তার হাসিটা খুব সুন্দর। কিন্তু কাশি ভয়ংকর। কাশতে কাশতে পেদে ফেলে।পাদতে,পাদতে হেগেও ফেলে।
মাঠের বাগানে একবার আমি লিচু পাহারা দিচ্ছি, সে লিচু খেতে এলো চুরি করে।চোখ উজান। গরমে ঘামে জবজবে অবস্থা। লিচু ছিঁড়তে যাবে - আমি আস্তে করে ডাক দিলাম," ও মাজে চা।লিচু খাবা?"
সে শব্দ শুনেছে কিন্তু ঠিক করতে পারছে না। চারিদিকে আলুকফুলুক করে তাকাচ্ছে। লিচু ছিঁড়তে সাহস পাচ্ছে না।
আমি আবার আস্তে করে ডাক দিলাম, " ও মাজে চা।"
এইবার সে খেঁচে দৌড়।দৌড়াচ্ছে আর পাদ মারছে।
দৌড়াতে যেয়ে পটলের খেতে সুতোয় বেঁধে পড়ে গেলো। আমি কাছে যেয়ে বললা," মাজেদ চা, তুমি মুরব্বি মানুষ। লিচু খাবা, খাবা- তা পালাচ্ছো কেনো?"
সে লজ্জা পেয়ে বললো," কই পালাচ্ছি? কাউকে দেখছি না, শব্দ আসছে। আমি মনে করলাম, ভুত কি-না। ঐ তাই। "
" বুড়ো বয়সে ভুতের ভয় পাও?"
" না-। কিসের ভয়?"
" লিচু খাবা?"
" তা দিলে খায় না কে?"
" তা বাপু তুমি ঐরকম পাদো কেনো?"
" ধুর বাপু।খাবো না তোর লিচু।"
" চাচা।রাগ করলে?"
" না। রাগ করিনি।"
" শুনলাম, চাচি নাকি তোমার সেদিন ঝাটা দিয়ে পিটেছে?"
" তুই পাস কোথায় এইসব কথা?"
" না,তাহলে চাচি বাপের বাড়ি গেছে আর আসছে না কেন?শুনলাম তুমি নাকি চাচীর ছাগল চুরি করে বারোবাজার হাটে বিক্রি করে সিলেটে ঘুরতে গিয়েছিলে?"
" জ্ঞানী মানুষ দেশ ভ্রমণ করে।"
" ও তাহলে তুমি জ্ঞানী মানুষ? জ্ঞান বাড়ানোর জন্য লিচু চুরি করে খেতে হয়?"
" তুই বুঝিস?"
" না।"
" শোন, জ্ঞান হলো শক্তি। তার জন্য চুরি ডাকাতি সব করা যায়।"
" পাদলে কি জ্ঞান বাড়ে?"
মাজেদ চাচা বিস্মিত হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। মনে হচ্ছে কী বোকামি মার্কা কথা আমি বলে ফেলেছি।সে এক গাল হেসে বললো," এই টুকু বুদ্ধি তোর মাথায় নেই? এই, গ্যাস কোনদিকে চাপ দেয়?নিচে, না উপরে?"
" উপরে। "
" উপরে মাথা না?"
" হ্যা,তা?"
" পেটের গ্যাস পেদে যদি বের করে না দিই মাথায় চাপ দেবে না?"
" দেবে।"
" গ্যাসের চাপে ব্রেইন স্ট্রোক হতে পারে?"
" পারে।"
" ব্রেন স্ট্রোক করলে জ্ঞান থাকবে কোথায়?ভাঙা বাড়িতে মানুষ বসবাস করে?"
" না।"
" নষ্ট মাথায় জ্ঞান বসবাস করবে?"
" না।"
" ঐ জন্যই তো আমি এতো পাদি।"
" গ্যাসের ওষুধ খাবা।"
" গ্যাসের ওষুধ বেশি খেলে কিডনি নষ্ট হয়ে যায়। ক্যালসিয়াম হজম হয় না। "
মাজেদ চাচা জ্ঞানী লোকের মতই কথা বলছে। মনে হচ্ছে সে সত্যি সত্যি জ্ঞানী মানুষ। অথচ গ্রামের লোকে দাম দেয় না। চাচী ঝাটা দিয়ে মারে।
আমি মিনমিন করে প্রশ্ন করলাম, " চাচা,তা চুরি করা অন্যায় না?"
" অবশ্যই অন্যায়।"
" তা তুমি লিচু চুরি করছিলে কেন?"
