Posts

গল্প

ইলুমিনাটি (পর্ব ০১) রুদ্র সিয়াম

May 25, 2026

Rudro Siyam

Original Author রুদ্র সিয়াম

12
View

নিহাল ইলুমিনাটিদের থেকে একটা ই-মেইল পেলেন। উনাকে নিউইয়র্কে আমন্ত্রণ করা হয়েছে। নিহাল একজন বাংলাদেশী বংশধর ছেলে (তার পিতা বাংলাদেশী,  মা স্পেনের)।

নিহালের জন্মও শ্পেনেই হয়েছে। তার বাবা তখন ব্যবসা করে বিলিওনিয়ার হয়েছে মাত্র। তবে নিহাল তার বাবার সঙ্গ বেশিকাল পেল না। ১৮ বছরেই নিহালের বাবা মারা যায়। আর তাকে ব্যবসায় হাত ধরতে হয়। এখন তার বয়স ২৮। সবসময় নিহাল ইলুমিনাটি গোপন সংস্থার কথা জেনে এসেছে। সেই ইলুমিনাটি ই তাকে জিমেইল করে সেখানে আমন্ত্রণ জানিয়েছে দেখে নিহাল খুবই কৌতুহলী হয়ে উঠলো।

ইন্টারনেটে ঘাটাঘাটি করে নিহাল দেখলো এদের ব্যপারে। ইলুমিনাটিরা নাকি শয়তানের পূজা করে। এখানে যেকেউ অংশ নিয়ে পারে না। শুধু বিশ্বের প্রভাবশালী টাকাওয়ালা লোকই এই গ্রুপের সদস্য হতে পারে।

মায়ের থেকে বিদায় নিয়ে নিহাল বিমানে উঠে নিউইয়র্কে পৌছালো তখন সূর্য ডুবে যাচ্ছে। বিমান থেকে এয়ারপোর্টে দেখলো একটা কালো সানগ্লাস ও কোর্টপড়া লোক হাতে সাইনবোর্ডে তার নাম নিয়ে দাড়িয়ে আছে।

নিহাল লোকদের সাথে পরিচয় হলো। হ্যন্ডশেক করে বলল, আমি ই নিহাল।

লোকটা বলল, স্যার। আপনাকে নিউইয়র্কে স্বাগতম।

তারপর লোকটার সাথে কালো গাড়িতে করে নিউইয়র্কের একটা গোপন সূড়ঙ্গ দিয়ে তারা মাটির নিচে একটা রাস্তা দিয়ে যেতে লাগলো। টানেল এর আশেপাশে তাকিয়ে নিহাল দেখতে লাগলো যতদূর গাড়ির আলো পৌছায়। পুরো টানেলটা অন্ধকার। গাড়ির আলোতে দেখা গেল দেয়ালে স্প্রে দিয়ে আর্ট করা ড্রাগন। তাও লাল ড্রাগন।

নিহাল বলল, এইটা কি কোন গোপন সূড়ঙ্গ?

লোকটা মুচকি হাসলো। কোন জবাব দিল না। নিহালও আর কথা বাড়ায় না।

টানেল এর শেষে আবার গাড়ি মেইন রাস্তায় আসলো। চারিদিকে উচু উচু বিল্ডিং ও ফ্লাই ওভার। তাদের গাড়ি থামলো একটা বিল্ডিং এর নিচে। সাইনবোর্ড টা দেখলো নিহাল 'ইলুমিনাটি চার্চ'। নিহাল হাসলো। ইলুমিনাটি চার্চ দেখে মনে হয় কোন ধর্মীয় জায়গা। তবে এখানে সব অধার্মিক কাজ হয়। মনে মনে বলল নিহাল।

গাড়ি থেকে নেমে তারা বিল্ডিংয়ে প্রবেশ করলো। সিকিউরিটি তাদের চেক করে যেতে দিল। সেই বিল্ডিংয়ের লিফটে উঠে। তারা একদম -২০ তলায় নামলো। নিহাল বুঝলো তার মানে চার্চটা মাটির নিচে। কেউ বিল্ডিংয়ে ঢুকলে সেটা খুঁজে পাবে না। ভালো বুদ্ধি এদের।

লিফ্টের দরজা খুলে গেল। বিশাল এক হলরুম। পুরো দেয়াল জুড়ে  ছবি আকা রয়েছে। এক বয়স্ক লোক এগিয়ে এলো কোর্ট টাই পড়া।

বয়স্কটা  হাত বাড়িয়ে বলল, আমি এখানের ফাদার আপনাকে স্বাগতম ইলুমিনাটি চার্চে।

নিহালের হাসি পাচ্ছে। উনি নাকি ফাদার। তাও ধর্মীয় পোষাক পড়েনি। আর এখানে শয়তানের মূর্তিও দেখলো না আশেপাশে।

হ্যন্ডশেক করে নিহাল বলল, জ্বী। ফাদার। আপনার ধর্মীও পোষাক পড়েননি কেন?

ফাদার এর ঠোঁটের কোনায় হাসি রেখে বললেন, ধর্ম কি? জীবন পরিচালনার ব্যবস্থাপনা। আমরা কোন ধর্ম মানি না।

ধর্ম মানে না। নিহালের সেটা আগেই সন্দেহ হয়েছিল।
নিহাল বলল, তাহলে আপনারা কি মানেন?

ফাদার শান্ত স্বরে বলল, নিষিদ্ধ জ্ঞান।

নিহালের চোখ বড় বড় হয়ে গেল। তার প্রচন্ড কৌতুহল হলো কি সেই জ্ঞান? প্রশ্ন করলো সে।

ফাদার বলল, নিষিদ্ধ জ্ঞান যা লুকিয়ে রাখা হয়েছে সাধারন মানুষের থেকে বছরের পর বছর।

নিহাল বলল, কেন? জ্ঞান তো লুকিয়ে তো রাখার জিনিস না।

ফাদার আফসোস করে বলল, ইলুমিনাটি মানে কি বোঝো? ইলাইটমেন্ট। আলোর পথ। এই জ্ঞান সবাই নিতে পারবে না।

কৌতুহল হয়ে নিহাল বলল, আমি এই জ্ঞান নিতে চাই।

তারপর ই ভয় পেল সে। কারন নিহাল তো জ্ঞান নিতে আসেনি। সে তো এটাও জানে না তাকে কেন এখানে আমন্ত্রিত করা হয়েছে।

ফাদার বললেন, অবশ্যই। প্রতিটা বিলিওনিয়ার দের এই জ্ঞান নেওয়া অবশ্যক। তার মানে তুমি একজন। সত্যের জ্ঞান সবার মাঝে থাকুক।

নিহাল বলল, তাহলে জ্ঞান দেন আমাকে।

ফাদার বললেন, এভাবে না। তুমি তোমার জামা পাল্টে সাদা পোষাক পড়ো। তারপর ওই ৫নম্বরে রুমে যাও। সেখানে দেখবে বাফোমেট এর মূর্তি। সেই মূর্তির সামনে একটা স্টার আকানো বিশাল। সেই স্টারের ওপর বসো।

নিহালের ঠোঁটের কোনায় হাসি রেখে বলল, আমি আগেই জানতাম আপনারা শয়তানের পূজা করেন।

রেগে ফাদার বললেন, বাফোমেট কোন শয়তান না। সেটা জ্ঞানের প্রতিক। আমি তো আগেই বলেছি এই জ্ঞান সাধারন মানুষের জন্যে না।

#ইলুমিনাটি
#পর্ব_১
#রুদ্র_সিয়াম

Comments

    Please login to post comment. Login