদালতকে বলবো সর্বোচ্চ শাস্তি নির্ধারণ করার জন্য।
বিচারপতি এবার তাকালেন রেভেল এর দিকে।
বিচারপতি বললেন, আপনার কিছু বলার আছে?
রেভেল সরু চোখে তাকালো বিচারপতির দিকে। সেই চোখে কোন ভয় ছিল না। ছিল না সঠিক বিচার পাওয়ার আকাক্ষা।
রেভেল হেসে বলল, আপনি আমার বিচার করবেন। আপনার ছেলের বিচার কে বলবে? যেকিনা একটা ১৩বছরের মেয়েকে রেপ করে মেরে ফেলেছিল। তার বিচার কে করবে।
বিচারপতি ঢেউক গিললেন৷ তারপর একটু কাশলেন।
বিচারপতি বললেন, এখানে আমার ছেলের কথা হচ্ছে না। তোমার নিজের কথা বলো। তুমি কথা ঘুরাচ্ছো।
রেভেল অবাক হয়ে বলল, আমি কথা ঘুরাচ্ছি। বিচার কী? একটা সিস্টেম। আপনি সবার বিচার করেন। আপনার বিচার কে করবে?
তারপর রেভেল আশেপাশের আদালতের লোকদের লক্ষ্য করে বললেন, আমরা সবাই পাপী। হয়তো সরাসরি নয়তো গোপনে। যারা ধরে পড়ে তাদেরই বিচায় হয়। যেমন আমার হচ্ছে।।তবে আইনের বাইরে যারা লুকিয়ে থাকে। তাদের বিচার কে করবে?
রেভেল এবার বিচারপতির চোখে চোখ রেখে বলল, হ্যা। আমি ই নীলনকশার মাস্টারমাইন্ড। আমি ই প্লানটা করেছিলাম প্রেসিডেন্টকে মারার জন্য।
পুরো আদালত থমকে গেল। খানিকটা ভয়ও পেল।
রেভেল বলল, একটা সরকার যখন নিজের ক্ষমতা দিয়ে লোক পাঠিয়ে পদ্মাব্রিজ এর নাম করে সেখানকার বস্তির মানুষদের উচ্ছেদ করলো। সেটা নৈতিকতা। কারন দেশের উন্নতি হবে। আর আমি যখন এই প্রেসিডেন্ট কে সরিয়ে ফেলতে চাইলাম। সেটা অনৈতিক হয়ে গেল। আমার উদ্দেশ্যও তো ছিল নতুন বাংলাদেশ।
বিচারপতি খানিকটা হাসলেন।
বিচারপতি বললেন, নতুন বাংলাদেশ সেটা শুধু তোমার স্বপ্নতেই সম্ভব বাস্তবে না। তোমাকে যাবত জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হলো।
রেভেল কঠিন গলায় বলল, আমিও সেটা মেনে নিলাম। বুদ্ধিমানরা সব কারাগরে আটকে আছে। আর মুর্খরা সিংহাসন দখল করে আছে।
বিচারপতি নিজের রাগ কন্ট্রোল করে বললেন, আজকের জন্য এখানেই সমাপ্তি।
এদিকে জয়নুলকে সংসদে আনা হয়েছে। সরকার হওয়ার জন্য শপথ গ্রহন করার জন্য৷ উনি শপথ গ্রহন করলেন। আর দেশের অস্থায়ী সরকারে রুপান্তর হলেন।
#সরকার
#পর্ব১৩
#রুদ্র_সিয়াম