তোর অভিমান গুলো বুদবুদে জমা রেখে দিলাম।
খুব মেঘ জমলে বাতাসে টেনে আনবো অভিমানগুলো।
অভিমান করে চলে গেলি, বড় অভিমানী মেয়ে আমার।
যখন খুব যন্ত্রনা হচ্ছিল পৃথিবীর বাতাস বুকে টানতে
যখন হৃদস্পন্দন কমে আসছিলো খুব ধীরে ধীরে
আমি জানি কী ভীষন অভিমান জমেছিলো তোর।
তোর জন্য,
একটা পুরো পৃথিবী তৈরি করতে চাচ্ছিলাম যখন,
কুটিল পৃথিবী ঝাট দিয়ে সুগম পথের কথা ভেবেছি যখন,
হায় তখন,
তোর শ্বাসের বাতাস, তোর ছোট পেটের খাবার
তোর আর সব ক্ষুদ্র চাওয়ার জোগান নিশ্চিত করিনি
তোর সামান্য ছোট পৃথিবীটাই নিরাপদ করতে পারিনি।
এই জঘন্য সমাজে কী বিষাদের পথ, তাই কোনদিন
সেই পথে নতুন প্রাণ এনে তাকে বিপদে ফেলতে চাইনি,
তোর ছোট্ট বুকে সেই অভিমান জমার কথা না জানি।
তবু তোর সব অভিমান আমি বাতাসের বুদবুদে
জমা রেখে দেবো যত আছে জানা অজানা,
আমাকে ক্ষমা করিসনা, ক্ষমা করলে আমার কাছে
তোর রেখে যাওয়া কিছুই অবশিষ্ট কিছুই থাকবেনা।
মেয়ে আমার, জানিস তোর একটা নাম আছে,
'নাম নেই' বলে অভিমান রাখতে পারতিনা কিন্তু।
তোর সে নাম আমি আর তোর মা ছাড়া কেউ জানেনা।
আর কোনদিন কাউকে জানাবো না সে ডাকনাম।
মাঝে মাঝে বুদবুদের মেঘ ভারী হলে বাতাসে টান দেবো,
আমার মত পাষান হৃদয়ে একটু করে বৃষ্টির জল পরবে,
আর ডাকনামে ডাকবো কখনও সখনও, বুদবুদ বার্তা।
মা'কে ক্ষমা করিস, সে যে কি অসম্ভব ভালোবাসে তোকে,
আমার মনে হয় তোর কোন ক্ষোভ নেই মায়ের উপর,
তুই যেমন অভিমানটা বুঝতে শিখেছিলি, ভালোবাসাটাও।
কিন্তু আমাকে ক্ষমা করিস না, তোর শেষ অভিমানটুকুই
আমার জন্য তোর রেখে যাওয়া শেষ সম্বল।
তুই বুঝে নিস না হয়,
একটা পাষান বাপ তোকে ভালোই বাসেনি।