" তোর মাথা খারাপ হয়ে গেছে। আমি লিচু চুরি করিনি।"
" না,তা করোনি।করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলে।"
" ছিছি -ছি। আমি একটা জ্ঞানী মানুষ। আমাকে বলতে পারলি এ কথা? "
" না, বলছিলাম, লিচু খেলে জ্ঞান বাড়ে।"
" হ্যা,বাড়ে তো।যা এক থোল পাকা লিচু নিয়ে আয়।দুইজন বসে খায়।কীভাবে খেলে জ্ঞান বাড়ে তোকে দেখিয়ে দিয়ে যাই।"
আমি জ্ঞানী হওয়ার আশায় মাজেদ চাচার কথায় ভুলে টসটসে পাকা দেখে বড় এক থোল লিচু এনে সামনে রাখলাম। চাচা প্রায় এক দমে প্রায় একশ লিচু টকাটক খেয়ে নিলো।আমার জন্য একটাও রাখলো না।শেষে হেসে জ্ঞানী জ্ঞানী ভঙ্গিতে বললো, " প্র্যাকটিক্যালে দেখলি তো,বুঝলি তো? "
" কী? কী দেখবো,কী বুঝবো?"
" এইভাবে লিচু খেলে জ্ঞানী হওয়া যায়।"
"কিচ্ছু বুঝিনি। "
" যা, তাহলে আরএক থোল আন।"
আমি আরেক থোল লিচু আনলাম। কিন্তু মাজে চা খেতে পারছে না।তার কাশি উঠেছে। সেই সাথে পাদ।কাশতে কাশতে জ্ঞানী মাজে চা ভড়ভড় করে হেগে ফেললো।
আমি হাসিহাসি মুখ করে তার দিকে তাকিয়ে আছি।মাজে চা'র চোখ কষ্টে লাল আর বড়বড় হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে এখনি রক্ত বের হয়ে আসবে। কিন্তু তার কাশি কিছুতে থামছে না।
কাশির ভিতরই মাজে চা বিড়ি ধরালো।বিড়ি ধরিয়ে কষেকষে টান মারতে লাগলে।মনে হচ্ছে, বিড়ি কাশির ওষুধ। সে খুব যত্ন করে বিড়ি টানছে। কাজও হচ্ছে। কাশির উন্নতি হচ্ছে। জ্ঞানী মাজে চা'র অবস্থা খারাপ হচ্ছে।
আমি ডাকলাম, " জ্ঞানী মাজে চা। "
আশ্চর্য! সাথে সাথে তার কাশি থেমে গেলো।সে একটা হাসি দিয়ে বললো," আহ! শান্তি পেলামরে বাপ।"
আমি বললাম," চাচা, এই অতিরিক্ত বিড়ি খাওয়ার কারণে তোমার এই অবস্থা। কবে দেখা যাবে কাশতে কাশতে তুমি মরেই গেছো।বিড়িতে শুধু ক্ষতি। "
" এই,আবার একটা ভুল কথা বললি।বিড়ির উপকার আছে। গলা বুক পরিষ্কার করে। এই দেখ।"
বলতে বলতেই চাচা একগাদা কফ,থুথু,শ্লেষ্মা ওয়াক শব্দে বমি করার মতো করে মুখ দিয়ে ঢেলে ফেললো।
মুহূর্তের ভিতর পরিবেশ নোংরা যাচ্ছেতাই করে রেখে জ্ঞানী মাজে চাচা চলে গেলো।
জ্ঞানী মাজে চা
হুমায়ূন কবীর, মাসয
২৮/৫/২৬
"ইয়া কা না বুদু- মানে একজন কানা,একজন চুদু।বুঝলে কাদের? "
কথাগুলো বলে মাজে চা খিক খিক করে হেসে উঠলো।
আমি রেগে বললাম," কী বললে, মাজে চা? খবরদার এই ধরনের কথাবার্তা বলবা না। এটা কোরআনের আয়াত। "
মাজে চা সিরিয়াস হলো।তারপর বিপ্লবের চায়ের দোকানের সিমেন্টের খুঁটির সাথে হেলান দিয়ে শুকনো মুখে বললো," আচ্ছা, কী ভুলল বললাম বলো?"
দোকানের লোকজন সব কান খাঁড়া করে আছে। উত্তর পাড়ার ভ্যানচালক সাইফুল হা করে তাকিয়ে আছে। কেউ কথা বলছে না। সবাই চুপচাপ। আমি আমতা আমতা করে বললাম, " তাই বলে- -।"
" কীসের তাই বলে?বল, মানে বল।"
" আমি জানি না। "
" জানিস না। জানিস না কেন,তুই মুসলমান না?"
" হ্যা।"
" তাহলে জানিস না কেন? বল,জানা উচিৎ না?"
" তা তো উচিৎ। "
" উচিৎ তা জানিস না কেন? তাহলে তুই কানা,নাহয় চুদু।বল কোনটা? চুদু না কানা?"
