অসমাপ্ত পূর্ণতা—পর্ব:০২
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
ক্যাম্পাসে দিনের কোলাহল ধীরে ধীরে কমে এলো। বিকেলের রোদ নরম হয়ে আসছে, কৃষ্ণচূড়া গাছের লাল ফুলগুলো হালকা বাতাসে দুলছে। ক্লাস শেষ হওয়ায় ছাত্রছাত্রীরা একে একে বাড়ির পথে বেরিয়ে পড়ছে।
স্নিগ্ধ আর রাহিও কিছুক্ষণ পর ক্যাম্পাসে ফিরে এসেছিল। তখন তাদের গ্রুপের বাকিরাও ক্যান্টিনের সামনে দাঁড়িয়ে গল্প করছিল। কেউ আর এ ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞেস করেনি।
কিন্তু রাহি আর স্নিগ্ধ দুজনেই অদ্ভুতভাবে চুপচাপ ছিল।
রাহি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিল, আর স্নিগ্ধ মাঝে মাঝে আড়চোখে তাকাচ্ছিল তার দিকে। কিন্তু কেউই কিছু বলছিল না।
তিয়াসা একবার তাকিয়ে রাহি উদ্দেশ্যে বলল,
— “কি হলো তোদের? এত শান্ত কেন?”
শুভ্র সাথে সাথে বলল,
— “হয়তো যুদ্ধবিরতি হয়েছে।”
সবাই হেসে উঠল স্নিগ্ধ বাদে , কিন্তু রাহি একটু বিরক্ত হলো ধমকানো স্বরে বলল,
— “চুপ কর তো।”
মিহির ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল,
— “চল, আজ যাই। কাল আবার দেখা হবে।”
তুষার মাথা নেড়ে বলল,
— “হ্যাঁ, ক্যাফেতেও যেতে হবে।”
অতপর সবাই বিদায় জানিয়ে ধীরে ধীরে আলাদা পথে হাঁটা শুরু করল।সূর্য হোস্টেলের দিকে রওনা দিল।রিশাও তার সাথে গেল।তুষার আর তিয়াসা নিজেদের ক্যাফের দিকে চলে গেল,সেখান থেকে কাজ শেষে একবারে বাড়ি ফিরবে।
মিহির গাড়ির দিকে হাঁটতে হাঁটতে রাহিকে বলল,
— “চল, তোকে নামিয়ে আবার আব্বুর অফিসে যেতে হবে।”
রাহি হালকা মাথা নাড়ল।আরচোখে স্নিগ্ধকে একবার দেখে গাড়িতে ওঠে বসল। এদিকে সবাই চলে যেতেই শুভ্র স্নিগ্ধর কাঁধে হাত রেখে বলল,
— “ভাই, আজ দিনটা ইন্টারেস্টিং ছিল না।”
স্নিগ্ধ ভ্রু কুঁচকে বলল,
— “কেন?”
শুভ্র হাসল।
— “কারণ আজ প্রথমবার দেখলাম কেউ রাহি আপুর লাঠি থেকে বেঁচে গেছে।”
স্নিগ্ধ বাইক ঘুরাচ্ছিল। শুভ্রর কথায় বিরক্ত মুখে বলল,
— “চুপ কর!নয়তো আজও হেঁটে বাড়ি ফিরতে হবে।"
অগত্যা না চাইতেও চুপ হয়ে গেল শুভ্র।কারণ নয়তো এতোটুকু রাস্তা তাকে সত্যি হেঁটে যেতে হবে। এর আগেও স্নিগ্ধ একবার এরকম করেছিল কথা না শোনার জন্য। মাঝ রাস্তায় রেখে চলে গেছিল।ফলস্বরূপ ৩-কিলো হাটতে হয়েছিল।
সন্ধ্যা নামতে নামতে ঢাকা শহরের আলো একে একে জ্বলে উঠল।রাত এখন প্রায় ৮টা। রাস্তায় গাড়ির শব্দ, মানুষের ভিড়—সবকিছু মিলিয়ে শহরটা আবার নিজের চেনা ছন্দে ফিরে গেল। দিনের কোলাহল ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল রাতের ব্যস্ততার ভিড়ে।
স্নিগ্ধ বাইক চালিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। সামনে রাস্তার লাইটগুলো একটার পর একটা পেছনে পড়ে যাচ্ছে। পেছনে বসে থাকা শুভ্র আজ অস্বাভাবিকভাবে চুপ।আজ কলেজ থেকে কোম্পানিতে গিয়েছিল কিছু কাজে।সেখানে গিয়েও কোন কথা বলেনি,চুপ করে বসেছিল কেবিনে।কিছুক্ষণ পর স্নিগ্ধ ভ্রু কুঁচকে বলল,
— “কি হলো? এত চুপ কেন?”
