Posts

উপন্যাস

এক ছাতার নিচে। পর্ব: ৩৬

May 24, 2026

busra islam

10
View

#গল্প- এক ছাতার নিচে 

#লেখিকা - বুশরা নাদরাহ 

 #পর্ব - ৩৬  

আজকে বৃহস্পতিবার।   সপ্তাহের শেষ রাত মানেই রায়হানদের মাঝে মাঝে আড্ডা বসে। 

  টং দোকানের বেঞ্চ, এক কাপ চা, আর পাশে জ্বলতে থাকা মৃদু বাল্বের আলো। 

  রাস্তায় হালকা গাড়ির শব্দ, পাশের মসজিদ থেকে মাগরিবের পরের আযানটা ভেসে আসছে।    বন্ধুরা সবাই হাজির। 

ইহান,,,রায়হান,,,,সায়েম,,, মাহিন ।   আড্ডা শুরু হলে গল্পের শেষ থাকে না।   

কারো কলেজের গল্প, কারো টিউশনের ঝামেলা, কারো আবার ক্রাশের কাহিনি।   হাসি-ঠাট্টা, টিপ্পনি, আর মাঝে মাঝে একসাথে হো হো করে হাসা।     

 হঠাৎ করেই সায়েম  বাঁকা হেসে রায়হানের দিকে তাকায়।

   "আচ্ছা রায়হান, তুই যে ঐ দিন বললি তর একটা মেয়েকে পছন্দ। প্রেম-টেম চলছে নাকি?

  সাথে সাথে ইহান আর মাহিন ও তাল মিলায়।   

"হ্যাঁ রে, আমরাও জানতে চাই।  

রায়হান বলল "আরে এমন কিছু না।  

সায়েম বলে উঠে না বন্ধু আর লুকায়ে লাভ নাই।বল বল।  রায়হান প্রথমে হাসে, চায়ের কাপে চুমুক দেয়।   

মনে মনে ভাবে, কী বলবে। সত্যি বললে ওরা পাগল করে ফেলবে। মিথ্যা বললেও ধরা পড়ে যাবে।  

মাহিন ওর কাঁধে চাপড় মারে। 

  "দেখ ভাই, আমরা তোর খারাপ চাই না। শুধু একবার দেখাইয়া দে। প্রেমিকা থাকা গর্বের জিনিস, লুকানোর কী আছে?

 সায়েম আর ইহান ও যোগ দেয়, "হ্যাঁ রে। 

আমরা তো শুধু একবার সালাম দিয়েই চলে আসবো। প্রমিস।   

রায়হান জানে এটা প্রমিস না, এটা ফাঁদ।   একবার দেখাইলে এরা পুরা সপ্তাহ ওই একটা টপিক নিয়েই আমার মাথা খাবে।   

তবুও ওদের চোখের কৌতূহল দেখে হাসি চেপে রাখতে পারল না।  অনেকক্ষণ চুপ থাকার পর ও ধীরে ধীরে বলে,  

 "আচ্ছা ঠিক আছে । কালকে বিকালে দেখা করিয়ে দিব। 

 কথাটা বলা মাত্রই চারপাশে হৈচৈ পড়ে যায়।   

"সায়েম মাহিন ইহান তিনজন এক সাথে চিল্লিয়ে বলে উঠলো সিরিয়াসলি?!

  "কোথায়? কখন? নাম কী? কোন ডিপার্টমেন্ট?প্রশ্নের বন্যা।  

রায়হান হাত তুলে থামায়।   "শোন, বেশি বাড়াবাড়ি করবি না। রমনা পার্কে, বিকাল ৫টায়। 

  সায়েম ফিসফিস করে বলে, "রমনা পার্ক... জায়গাটা তো পারফেক্ট। রোমান্টিক। সবাই আবার হাসে।  কিন্তু রায়হানের ভেতরটা ঠিক হালকা লাগে না।  

 কারণ ইনায়াকে এখনো কিছু বলেনি।   সে রাজি হবে কিনা, এতো মানুষের সামনে আসতে কমফোর্টেবল ফিল করবে কিনা— কিছুই জানে না।    

যদি রাগ করে? যদি বলে, "আপনি আমাকে কেন বন্ধুদের কাছে এক্সপোজ করলেন? ভাবতেই বুকের ভেতরটা চিনচিন করে। 

 তবুও রাতের আড্ডাটা আজ জমে যায়। 

  বন্ধুরা প্ল্যান করে কালকে কে কি করবে, কেমন করে করবে? রায়হান শুধু চুপ করে শোনে আর মাঝে মাঝে মাথা নাড়ে।

  রাত যখন গভীর হয়, আড্ডা ভাঙে।   বাড়ি ফেরার পথে রায়হানের মাথায় ঘোরে শুধু একটাই কথা—   কালকে বিকাল ৫টা, রমনা পার্ক।  

  ইনায়াকে এখন বলতেই হবে। কিন্তু কীভাবে বলবে? রাজি করাবে কীভাবে? ফোনটা পকেটে কাঁপে।   ইনায়ার মেসেজ—  

"আমার আজকের পড়া শেষ। 

 রাতে বাড়ি ফিরে রায়হান ফোনটা হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ বসে থাকে।   ইনায়ার লাস্ট মেসেজ।  রিপ্লাই দিতে গিয়েও ডিলিট করে দেয়।   কীভাবে বলবে কালকে বিকালে রমনা পার্ক এ আসতে হবে… আর আমার সাথে বন্ধুরাও থাকবে।  

অনেক সাহস করে রায়হান  লিখে৷ 

  "ইনায়া, কালকে বিকাল ৫টায় রমনা পার্ক  এ আসতে পারবা?  

 5 মিনিট… 10 মিনিট… মেসেজ সিন হয় কিন্তু রিপ্লাই নাই। 

  রায়হানের বুক ধড়ফড় করছে।  

  হঠাৎ রিপ্লাই আসে৷ 

"কেন? কোন প্রবলেম?  

রায়হান মিথ্যা বলে না।সত্যি টাই লিখে দেয়৷ 

"আসলে… আমার বন্ধুরা. জানতে চায় আমার প্রিয় মানুষ টা কে? কালকে ওরা থাকবে। যদি তোমার আনকমফর্টেবল লাগে তাহলে ক্যানসেল করে দেই?   

 এবার রিপ্লাই সাথে সাথে আসে। 

  "… আচ্ছা আসব। 

কিন্তু..........  

" কিন্তু কি?  

 " আমি বিকেলে বাসা থেকে বের হবো কিভাবে?  

 " ওহ আচ্ছা তাহলে আমি আরিশা কে পাঠিয়ে দিবো?  

" আচ্ছা। তবে.......

 " আবার কি?   

" আমি আরিশা কে সাথে নিয়ে যাই? 

  " আচ্ছা নিয়ে এসো।

 " আচ্ছা। 

 ধিরে ধিরে কথা বলতে বলতে ইনায়া কখন ঘুমিয়ে পরেছে সে নিজেও জানে না।

Comments

    Please login to post comment. Login