Posts

উপন্যাস

এক ছাতার নিচে। পর্ব :৩৮

May 25, 2026

busra islam

13
View

#গল্প- এক ছাতার নিচ

  #লেখিকা- বুশরা নাদরাহ  

#পর্ব - ৩৮   

রাতের খাবারের সময় ফারহানা বেগম ইনায়াকে ডাকলেন। ইনায়া দরজা খুলল না। বলল,   

"আম্মু, ভালো লাগছে না… খাব না। 

 ইহানকেও ডাকলেন। ইহান এক কথায় বলল, 

"খাব না। 

 দুই ছেলেমেয়ে কেউ খেল না দেখে ফারহানা বেগম বকতে বকতে নিচে চলে গেলেন।  

ইনায়া বিছানায় বসে কাঁদছে। বারবার মনে হচ্ছে, ভাইয়া যদি আর রায়হানের সাথে কথা বলতে না দেয়… তাহলে আমি কিভাবে থাকবো?  

এদিকে রায়হান একের পর এক কল, মেসেজ দিচ্ছে। ইনায়া ধরছে না।  

 রায়হানের বুক কাঁপছে – ইহান কি ইনায়াকে আবার কিছু বলেছে? বাসায় জানিয়ে দিয়েছে?  

রাতটা কারোরই ভালো কাটল না। ইনায়া কাঁদতে কাঁদতে ঘু্মিয়ে পড়ে । চোখের কোণে শুকনো জলের দাগ। 

   ইহান নিজের রুমে চুপ করে বসে আছে। বারবার চোখে ভাসছে ইনায়ার কাঁদা মুখ, আর নিজের তোলা হাত। 

  নিজের চুল খামচে বলল,   

"আমি কি করে ফেললাম… ইনুকে কিভাবে মারলাম!    

সকালের রোদ জানালা দিয়ে ঢুকছে। ইনায়ার মুখে রোদ পড়ছে। আজ কলেজে যায়নি।

ফারহানা বেগম কয়েকবার ডাকলেন,  

" ইনায়া খাতে আয়…  ইনায়া সাড়া দিল না। বালিশে মুখ গুঁজে শুয়ে রইল।  

কিছুক্ষন পর দরজায় আবার কেউ ঠক  ঠক  শব্দ করল।  ইনায়া ভাবল আম্মু ।  

 “আসছি” বলে চোখ মুছে দরজা খুলল  দরজা খুলেই ইনায়া থমকে গেল।  

  সামনে ইহান।দুজনের চোখ এক হলো, কিন্তু কেউ কোন কথা বলল না। 

ইহান ধীরে ধীরে বলল,

 "ভেতরে আসতে দিবি? নাকি এভাবে দাঁড়িয়ে থাকবো? 

ইনায়া চুপচাপ সরে দাঁড়াল। 

ইহান ভেতরে ঢুকে চারদিকে তাকাল। ঘরটা এলোমেলো,  সচারাচর ইনায়ার ঘর এমন এলোমেলো থাকে না।  

ইহানের বুকটা হালকা কেঁপে উঠল। মনে মনে ভাবতে লাগল

 " এ কি করেলাম আমি আমার বনুর সাথে।  কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর ইহান ডাকলো 

"ইনু… কোন সাড়াশব্দ নেই ইনায়া মাথা নিচু করে আছে। ইহান একদম ইনায়ার সামনে এসে দাঁড়াল। 

নিচু গলায় বলল, 

"সরি… ইনু। তর সাথে খুব খারাপ করেছি। 

ইনায়া ধীরে ধীরে মুখ তুলল। 

ইহান এবার স্পষ্ট করে বলল, 

"আমি ভুল করেছি। তোকে ওভাবে মারা… আর ওইভাবে রিয়্যাক্ট করা, সবই ভুল ছিল।

 ইনায়ার চোখ ভিজে উঠল।

 ইহান আবার বলল, 

"সারারাত ঘুমাতে পারিনি। বারবার মনে হয়েছে,আমি আমার নিজের বোনকেই কিভাবে কষ্ট দিলাম। 

ইনায়ার কাঁপা গলায় বলে উঠল, 

"তুমি তো আমার কথা শুনতেই চাওনি…

 "হ্যাঁ।  ইহান মাথা নেড়ে বলল, 

"আমি শুধু রাগ দেখেয়েছি। তোর ভয়টা বুঝিনি। 

একটু থেমে সে ইহান গভীর নিঃশ্বাস নিল।

 "আর একটা কথা… তুই যেটা বলেছিস—রায়হানকে ভালোবাসিস… আমি সেটা মেনে নিচ্ছি।

 ইনায়া অবাক হয়ে তাকাল, 

"সত্যি দাভাই? 

ইহান হালকা হাসল,

 "হ্যাঁ। আমি আমার বোনকে সব সময় হাসি খুশি দেখতে চাই, আর রায়হান কে আমি চিনি। ও তোকে অনেক ভালোবাসে।  

এই কথাটা শুনেই ইনায়ার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল।

 ইনায়া  ইহানকে জড়িয়ে ধরল, 

"আমি ভাবছিলাম তুমি আমাকে বলবে রায়হানের সাথে কথা বলতে না।  

ইহান শক্ত করে ইনায়া কে জড়িয়ে ধরল, 

"পাগলি! তুই আমার সব। তুই আমার কলিজার টুকরা।  

ইহান একটু সিরিয়াস হয়ে বলল,

 " আমার আজই রায়হানের সাথে কথা বলতে হবে।বেচারায় মনে হয় চিন্তাই শেষ হয়ে যাইতাছে। বোন জামাই বলে কথা,,। 

 ইনায়ার মুখে হালকা স্বস্তি ফুটে উঠল।  

ইহান দরজার দিকে এগিয়ে গেল। বের হওয়ার আগে একবার ফিরে তাকিয়ে বলল, 

"রায়হান কে কিছু বলিস না,  আমি যেয়ে বলবো। আর শোন তর এই হাসি মুখটাই ভালো লাগে ।আর কখনো এভাবে কাদবি না, দাভাই কে সব বলবি। মনে থাকবে?

  "হু দাভাই মনে থাকবে।  

ইনায়া ধীরে ধীরে বিছানায় বসে পড়ল। মনে হচ্ছে বুকের ভেতরের ভারটা একটু কমে গেছে। ফোনটা হাতে নিল। রায়হানের অনেকগুলো মিসড কল।  ইনায়া দেখে রেখে দিল।  দাভাই তো বলবেই এখন নাহয় আমি কিছু না বলি।

Comments

    Please login to post comment. Login