শুভ্র গম্ভীর মুখে বলল—
— “কিছু না।”
তবে কেমন উসখুস করছে কিছু বলার জন্য। স্নিগ্ধ বুঝল একটু হেসে ফের বলল—
— “নাটক করিস না। বল কি বলবি?”
শুভ্র একটু ইতস্তত করে বলল—
— “ভাইয়া.....
— "আইসক্রিম খাবি?"
শুভ্র উপর নিচ মাথা নাড়ে,যার অর্থ সে খাবে। স্নিগ্ধ মনে মনে বলল ছেলে হয়েও এর মেয়েদের মতো সব আবদার।হাসল কিছুটা। স্নিগ্ধ রাস্তার পাশে দোকানের সামনে বাইক দাঁড়া করাই।দোকান থেকে দুটো "কোন-আইসক্রিম" কিনে ধরিয়ে দেয় শুভ্রর হাতে। খাওয়া শেষ হলে আবার বাইক স্টার্ট দেয়।শুভ্র মাথা এলিয়ে দেয় স্নিগ্ধর পিঠে।শুভ্র এমনই করে স্নিগ্ধর সাথে।তার ভালো-খারাপ দুইটাই স্নিগ্ধ। সারাদিন জ্বালাবে। তবে সব শেষে সকল আর্জি, খুশি , অভিযোগ, অভিমান, বাচ্চামোপনা সবই সে স্নিগ্ধর কাছে স্নিগ্ধর সাথেই করবে।স্নিগ্ধও তাকে সবসময় নিজের ছোট ভাই হিসেবে বাচ্চার মতো আগলে বড় করেছে।এখন শুভ্রকে ছাড়া তার নিজেরই ভাল্লাগেনা। তার বাচার একমাত্র অবলম্বন এই শুভ্র, শুভ্রর ও তাই।
.
.
তুষার ক্যাফে থেকে এসে রাতের রান্না আজ নিজেই করেছে। তিয়াসা বারণ করেছিল সেই শুনেনি। তিয়াসার ক্লাস টেস্ট আছে কাল। মাত্রই নিজ কক্ষে এলো সে।এসেই শাওয়ারে জন্য যায়।
কিছুক্ষন বাদেই তিয়াসা আসে রুমে। তুষারকে না দেখে ভাবে হয়তো বাথরুমে তাই বিছানায় গিয়ে বসে।
তুষারের ফোনটা হঠাৎ বেজে উঠল।
সে তখন বাথরুমে, তাই ফোনটা বিছানার ওপরই পড়ে ছিল।পাশে বসে থাকা তিয়াসা স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখল "মিহির" কল করছে। দুবার রিং হয়ে ফোনটা কেটে গেল।তিন বারের বেলায় বাথরুমের ভেতর থেকেই তুষার চেচিয়ে তিয়াসাকে ফোনটা তুলতে বলল।কারন তিয়াসা রুমে আসার সময় সে দরজার শব্দ শুনেছিল।
তিয়াসা একটু ইতস্তত করল, তারপর ফোনটা তুলে কল রিসিভ করল।
— “হ্যালো?
