Posts

গল্প

ভাড়া বাড়ির ৪ নম্বর ঘর

May 25, 2026

Maria Prapti

13
View

ঢাকায় মাস্টার্স করতে আসা আরিফ সস্তায় একটা মেস পেল ধানমন্ডির পুরোনো একটা বাড়িতে। বাড়ির মালিক কাকু বললেন, "নিচের তিনটা ঘর খালি আছে। ৪ নম্বর ঘরটা নিও না বাবা।"

আরিফ হাসল। "ভূতের গল্প নাকি?"

কাকু কিছু বললেন না। শুধু চাবিটা দিয়ে বললেন, "ভাড়া কম রাখব। কিন্তু রাত ১২টার পর দরজা খুলো না।"

আরিফ ভাবল বুড়ো মানুষের বাতিক। ও উঠল ৪ নম্বর ঘরেই। ভাড়া অর্ধেক।

প্রথম রাতটা শান্তিতে কাটল। দ্বিতীয় রাতে ঠিক ১২টা বাজতেই ঘরের ভেতর থেকে ঠকঠক শব্দ।  
যেন কেউ দরজায় নখ দিয়ে আঁচড়াচ্ছে।

আরিফ দরজা খুলল। কেউ নেই। শুধু করিডোরের শেষ মাথায় একটা বাচ্চা মেয়ে দাঁড়িয়ে। সাদা ফ্রক, চুল খোলা। আরিফ ডাকতেই মেয়েটা দৌড়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে গেল।

পরদিন বাড়িওয়ালা কাকুকে জিজ্ঞেস করল, "আপনার নাতনি আছে নাকি?"

কাকুর মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেল। "আমার তো ছেলেমেয়ে নেই বাবা। ৪ নম্বর ঘরে যে মারা গিয়েছিল, ওর নাম ছিল রিয়া। ৮ বছর বয়স।"

আরিফের বুক ধক করে উঠল। "মারা গেল কিভাবে?"

"২০ বছর আগে। ওর বাবা-মা ঝগড়া করে ওকে ঘরে আটকে রেখে চলে গেছিল। আগুন লেগে পুড়ে মারা গেল। তারপর থেকে ও রোজ রাতে বের হয়।"

আরিফ বিশ্বাস করল না। কিন্তু রাতে আবার সেই ঠকঠক শব্দ। এবার দরজা খুলে দেখল রিয়া দাঁড়িয়ে। হাতে একটা পুরোনো পুতুল।  
ও ফিসফিস করে বলল, "ভাইয়া, আমার মা-বাবাকে ডেকে দাও। আমি একা ভয় পাই।"

আরিফের গলা শুকিয়ে গেল। "ওরা তো নেই রিয়া।"

রিয়ার চোখে পানি চলে এল। "জানি। কিন্তু ওরা বলেছিল ফিরে আসবে। ২০ বছর ধরে আমি অপেক্ষা করছি।"

পরদিন আরিফ পুরোনো পত্রিকা ঘেঁটে রিয়ার বাবা-মায়ের খোঁজ পেল। ওরা এখন কানাডায় থাকে। নতুন সংসার।  
আরিফ সাহস করে ফোন করল।  

ওপার থেকে মহিলা বলল, "রিয়া? ও তো মারা গেছে। আমরা ভুলে গেছি ভাই। নতুন জীবন শুরু করেছি।"

ফোনটা কেটে গেল।

সেই রাতে রিয়া আর এল না।  
আরিফ ভাবল বোধহয় শান্তি পেয়েছে।

কিন্তু এক সপ্তাহ পর রাত ১২টায় আবার ঠকঠক শব্দ।  
আরিফ দরজা খুলে দেখল রিয়া দাঁড়িয়ে। কিন্তু এবার ও একা না। পাশে একটা ছায়া।  

রিয়া বলল, "ভাইয়া, আমি মা-বাবাকে পাইনি। তাই ওনাকে নিয়ে এসেছি। উনি বলেছে উনি আমাকে আর কখনো একা রাখবে না।"

ছায়াটা ধীরে ধীরে এগিয়ে এল।  
আরিফ দেখল, ওটা ওর নিজের ছায়া। কিন্তু চোখ দুটো লাল।  

তারপর থেকে আরিফ আর কাউকে কিছু বলতে পারেনি।  
৪ নম্বর ঘরের দরজা এখনো বন্ধ।  

শুধু মাঝে মাঝে ভেতর থেকে একটা বাচ্চা মেয়ের হাসি শোনা যায়।  
আর একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের ফিসফিসানি—"আমরা একা নই।"

*শেষ*

---

Comments

    Please login to post comment. Login