Posts

উপন্যাস

এক ছাতার নিচে।পর্ব:৩৭

May 25, 2026

busra islam

10
View

#গল্প- এক ছাতার নিচে

 #লেখিকা- বুশরা নাদরাহ  

#পর্ব - ৩৭  

 বিকেলের দিকে আরিশা ইনায়াকে নিতে এল। রিকশা থেকে নেমে ইনায়ার বাসার সামনে দাঁড়াল।   

 ইনায়া আজ আকাশি রঙের জামা পরেছে। হাঁটু ছোঁয়া খোলা চুল বাতাসে দুলছে। কানে ছোট ঝুমকা।   

 আরিশা হেসে বলল,   

"ইনু, আজ শুধু ভাই না, ভাইয়ের বন্ধুরাও তোকে দেখে পাগল হয়ে যাবে।

   ইনায়া হাসতে হাসতে বলল, 

"ধুর আরু, কি যে বলিস! এমন কিছু হবে না।

  রিকশায় বাতাসে ইনায়ার চুল উড়ছে। রাস্তার পাশে শিউলির মিষ্টি গন্ধ। আজকের আবহাওয়া একদম পারফেক্ট – না গরম, না ঠান্ডা।

  রমনা পার্কের গেটে রিকশা থামল। ভাড়া মিটিয়ে দুজন ভেতরে ঢুকল।   

সবুজ ঘাস, লেকের পানি, হাঁস সাঁতার কাটছে। সূর্য গাছের মাথায় হেলে পড়েছে। আলো এখন নরম। লেকের পানিতে ঝিকঝিক করছে। ঠান্ডা বাতাস বইছে।  চারপাশে কৃষ্ণচূড়ার পাপড়ি পড়ে আছে । দূরে কেউ গিটার বাজাচ্ছে। আকাশে সাদা মেঘ ভাসছে।

আরিশা আর ইনায়া ঢুকতেই দেখল – বটগাছের নিচে রায়হান আর ওর বন্ধুরা বসে হাসছে।  

  ইনায়া এক পা বাড়িয়েই থেমে গেল।   

আরিশা ফিসফিস করল, 

"কিরে, কি হল? চল।

  ইনায়া চুপ করে আছে।কোন কথাই বলল না ।   সামনে ইহান দাঁড়ানো। রায়হানের পাশে।

   ইহান দু’কদম এগিয়ে বলল,

"ইনায়া! তুই এখানে কেন?

  মুহূর্তেই সবাই চুপ হয়ে গেলো । রায়হান বড় বড় চোখে করে তাকিলো।   

মাহিন আস্তে করে বলল, 

"ইহান… ও কে?

ইনায়ার বুক কাঁপছে। মনে মনে ভাবছে, দাভাই এখানে কেন? রায়হান কি তাহলে দাভাইয়ের বন্ধু! এখন কি হবে? এই আমি কি করলাম?  

 ইনায়ার ভাবনার মাঝেই ইহান আবার ধমক দিল, 

"কি হল? কথা বলছিস না কেন? কার সাথে দেখা করতে এসেছিস?

  ইনায়া আমতা আমতা করে বলল, 

" দাভাই, আমি আরু এমনিই ঘুরতে এসেছি।

  "মিথ্যা বলবি না। সত্যি বল।

ইহান ইনায়াকে বকছে দেখে রায়হানের খারাপ লাগল। সে আস্তে বলল,   

"ইহান, ওকে আর বকিস না। ইনায়া আমার সাথে দেখা করতে এসেছে। ও আমার গার্লফ্রেন্ড। আমি ওকে ভীষন ভালোবাসি।প্লিজ ভুল বুঝিস না।

ইহানের মাথায় আগুন জ্বলে উঠল, 

"কি বললি? ইনায়া তোর গার্লফ্রেন্ড?

"হ্যাঁ।

  ইহান এবার ইনায়ার দিকে তাকাল, 

"ইনায়া, রায়হান যা বলল তা কি সত্যি?

   ইনায়া কাঁপা গলায় বলল, “আ… আসলে দাভাই… সত্যি। আমিও রায়হানকে ভালোবাসি।

   এটাই ইনায়ার প্রথম, দাভাইয়ের সামনে এভাবে কথা বলা। 

 সায়েম, মাহিন, আরিশা সব চুপ। ওরা জানে ইহান রাগলে পাগল হয়ে যায়। পরে আফসোস করে।  

হঠাৎ ইহান রাইহানের কলার চেপে ধরল, 

"তুই আমার বোনের সাথে প্রেম করস?  

 ইহানের চোখ লাল। শার্টের হাতা গোটানো। সামনে দাড়ানো রাইহানের কলার চেপে ধরা । বন্ধুরা সবাই সামনে দাঁড়ানো ওদের দিকে তাকিয়ে আছে।   

রাইহানের গলা শুখায় গেছে। হাত পা কাপছে

" ভাই..........শোন........  তুই ভুল বুজতাসোছ......

"  কি শুনমু?  আমার বন্ধু হয়ে আমার বোনের দিকে তুই কিভাবে  হাত বারাইতে পারলি? 

 ইহানের গলা কাপতাছে। রাগে নাকি কষ্টে বোঝা যাচ্ছে না।

 ইহান রাইহান কে ধাক্কা দিয়ে ছেড়ে দিল।

 সায়েম মাহিন বলল, 

"ভাই, মাথা ঠান্ডা কর। রায়হান ভালো ছেলে। 

ইহান চিৎকার করল, 

"তোরা চুপ কর! এখন আমি তোদের থেকে শুনব? কে ভালো আর কে খারাপ।

ইহান ইনায়ার দিকে তাকিয়ে বলল, 

"তোর জন্য আমি বন্ধুদের কখনো বাড়িতে নেই নি। সবসময় তোকে আগলে রেখেছি। আর তুই কিনা আমার বন্ধুর সাথেই প্রেমম করছ।

এই কথা বলেই ইহান ইনায়ার গালে এক থাপ্পড় দেয়।

 রায়হান সাথে সাথে ইহানের হাত চেপে ধরল, 

"ইনায়াকে আর একবারও মারবি না। মারলে খারাপ হবে।

   ইহানের রাগ আরও বাড়ল, 

"তুই শিখাবি আমি আমার বোনের সাথে কেমন আচরণ করব?

 সায়েম আর মাহিন টেনে দুজনকে আলাদা করল। 

 ইহান ইনায়ার হাত ধরে টানতে টানতে বলল, 

"চল বাড়ি,চল।

ইনায়া আর কিছুই বলল না। চুপচাপ ইহানের সাথে চলে গেলো। 

বাসায় ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে গেলো। যে যার রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলো। 

  ইনায়া কাঁদতে কাঁদতে ভাবছে,

 রায়হান কেন দাভাইয়ের বন্ধু হল… এখন কি হবে? আমি রাইহান কে ছাড়া কিভাবে থাকব? 

Comments

    Please login to post comment. Login