রাতের খাবারের সময় ফারহানা বেগম ইনায়াকে ডাকলেন। ইনায়া দরজা খুলল না। বলল,
"আম্মু, ভালো লাগছে না… খাব না।
ইহানকেও ডাকলেন। ইহান এক কথায় বলল,
দুই ছেলেমেয়ে কেউ খেল না দেখে ফারহানা বেগম বকতে বকতে নিচে চলে গেলেন।
এদিকে রায়হান একের পর এক কল, মেসেজ দিচ্ছে। ইনায়া ধরছে না।
রায়হানের বুক কাঁপছে – ইহান কি ইনায়াকে আবার কিছু বলেছে? বাসায় জানিয়ে দিয়েছে?
রাতটা কারোরই ভালো কাটল না। ইনায়া কাঁদতে কাঁদতে ঘু্মিয়ে পড়ে । চোখের কোণে শুকনো জলের দাগ।
ইহান নিজের রুমে চুপ করে বসে আছে। বারবার চোখে ভাসছে ইনায়ার কাঁদা মুখ, আর নিজের তোলা হাত।
"আমি কি করে ফেললাম… ইনুকে কিভাবে মারলাম!
সকালের রোদ জানালা দিয়ে ঢুকছে। ইনায়ার মুখে রোদ পড়ছে। আজ কলেজে যায়নি।
" ইনায়া খাতে আয়… ইনায়া সাড়া দিল না। বালিশে মুখ গুঁজে শুয়ে রইল।
কিছুক্ষন পর দরজায় আবার কেউ ঠক ঠক শব্দ করল। ইনায়া ভাবল আম্মু ।
“আসছি” বলে চোখ মুছে দরজা খুলল দরজা খুলেই ইনায়া থমকে গেল।
সামনে ইহান।দুজনের চোখ এক হলো, কিন্তু কেউ কোন কথা বলল না।
"ভেতরে আসতে দিবি? নাকি এভাবে দাঁড়িয়ে থাকবো?
ইহান ভেতরে ঢুকে চারদিকে তাকাল। ঘরটা এলোমেলো, সচারাচর ইনায়ার ঘর এমন এলোমেলো থাকে না।
ইহানের বুকটা হালকা কেঁপে উঠল। মনে মনে ভাবতে লাগল
" এ কি করেলাম আমি আমার বনুর সাথে। কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর ইহান ডাকলো
"ইনু… কোন সাড়াশব্দ নেই ইনায়া মাথা নিচু করে আছে। ইহান একদম ইনায়ার সামনে এসে দাঁড়াল।
"সরি… ইনু। তর সাথে খুব খারাপ করেছি।
"আমি ভুল করেছি। তোকে ওভাবে মারা… আর ওইভাবে রিয়্যাক্ট করা, সবই ভুল ছিল।
"সারারাত ঘুমাতে পারিনি। বারবার মনে হয়েছে,আমি আমার নিজের বোনকেই কিভাবে কষ্ট দিলাম।
"তুমি তো আমার কথা শুনতেই চাওনি…
"আমি শুধু রাগ দেখেয়েছি। তোর ভয়টা বুঝিনি।
একটু থেমে সে ইহান গভীর নিঃশ্বাস নিল।
"আর একটা কথা… তুই যেটা বলেছিস—রায়হানকে ভালোবাসিস… আমি সেটা মেনে নিচ্ছি।
"হ্যাঁ। আমি আমার বোনকে সব সময় হাসি খুশি দেখতে চাই, আর রায়হান কে আমি চিনি। ও তোকে অনেক ভালোবাসে।
এই কথাটা শুনেই ইনায়ার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল।
"আমি ভাবছিলাম তুমি আমাকে বলবে রায়হানের সাথে কথা বলতে না।
ইহান শক্ত করে ইনায়া কে জড়িয়ে ধরল,
"পাগলি! তুই আমার সব। তুই আমার কলিজার টুকরা।
" আমার আজই রায়হানের সাথে কথা বলতে হবে।বেচারায় মনে হয় চিন্তাই শেষ হয়ে যাইতাছে। বোন জামাই বলে কথা,,।
ইনায়ার মুখে হালকা স্বস্তি ফুটে উঠল।
ইহান দরজার দিকে এগিয়ে গেল। বের হওয়ার আগে একবার ফিরে তাকিয়ে বলল,