Posts

উপন্যাস

এক ছাতার নিচে। পর্ব:৪০

May 27, 2026

busra islam

16
View

#গল্প- এক ছাতার নিচে

 #লেখিকা- বুশরা নাদরাহ 

#পর্ব - ৪০ 

 ইনায়া জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। হালকা বাতাসে চুল উড়ছে। ঠোঁটে মিষ্টি হাসি। হঠাৎ ফোনে নোটিফিকেশন এলো, 

"আমি নিচে দাড়িয়ে আছি। রাইহানের মেসেজ

মেসেজ টা পরে ইনায়ার বুক ধক করে উঠল। 

 ইনায়া ফ্রেশ হয়ে হালকা গোলাপি রঙেরএকটা  ড্রেস পরেছে। নিজেকে একবার দেখে নিচে নামল।  

রাইহান গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। হালকা নীল শার্ট গায়ে, মুখে সেই পরিচিত হাসি।

 ইনায়া কে দেখেই রাইহান এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। 

ইনায়া লজ্জা পেয়ে বলল, 

"এভাবে কি দেখছেন?

রায়হান হেসে বলল, 

" ভাবছি, এত সুন্দর কেউ হতে পারে?

  ইনায়া মুখ ঘুরিয়ে বলল, 

"চুপ থাকেন, কেউ দেখে ফেলবে।

  "চল?

"কোথায় যাবো?

" চল।একটু ঘুরে আসি।

ইনায়ার চোখ চকচক করে উঠল,  

"সত্যি?কিন্তু আমি বের হবো কিভাবে? আম্মু তো একা বের হতে দিবে না।

" আমি ইহান কে বলে দেয়?  

" কি বলবেন??  

রাইহান ফোন বের করে ইহান কে মেসেজ লেখল,

" ভাই, আমি ইনায়াকে নিয়ে বের হচ্ছি।তুই একটু বাসায় মেনেজ করিস।এক ঘন্টার মধ্যে চলে আসব।

সাথে সাথেই রিপ্লাই এলো, 

"আচ্ছা, তোরা যা, আমি বাসায় মেনেজ করে রাখব।

রাইহান ফোনটা ঘুরিয়ে ইনায়াকে দেখালো।ইনায়া মেসেজ দেখে হালকা হাসল।

" এখন যাওয়া যাক? 

ইনায়া বাইকে উঠে বসল।

বাইক ধীরে ধীরে চলছে। রাস্তার দুই পাশে গাছ, হালকা বাতাস। ইনায়ার চুল বারবার মুখে এসে পড়ছে। 

 কিছুক্ষণ পর রায়হান বলল, 

"কাল অনেক ভয় পেয়েছিলাম।

"কেন?

"ভেবেছিলাম তোমাকে হয়তো হারিয়ে ফেলব।

  " আমি ও ভেবেছিলাম, দাভাই সব কিছু শেষ করে দিবে আর কখনো কথা বলতে দিবে না।

" ইনায়া। 

" হুম।

" তুমি কি আমাকে ছেড়ে চলে যাবে?  

 " আমি আপনাকে ছেড়ে কোথাও যাব না।  

"প্রমিস?

"হ্যাঁ প্রমিস…।

বাইক এসে থামল নদীর সামনে,  চারপাশে সবুজ ঘাস, হালকা বাতাস বইছে, পানিতে রোদ ঝিকিমিকি করছে। নদীর পারে দুজন পাশাপাশি দাঁড়াল ।  

 " চলো আজকে ও নৌকা দিয়ে ঘুরি যাবে?

  " আচ্ছা ঠিক আছে।  

 রায়হান আর ইনায়া নৌকায় উঠে বসলো। আজ ইনায়ার কোন ভয় নেই, রায়হান পাশে আছে আর দাভাই তো সব মেনে নিয়েছে। 

 ইনায়া পানিতে পা ভিজাচ্ছে আর হাত দিয়ে পানি ছিটিয়ে রায়হান কে ভিজিয়ে দিচ্ছে।

   "রায়হান মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে, আবার নতুন করে ইনায়ার প্রেমে পরছে।  

ইনায়া হঠাৎ খেয়াল করল রায়হান ওর দিকে  আছে। ইনায়া লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলল।     রায়হান মুচকি হাসলো। 

 রায়হান আস্তে বলল, 

"ধন্যবাদ।

"কিসের জন্য?

"আমার জীবনে আসার জন্য।

 ইনায়া মুচকি হাসল, 

" আপনাকেও ধন্যবাদ।    

Comments