ওপাশে মিহির কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।তারপর অবাক হয়ে বলল,
— “তিয়াসা? তুষার কোথায়?”
তিয়াসা শান্ত গলায় বলল,
— “বাথরুমে। ফোনটা এখানে রেখেই গেছে।”
মিহির হালকা হেসে বলল,
— “ওকে বলো আমি কল করেছিলাম। একটু দরকার ছিল।”
তিয়াসা মাথা নেড়ে বলল,
— “আচ্ছা, বলব।”
কিছুক্ষণ দুজনই চুপ।মিহির যেন কিছু বলতে চাইছে, আবার থেমে যাচ্ছে।শেষে তিয়াসাই বলল,
— “আর কিছু বলবেন?”
মিহির একটু ধীর স্বরে বলল—
— “না… আপাতত না।”(তারপর আবার যোগ করল)
— “তুমি ভালো আছ তো?”
তিয়াসা একটু অবাক হলো প্রশ্নটা শুনে।ওভাবেই বলল,
— “হ্যাঁ… ভালো।”
ওপাশ থেকে মিহির হালকা হাসল।
— “ঠিক আছে। তুষার বের হলে বলো যেন আমাকে কল দেয়।”
— “ঠিক আছে।”
কলটা কেটে গেল।তিয়াসা কিছুক্ষণ ফোনটার দিকে তাকিয়ে রইল।ঠিক তখনই বাথরুমের দরজা খুলে তুষার বের হলো, চুলে এখনও পানি ঝরছে।
সে তিয়াসার হাতে নিজের ফোন দেখে বলল,
— “কে ছিল?”
— “মিহির ভাই।”
— “কি বলল?”
তিয়াসা ফোনটা তার হাতে দিয়ে বলল,
— “তোমাকে কল দিতে বলেছে।আর নিচে এসো খাবার বাড়ছি ”
তুষার ফোনটা হাতে নিয়ে স্ক্রিনের দিকে তাকাল।
আর তিয়াসা চুপচাপ কক্ষ ত্যাগ করল।
.
.
.
.
স্নিগ্ধর খাবার খেয়ে সবে ঘরে এসেছে সবাই। ঘরটায় হালকা আলো জ্বলছে, জানালার বাইরে রাতটা বেশ শান্ত।
শুভ্র স্নিগ্ধর বিছানায় আধশোয়া হয়ে ফোনটা সামনে ধরে ভিডিও কলে কথা বলছে সূর্যের সাথে। ওদিকে সূর্যের গলা শোনা যাচ্ছে—মাঝে মাঝে হাসির শব্দও।
ঠিক তখনই দরজা ঠেলে ঢুকল স্নিগ্ধ।
মুখে হালকা ক্লান্তির ছাপ, কিন্তু চোখে যেন অন্যরকম একটা ভাব।
কিছু না বলেই সে ধুপ করে এসে শুভ্রর পাশেই বিছানায় শুয়ে পড়ল।
বিছানাটা একটু দুলে উঠতেই শুভ্র আরচোখে একবার তাকাল তার দিকে। কয়েক সেকেন্ড স্নিগ্ধকে দেখল—তারপর আবার ফোনের দিকে তাকিয়ে কথায় মন দিল।
— “হ্যাঁ সূর্য ভাই, তারপর কি হলো বল…”
ওদিকে সূর্য কিছু একটা বলতেই শুভ্র হেসে উঠল।
কিন্তু স্নিগ্ধ একদম চুপ।
দু’হাত মাথার পেছনে রেখে ছাদের দিকে তাকিয়ে আছে। চোখে যেন একটু ভাবনা জমে আছে।
শুভ্র আবার একবার আড়চোখে তাকাল।
— “এই যে, এত চুপ কেন?”
ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল।স্নিগ্ধ একটু দেরি করে উত্তর দিল,
— “কিছু না।”
শুভ্র ভ্রু কুঁচকাল।
সে স্নিগ্ধকে বেশ ভালোই চেনে। এই “কিছু না” মানে আসলে অনেক কিছু।ওদিকে ভিডিও কলে সূর্য হঠাৎ বলল—
— “এই স্নিগ্ধ! তুই এলি নাকি?”
স্নিগ্ধ একটু ঘাড় ঘুরিয়ে ফোনের দিকে তাকাল।
— “হুম।”
সূর্য হাসল।
— “কিরে, আজ এত শান্ত কেন? তুই তো সাধারণত ঘরে ঢুকেই হৈচৈ শুরু করিস।”
শুভ্র এবার মুচকি হেসে বলল—
— “ওকে আজকে ভুতে ধরেছে মনে হয়।”
স্নিগ্ধ বিরক্ত মুখে বলল—
— “চুপ কর তো।”
শুভ্র হেসে উঠল।
— “না না, ব্যাপার আছে মনে হচ্ছে।”
কথাটা শুনে স্নিগ্ধ কিছু বলল না।শুধু আবার ছাদের দিকে তাকাল।তার চোখের সামনে আবার ভেসে উঠল সকালের সেই দৃশ্য—সবুজ ঘাস… হালকা বাতাস…
আর রাহির কোলে মাথা রেখে শুয়ে থাকা সেই মুহূর্তটা।
স্নিগ্ধ অজান্তেই হালকা হাসল।
শুভ্র সেটা দেখেই বলল—
— “এই যে! হাসচ্ছ কেন?”
স্নিগ্ধ এবার পাশ ফিরল।
— “কিছু না বললাম তো।”
শুভ্র সন্দেহভরা চোখে তাকাল।
কিন্তু কথাটা যতটা স্বাভাবিক শোনানোর চেষ্টা করল, ততটা হলো না।
ভিডিও কলে থাকা সূর্য তখনই চোখ ছোট করে তাকাল।
— “এই এই… এই টোনটা আমি চিনি।”
শুভ্র ভ্রু তুলে বলল,
— “কোন টোন?”
সূর্য হাসতে হাসতে বলল,
— “এই যে ‘কিছু হয়নি’ টোন। মানে বড় কিছু হয়েছে।”
শুভ্র এবার পুরো শরীর ঘুরিয়ে স্নিগ্ধর দিকে তাকাল।
— “বলনা।”
— “কি বলব?”
— “কি হয়েছে।”
— “কিছুই হয়নি।”
শুভ্র বিরক্ত মুখে বলল,
— “ভাই, নাটক করো না তো।”
এদের এতকথা পেঁচানো দেখে ওদের অন্যমনস্ক করতে_
স্নিগ্ধ সেখানে কলেজের প্রজেক্ট আর শুভ্রর প্রেক্টিকেল হয়েছে কিনা তাই বিষয়ে জানতে চাইল। তবে একথা মনে হয় ওদের মোটেই পছন্দ হলো না। পড়াশোনা মানেই এদের কাছে আতঙ্ক। সেখানে স্নিগ্ধর কথা তো তাদের কাছে নিউক্লিয়াস ব্লাস্টের মতো কাজ করল।
–"শুভ্র.... ভাই। কালকে কথা হবে। বাই বাই গুড নাইট।
'বাই 'টুকু হাত নাড়িয়ে ইশারা করে বলল সূর্য। শুভ্রও সম্মতি জানিয়ে বিদায় নিয়ে কল কাটলো। তবে নিজের রুমে না গিয়ে বসে রইল সেখানেই। তাদেখে স্নিগ্ধ ভ্রু কুচকে জিজ্ঞেস করল,
–"কী হলো বসে আছিস কেন?ঘুমলে ঘুমা না হলে বের হ আমার ঘর থেকে।"
বলতে দেরি হলেও শুভ্রর স্নিগ্ধকে জরিয়ে ধরে শুয়ে পরতে দেরি হলো না। তা দেখে স্নিগ্ধ হালকা হাসল।মাথায় হাত বুলালো। কিছুক্ষণের মধ্যেই দুজন ঘুমের রাজ্যে পারি দিল।
.
