Posts

উপন্যাস

মেরি শেহজাদি

May 24, 2026

Jannatul

22
View

পর্ব -০২

গ্রামের একমাত্র ছেলে শেখর ভদ্র শভ্য, মার্জিত পরিপাটি যার জন্যে সবাই তাকে চিনতো।কিছু মেয়েমানুষের কল্পনার প্রেমিক ও ছিল সে। শহর থেকে পড়াশোনা করে এসেছে। গ্রামে সুনাম ছড়িয়ে পরেছে চারিদিকে। জমিদার বাড়িতে ৩ জমিদারের সাথে নাড়ু মুরি খাচ্ছে । মূলত তারা শেখরকে ডেকেছে তার সাথে কথা বলার জন্য। তার পড়াশোনা, এরপর কি করবে, তার বিয়েশাদি ভালোমন্দ নিয়ে কথা বলছিল।তারা শেখরকে তাদের ব্যাবসাতে কাজের জন্যও বলেছে। কারণ একজন দায়িত্বশীল আর পড়াশোনা করা লোক তদের ও দরকার।

বড় জমিদার আলতাফ যার যার ১ ছেলে দুই মেয়ে। ইমরাজ , ইমা আর আয়রা। ইমার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে আর ইমরাজ বিবাহিত। আয়রা আর ইশরা সমবয়সী। দুজনই ষোড়শী।তবে ইশরার সবেমাত্র ষোল আর আয়রা ৬ মাসের বড়। মেজো জমিদার আশরাফ যার এক ছেলে মেয়ে ইশরা আর ইফাদ। ছোট জমিদার আফতাফ যে দুই ভাইয়ের চেয়ে একটু বেশি ছোট যার কেবল এগারো বছরের ছেলে সীমন্ত। 

ইফাদ আর শেখর প্রানের দুই বন্ধু। তারা সমবয়সী আর একসাথে লেখাপড়া করেছে। সেই থেকে শেখরের জমিদার বাড়িতে যাওয়া আসা। তাছাড়া আর এক সম্পর্ক রয়েছে তার এ বাড়ির সাথে। শেখরের নানী আর জমিদার গিন্নী নুরজাহান ছিলেন সৎ বোন। নুরজাহান বেগমের মা মারা যাওয়ার পর তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। কিন্তু তারা আপন বোনের মতো ছিল তার সৎ মাও তাকে ভালেবাসতো । নুরজাহান বেগমও শেখর কে নিজের নাতির মতো ভালোবসেন। এমনকি জমিদার বাড়ির সাবই তকে ভলোবসে।
স্কুল পাশ করে শেখর শহরে চলে যায়। আর ইফাদ তাদের ফসল, ব্যাবসার দেখা শোনা আর হাল ধরতে শেখে।তাদের জমিদার কাজ প্রথা। 
কথোপকথন শেষে শেখর ইফাদ এর রুমে এসে বসেছে। অনেক দিন পর দুই বন্ধুর দেখা হয়েছে। অনেক গল্প আছে তাদের। কিন্তু ইফাদ গেছে গোসলে। কাজ শেষে গোসল করতেই হবে।
শেখর বিছানার আধ শোয়া হয়ে চোখ বন্ধ করে নিজেকে পাখা দিয়ে বাতাস করছে। ইতিমধ্যে ইশরা রুমে প্রবেশ করে চা নিয়ে। শেখর দিকে চা দিয়ে ডেকে ওঠে,,

"শেকর ভাই আপনার চা মা পাঠিয়েছে।"

শেখর চোখ খুলো চাটা নেয়। ইশরা চলে যাওয়ার জন্যে পা বাড়ালে শেখর বলে, 
"তো জমিদার বেটি,"
"আমার নাম আছে"

"ও হে ইশরা বসো দুদন্ড কথা কই"
"আমি বসবো না। আপনি যা বলতে চান বলেন। "

চায়ে চুমুক দিতে দিতে বলে "শুনলাম পড়াশোনা নাকি ঠিমতো করছো না ১ নাম্বারের জন্য নাকি ইংলিসে ফেল করোনি। "
"হুম। আমি তো আর আপনার মতো পড়াশোনা করে শহরে যাব না তাই ঠিকঠাক করে পড়াশোনা করি না।"

"তা কি শ্বশুরবাড়ি যাবে"

"হুম, সব মেয়েরা তো শ্বশুর বাড়ি যায়। তাই আমিও যাব। চিন্তা করবেন না আমি শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার সময় আপনাকে এক সপ্তাহ আগে থেকে দাওয়াত দিবো। আর বাচ্চা কাচ্চা হলে তাদের আকিকাতেও দাওয়াত দিবো আপনাকে। তদের আকিকাতেও আপনাকে দিয়ে গোস্ত বিলাবো সারা এলাকায়।"
বলে ইশরা চলে যায়। শেকর চা না খেয়ে ইশরার চলে যাওয়ার দিকে আাহাম্বকের মতে তাকিয়ে থাকে তারপর ফিক করে হেসে ফেলে।
কিছুক্ষণ পরে ইফাদ রুমে ডুকে শেখরকে একা একা হাসতে দেখে। "তুই কি ভুতের সাথে কথা বলে হাসছিস নাকি"
"তোর বাবকে রাজি করাবি তোর বনকে এবার বউ করে নিয়ে যাব"
ইফাদ বুঝতে পারলো ইশরার সাথে কিছু হয়েছে। আগেও ইশরার সাথে কিছু নিয়ে ঝামেলা হলে সে এই কথাই বলতো। ইশরা একবার শুনেছিল এই কথা বলতে।এই নিয়ে তাদের আরেক কদম ঝমেলা হইছিল।এটা নিয়ে কেউ কিছু মনেও করে না।
"সে না হয় বাবাকে বলে রাজি করাবো। কিন্তু আমার এমন উড়নচণ্ডী বনকে বউ বনিয়ে ঘরে নিলে তোর সংসার ও উড়ে যাবে।" 
বলেই দুজন হাসতে থাক।
চলবে........।



 

Comments

    Please login to post comment. Login