আজকে বৃহস্পতিবার। সপ্তাহের শেষ রাত মানেই রায়হানদের মাঝে মাঝে আড্ডা বসে।
টং দোকানের বেঞ্চ, এক কাপ চা, আর পাশে জ্বলতে থাকা মৃদু বাল্বের আলো।
রাস্তায় হালকা গাড়ির শব্দ, পাশের মসজিদ থেকে মাগরিবের পরের আযানটা ভেসে আসছে। বন্ধুরা সবাই হাজির।
ইহান,,,রায়হান,,,,সায়েম,,, মাহিন । আড্ডা শুরু হলে গল্পের শেষ থাকে না।
হঠাৎ করেই সায়েম বাঁকা হেসে রায়হানের দিকে তাকায়।
"আচ্ছা রায়হান, তুই যে ঐ দিন বললি তর একটা মেয়েকে পছন্দ। প্রেম-টেম চলছে নাকি?
সাথে সাথে ইহান আর মাহিন ও তাল মিলায়।
সায়েম বলে উঠে না বন্ধু আর লুকায়ে লাভ নাই।বল বল। রায়হান প্রথমে হাসে, চায়ের কাপে চুমুক দেয়।
মনে মনে ভাবে, কী বলবে। সত্যি বললে ওরা পাগল করে ফেলবে। মিথ্যা বললেও ধরা পড়ে যাবে।
"দেখ ভাই, আমরা তোর খারাপ চাই না। শুধু একবার দেখাইয়া দে। প্রেমিকা থাকা গর্বের জিনিস, লুকানোর কী আছে?
সায়েম আর ইহান ও যোগ দেয়, "হ্যাঁ রে।
আমরা তো শুধু একবার সালাম দিয়েই চলে আসবো। প্রমিস।
তবুও ওদের চোখের কৌতূহল দেখে হাসি চেপে রাখতে পারল না। অনেকক্ষণ চুপ থাকার পর ও ধীরে ধীরে বলে,
"আচ্ছা ঠিক আছে । কালকে বিকালে দেখা করিয়ে দিব।
কথাটা বলা মাত্রই চারপাশে হৈচৈ পড়ে যায়।
"সায়েম মাহিন ইহান তিনজন এক সাথে চিল্লিয়ে বলে উঠলো সিরিয়াসলি?!
"কোথায়? কখন? নাম কী? কোন ডিপার্টমেন্ট?প্রশ্নের বন্যা।
রায়হান হাত তুলে থামায়। "শোন, বেশি বাড়াবাড়ি করবি না। রমনা পার্কে, বিকাল ৫টায়।
যদি রাগ করে? যদি বলে, "আপনি আমাকে কেন বন্ধুদের কাছে এক্সপোজ করলেন? ভাবতেই বুকের ভেতরটা চিনচিন করে।
তবুও রাতের আড্ডাটা আজ জমে যায়।
ইনায়াকে এখন বলতেই হবে। কিন্তু কীভাবে বলবে? রাজি করাবে কীভাবে? ফোনটা পকেটে কাঁপে। ইনায়ার মেসেজ—
"ইনায়া, কালকে বিকাল ৫টায় রমনা পার্ক এ আসতে পারবা?
5 মিনিট… 10 মিনিট… মেসেজ সিন হয় কিন্তু রিপ্লাই নাই।
রায়হান মিথ্যা বলে না।সত্যি টাই লিখে দেয়৷
" আমি বিকেলে বাসা থেকে বের হবো কিভাবে?
" ওহ আচ্ছা তাহলে আমি আরিশা কে পাঠিয়ে দিবো?
ধিরে ধিরে কথা বলতে বলতে ইনায়া কখন ঘুমিয়ে পরেছে সে নিজেও জানে না।