"না… আর বসে থাকা যাবে না। কিছু একটা করতে হবে।
ঠিক তখনই দরজায় কলিং বেল বাজল। রায়হান দরজা খুলতেই দেখে সামনে ইহান দাঁড়িয়ে। রায়হান থমকে গেল।
"ভেতরে আসতে দিবি না? নাকি বাহিরে দাঁড়িয়েই কথা বলব?
ইহান সোফায় বসতেই রাইহানের আম্মু এসে বলল,
"এইতো আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি, আপনি কেমন আছেন?
" আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।
" তোমার বন্ধুর কি হয়েছে? রাত থেকে কিচ্ছু খায়নি। কারো সাথে কথাও বলছে না।
"আচ্ছা আন্টি আপনি চিন্তা কইরেন না, আমি দেখছি।
" আচ্ছা তোমরা কথা বলো,আমি কিছু নাস্তা নিয়ে আসি।
শারমিন বেগম চলে যাওয়ার পরে ঘরের ভেতর নেমে এলো ভারী নিরবতা। রায়হান দাঁড়িয়ে আছে।
কিছুক্ষণ কেউ কোন কথা বলল না। রায়হানের বুক ধুকপুক ধুকপুক করছে।
ইহানের ঠোঁটের কোনে লুকানো হাসি উঁকি দিচ্ছে কিন্তু ইহান এক বারে গম্ভীর হয়ে বসে আছে।
কিছুক্ষন পড়ে ইহান ধীরে ধীরে বলল,
"তুই কি ইনায়াকে সত্যি ভালোবাসিস?নাকি টাইম পাস করছিস?
“হ্যাঁ দোস্ত। আমি ইনায়া কে খুব ভালোবাসি।
রায়হান গভীর নিঃশ্বাস নিল,তারপর বলল,
" আমি ইনায়াকে ঠিক ততটাই ভালোবাসি,
যতটা ভালোবাসলে অন্য কারোর দিকে তাকাতে ইচ্ছে করে না।
ইহান চুপ করে রাইহানের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে বলল,
" কালকে আমি ভুল করেছি।রাগের মাথায় ইনায়ার গায়ে হাত তুলেছি,তোকে অপমান করেছি।
রাইহানের বুক থেকে যেন পাথর নেমে গেলো। বুকটা হালকা হয়ে গেল ।
"ইনায়া আমার বোন। ও আমার জান। ওকে নিয়ে আমি সিরিয়াস।ইহান বলল।
"আমি জানি দোস্ত… আর আমি কখনো ইনায়ার বিশ্বাস ভাঙব না।ইনায়াকে কখনো কষ্ট দিবো না। কথা দিলাম।
ইহান এবার একটু সামনে ঝুঁকে বলল,
" সেটা হওয়ার সুযোগই দিব না শালা বাবু।
"এখনই বেশি কিছু না। আগে ইনায়া পড়াশোনা শেষ করুক,তারপর আমি বাসায় ঠিকভাবে কথা বলব।
"আচ্ছা, আমি ততদিন অপেক্ষা করি।
যাওয়ার আগে ইহান বলল,
" কাল রাত থেকে মেয়েটা অনেক কেঁদেছে। কিচ্ছু খায়নি।
" তাহলে তুই ওকে খাওয়া তে পারলি না ?
" না ভাই, খুব জেদি মেয়ে। তুই সামলা।
"ঠিক আছে, তুই বললে ও সামলাবো না বললে ও সামলাবো।
ইহান চলে যাওয়ার সাথে সাথেই রাইহান দ্রুত ফোন হাতে নিল।
"ইনায়া… আমি আসছি।তুমি বের হয়ে নিচে আসো।
ওপাশ থেকে কিছুক্ষণ পর রিপ্লাই এলো,
নিজের অজান্তেই ঠোঁটের কোনে হাসি ফুটে উঠল মনে মনে ভাবল, হয়তো… ভালোবাসা সত্যিই জিতে যায়…।