.
.
রাত গভীর। চারদিকে নিস্তব্ধতা। রাহি নিঃশব্দে নিজের ঘরের জানালার পাশে বসে আছে। আকাশে আধো চাঁদ, হালকা বাতাসে পর্দা দুলছে। কিন্তু তার মনটা যেন এখনও আটকে আছে সকালের সেই নির্জন ঘাসের মাঠে…
ঘুম যেন আজ কোনোভাবেই চোখে আসতে চাইছে না।
সকালবেলার ঘটনাগুলো বারবার মনে পড়ছে তার—ক্যাম্পাস জুড়ে সেই দৌড়, স্নিগ্ধর হাঁপাতে হাঁপাতে হাসা… আর হঠাৎ করেই তার কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়া।
ভাবতেই আবার বুকটা ধুকপুক করে উঠল রাহির।
সে নিজের ঠোঁট কামড়ে হালকা ফিসফিস করে বলল—
— “আমি তখন ‘না’ কেন বললাম…?”
কথাটা মনে পড়তেই তার গাল আবার লাল হয়ে উঠল।
সত্যি বলতে তখন মাথাটা সরিয়ে দিতে পারত সে।
চাইলেই বলতে পারত—“উঠো।”
কিন্তু সে বলেনি।
কেন? বলেনি…
বরং অদ্ভুতভাবে ভালোই লাগছিল মুহূর্তটা।রাহি মাথা তুলে আকাশের দিকে তাকাল। মনে মনে আবার দেখতে পেল সেই দৃশ্যটা—সবুজ ঘাস, হালকা বাতাস, আর তার কোলে নিশ্চিন্ত হয়ে শুয়ে থাকা স্নিগ্ধ।
ছেলেটার গোলাপি ঠোঁটের কথাটাও আবার মনে পড়ল।
রাহি বিরক্তি ভরা মুখ করে নিজেকেই বলল—
— “ছেলেদের ঠোঁট এত গোলাপি হয় নাকি! নিশ্চয়ই ঠোঁটে কিছু মাখে।”
কিন্তু পরের মুহূর্তেই নিজেই হেসে ফেলল।
কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থেকে সে ধীরে ধীরে হাঁটু জড়িয়ে ধরল।
মনে একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—"আজ কেন স্নিগ্ধকে এত আলাদা লাগছিল?"
আগেও তো সে হাজারবার তাকে বিরক্ত করেছে, ঝগড়া করেছে।তবু আজকের অনুভূতিটা অন্যরকম।রাহি চোখ বন্ধ করল।তার মনে হলো যেন আবার সেই মুহূর্তে ফিরে গেছে,স্নিগ্ধ আধখোলা চোখে তাকিয়ে বলছে,
— “রাহি…”
মুহূর্তেই তার বুকের ভেতরটা কেমন নরম হয়ে গেল।
রাহি ধীরে ধীরে ফিসফিস করে বলল—
— “আজ কেন জানি… তোমাকে একটু বেশি নিজের মনে হচ্ছিল, স্নিগ্ধ ভাই…”
বাতাসটা আরও ঠান্ডা হয়ে এল।ঘরের নীরবতার মাঝে রাহির চোখে অদ্ভুত এক শান্ত হাসি ফুটে উঠল।
এভাবেই ভাবতে ভাবতে কখন যে তার চোখ দুটো ভারী হয়ে এলো, সে নিজেও বুঝতে পারল না।মাথাটা ধীরে ধীরে জানালার পাশে ঠেস দিয়ে এলো।বাইরে চাঁদের আলো নরমভাবে ঘরে ঢুকছে।আর সেই আলোয় বসে থাকতে থাকতে—সব ভাবনার মাঝেই অজান্তেই ঘুমিয়ে পড়ল রাহি।
.
.
24
View