Novel

এক ছাতার নিচে। পর্ব:৩৯

May 26, 2026

142 views

#গল্প- এক ছাতার নিচে 

#লেখিকা- বুশরা নাদরাহ

 #পর্ব - ৩৯  

 রায়হান সকাল থেকেই অস্থির হয়ে আছে। রাতভর ঘুম হয়নি। বারবার ফোন হাতে নিচ্ছে, আবার রেখে দিচ্ছে। ইনায়া একটাও রিপ্লাই দেয়নি। 

ররাইহান নিজেই বিড়বিড় করে বলল, 

"না… আর বসে থাকা যাবে না। কিছু একটা করতে হবে।

 ঠিক তখনই দরজায় কলিং বেল বাজল। রায়হান দরজা খুলতেই দেখে সামনে ইহান দাঁড়িয়ে। রায়হান থমকে গেল। 

রাইহান আমতা আমতা করে বলল,

" ইহান তুই এখানে?

 ইহান শান্ত চোখে তাকিয়ে বলল, 

"হুম তর সাথে আমার কথা আছে। 

" কি কথা?  

 "ভেতরে আসতে দিবি না? নাকি বাহিরে দাঁড়িয়েই কথা বলব? 

" আয় ভিতরে আয়।  

 ইহান সোফায় বসতেই রাইহানের আম্মু এসে বলল, 

" কেমন আছো ইহান বাবা। 

 "এইতো আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি, আপনি  কেমন আছেন? 

 " আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।

  " তোমার বন্ধুর কি হয়েছে? রাত থেকে কিচ্ছু  খায়নি। কারো সাথে কথাও বলছে না। 

"আচ্ছা আন্টি আপনি চিন্তা কইরেন না, আমি দেখছি।  

" আচ্ছা তোমরা কথা বলো,আমি কিছু নাস্তা নিয়ে আসি।

  শারমিন বেগম চলে যাওয়ার পরে ঘরের ভেতর নেমে এলো ভারী নিরবতা। রায়হান দাঁড়িয়ে আছে।  

"বস।দাড়িয়ে আছিস কেন? 

রায়হান ধীরে ধীরে বসল। 

কিছুক্ষণ কেউ কোন কথা বলল না।  রায়হানের বুক ধুকপুক ধুকপুক করছে।  

ইহানের ঠোঁটের কোনে লুকানো হাসি উঁকি দিচ্ছে কিন্তু ইহান এক বারে গম্ভীর হয়ে বসে আছে।  

কিছুক্ষন পড়ে ইহান ধীরে ধীরে  বলল, 

"তুই কি ইনায়াকে সত্যি  ভালোবাসিস?নাকি টাইম পাস করছিস?  

 রায়হান এক সেকেন্ডও নিল না, 

 “হ্যাঁ দোস্ত। আমি ইনায়া কে খুব ভালোবাসি।

ইহান চোখ সরু করল,

"কতটা ভালোবাসিস ?

রায়হান গভীর নিঃশ্বাস নিল,তারপর বলল,

" আমি ইনায়াকে ঠিক ততটাই ভালোবাসি,

যতটা ভালোবাসলে অন্য কারোর দিকে তাকাতে ইচ্ছে করে না। 

 ইহান চুপ করে রাইহানের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে বলল, 

" কালকে আমি ভুল করেছি।রাগের মাথায় ইনায়ার গায়ে হাত তুলেছি,তোকে অপমান করেছি। 

রাইহানের বুক থেকে যেন পাথর নেমে গেলো।   বুকটা হালকা হয়ে গেল । 

 "ইনায়া আমার বোন। ও আমার জান। ওকে নিয়ে আমি সিরিয়াস।ইহান বলল।

  রায়হান মাথা নেড়ে বলল, 

"আমি জানি দোস্ত… আর আমি কখনো ইনায়ার বিশ্বাস ভাঙব না।ইনায়াকে কখনো কষ্ট দিবো না। কথা দিলাম। 

ইহান এবার একটু সামনে ঝুঁকে বলল, 

"একটা কথা পরিষ্কার করে বলি,যদি কখনো আমি ইনায়ার চোখে পানি দেখি তাহলে কিন্তু আমি তোকে মেরে ফেলবো।তুই যে আমার বন্ধু তা ভুলে যাবো।  

রায়হান হো হো করে হেসে উঠে, 

 " সেটা হওয়ার সুযোগই দিব না শালা বাবু।    

 “থ্যাংক ইউ দোস্ত?

  " হ্যাঁ। তবে একটা শর্ত আছে।

"কি শর্ত?

"এখনই বেশি কিছু না। আগে ইনায়া পড়াশোনা শেষ করুক,তারপর আমি বাসায় ঠিকভাবে কথা বলব।

  রায়হান মাথা নেড়ে বলল,

"আচ্ছা, আমি ততদিন অপেক্ষা করি।

যাওয়ার আগে ইহান বলল, 

" কাল রাত থেকে মেয়েটা অনেক কেঁদেছে। কিচ্ছু খায়নি। 

" তুই কই ছিলি?  

" আমিতো বাসায়ই ছিলাম। 

" তাহলে তুই ওকে খাওয়া তে পারলি না ?  

" না ভাই, খুব জেদি মেয়ে। তুই সামলা। 

ররাইহান হালকা হেসে বলল, 

"ঠিক আছে, তুই বললে ও সামলাবো না বললে ও সামলাবো।  

ইহান চলে যাওয়ার সাথে সাথেই রাইহান দ্রুত ফোন হাতে নিল। 

  "ইনায়া… আমি আসছি।তুমি বের হয়ে নিচে আসো।

ওপাশ থেকে কিছুক্ষণ পর রিপ্লাই এলো,

"দাভাই আপনার সাথে দেখা করেছে?

”  হ্যাঁ… দেখা হয়েছে। 

 নিজের অজান্তেই ঠোঁটের কোনে হাসি ফুটে উঠল মনে মনে ভাবল, হয়তো… ভালোবাসা সত্যিই জিতে যায়…।

Picked up where you left off

Comments