বিকেলের দিকে আরিশা ইনায়াকে নিতে এল। রিকশা থেকে নেমে ইনায়ার বাসার সামনে দাঁড়াল।
ইনায়া আজ আকাশি রঙের জামা পরেছে। হাঁটু ছোঁয়া খোলা চুল বাতাসে দুলছে। কানে ছোট ঝুমকা।
"ইনু, আজ শুধু ভাই না, ভাইয়ের বন্ধুরাও তোকে দেখে পাগল হয়ে যাবে।
"ধুর আরু, কি যে বলিস! এমন কিছু হবে না।
রমনা পার্কের গেটে রিকশা থামল। ভাড়া মিটিয়ে দুজন ভেতরে ঢুকল।
আরিশা আর ইনায়া ঢুকতেই দেখল – বটগাছের নিচে রায়হান আর ওর বন্ধুরা বসে হাসছে।
ইনায়া চুপ করে আছে।কোন কথাই বলল না । সামনে ইহান দাঁড়ানো। রায়হানের পাশে।
মুহূর্তেই সবাই চুপ হয়ে গেলো । রায়হান বড় বড় চোখে করে তাকিলো।
ইনায়ার ভাবনার মাঝেই ইহান আবার ধমক দিল,
"কি হল? কথা বলছিস না কেন? কার সাথে দেখা করতে এসেছিস?
" দাভাই, আমি আরু এমনিই ঘুরতে এসেছি।
ইহান ইনায়াকে বকছে দেখে রায়হানের খারাপ লাগল। সে আস্তে বলল,
"কি বললি? ইনায়া তোর গার্লফ্রেন্ড?
"ইনায়া, রায়হান যা বলল তা কি সত্যি?
ইনায়া কাঁপা গলায় বলল, “আ… আসলে দাভাই… সত্যি। আমিও রায়হানকে ভালোবাসি।
এটাই ইনায়ার প্রথম, দাভাইয়ের সামনে এভাবে কথা বলা।
সায়েম, মাহিন, আরিশা সব চুপ। ওরা জানে ইহান রাগলে পাগল হয়ে যায়। পরে আফসোস করে।
হঠাৎ ইহান রাইহানের কলার চেপে ধরল,
"তুই আমার বোনের সাথে প্রেম করস?
রাইহানের গলা শুখায় গেছে। হাত পা কাপছে
" ভাই..........শোন........ তুই ভুল বুজতাসোছ......
" কি শুনমু? আমার বন্ধু হয়ে আমার বোনের দিকে তুই কিভাবে হাত বারাইতে পারলি?
ইহানের গলা কাপতাছে। রাগে নাকি কষ্টে বোঝা যাচ্ছে না।
ইহান রাইহান কে ধাক্কা দিয়ে ছেড়ে দিল।
"ভাই, মাথা ঠান্ডা কর। রায়হান ভালো ছেলে।
"তোরা চুপ কর! এখন আমি তোদের থেকে শুনব? কে ভালো আর কে খারাপ।
এই কথা বলেই ইহান ইনায়ার গালে এক থাপ্পড় দেয়।
রায়হান সাথে সাথে ইহানের হাত চেপে ধরল,
"ইনায়াকে আর একবারও মারবি না। মারলে খারাপ হবে।
"তুই শিখাবি আমি আমার বোনের সাথে কেমন আচরণ করব?
সায়েম আর মাহিন টেনে দুজনকে আলাদা করল।
ইহান ইনায়ার হাত ধরে টানতে টানতে বলল,
ইনায়া আর কিছুই বলল না। চুপচাপ ইহানের সাথে চলে গেলো।
বাসায় ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে গেলো। যে যার রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলো।
রায়হান কেন দাভাইয়ের বন্ধু হল… এখন কি হবে? আমি রাইহান কে ছাড়া কিভাবে থাকব?