আমি মনে মনে বললাম, " নিজেকে নিজে কিছুতেই চুদু বলে স্বীকার করা যায় না। কানা তো যা-ই হোক পদের পদ।আপাতত কানা পদই নেয়া যাক।
ক্যালাস মার্কা হাসি দিয়ে বললাম," কানা।মানে,আমি আরবি পড়তেও পারি না অর্থও জানি না। "
মাজে চা তড়াক করে লাফিয়ে উঠে হো,হো করে হেসে বললো," তাহলে তো তুই দুটোই। কানা এবং চুদু।অবশ্য আমারও তোর মতো অবস্থা। তাহলে তুই কানা, আমি চুদু।বুঝেছিস এইবার? "
আমি আনন্দে প্রায় চিৎকার করে উঠে বললাম, " চাচা,দাঁড়াও, এইবার তুমার ঠ্যাঙাচ্ছি।ঐ দেখো আমার ফুফাতো ভাই বিললাল।হাফেজ বিললাল।"
বিললাল হনহন করে চলে যাচ্ছে। দোকানে এতোগুলা লোক - কোনো সালাম কালাম দেওয়া নেই ।অবশ্য সে কাউকে সালাম দেয় না। ওটা তার অভ্যস নেই। সে সালাম পেয়ে পেয়েই অভ্যস্ত।আমি হাত তুলে, আওয়াজ করে ডাকলাম," হাফেজ সাহেব, আসসালামু আলাইকুম। এই দিকে একটু আসেন।"
বিললালের বয়স ১৫ বছর।সে আমার অনেক ছোটো।
কিন্তু হাফেজ বলে কথা।সে সবসময় ভাবে চলে।সে ভাবের সাথে হেলেদুলে এগিয়ে এলো।মাজে চাচার মুখ ভয়ে শুকিয়ে গেছে।
আমি জিজ্ঞেস করলাম " হাফেজ সাহেব।" ইয়া কা না বুদু - এর অর্থ কী? "
সে নিষ্পাপ ভঙ্গিতে বললো," জানি না। "
" আপনি না হাফেজ?"
" হ্যা।"
" তাহলে? "
" কুরআন তো আরবিতে লেখা। "
" আরবি জানেন, তার বাংলা জানেন না?মন্ত্রের মতো শুধু আরবি মুখস্থ করে বসে আছেন? "
" হ্যা,শুধু মুখস্থ। অর্থ জানি না । "
আমি পুরো ভুদাই হয়ে গেলাম। মাজে চা হো,হো করে হেসে উঠলো।
আমি বললাম, " চাচা হেসো না।একজন আলেম পায়। তোমার মজা দেখাচ্ছি। আমি সব বলে দেবো।হুজুররা তোমার পায়ের রগ কেটে হত্যা করুক।"
সে হাতের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বললো," হুজুররা আমার কেলা করবেনে।ও, হুজুররাও কিছু জানে না। এসব হলো কানার হাটবাজার। আমার ছোটো মামুর ছেলে সেলিম।সেলিম ১০ পারা হাফেজ।নামাজ কালাম তো পড়েই না।এখন গাজার ব্যবসা করে।আরে ও তো জানে না ও কি মুখস্থ করেছে। তুই আবার আমার আলেমের ভয় দেখাচ্ছিস।নামাজ পড়িস?"
" পড়ি।"
" কী পাস?"
" মানে?"
" হাস উবুড় হয়ে শামুক পায়।তুই যে উবুড় হয়ে সিজদা দিস কী পাস?"
" চাচা,তোমার কিন্তু খুন করে ফেলাবো।আল্লাহর হুকুম ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়া তাই পড়ি। চাচি তোমার এমনি এমনি ঝাটা দিয়ে ঠ্যাঙায় না।"
" আচ্ছা যা তোর চাচী ঝাটা দিয়ে ঠ্যাঙায় তুই চা দিয়ে ঠ্যাঙা।দে চা অর্ডার দে।"
" কেনো তোমার মুখ নেই? তুমি অর্ডার দাও।"
" মুখ আছে টাকা নেই। তোর লিচু বেচা টাকা। দে দে।এই চা দে, সিগারেট দে আর একটা পানও দিস কানপুর জর্দ্দা।"
দোকানদার বিপ্লব আমার দিকে তাকিয়ে আছে। মাজে চা ধমক লাগালো,দে। আবার দেখছিস কী?
বাধ্য হয়ে আমিও বললাম,"দে।"
এই মাজেদ চাচার জমিজমা সব আছে। কিন্তু ছেলেরা খেতে দেয় না। বউ দেখতে পারে না। এইরকম ফাও কথা বলে বেড়ালে কেউ তার দেখতে পারে?মানুষের কাছ থেকে এইভাবে ধান্দাবাজি করে খায়।
মাজে চা পান মুখে দিয়ে চিবাতে চিবাতে বললো," নামাজ মানে জানিস? আল্লাহর সাথে কথা বলা,তার সাথে দেখা করা।দেখা হয়েছে, কথা বলেছিস?"
" না।"
" আমার সাথে তো সবসময় দেখা হয়, কথা হয়।"
" বিড়ি খাওয়ার সময় দেখা হয়,কথা হয়, তুমি নামাজ পড়ো? কই, মসজিদে তো যেতে দেখি না।"
সাইফুল মোটে কথা বলে না।এইবার বললো," মাজে চা পিরেজপুর খুব নামাজ পড়ে,ঘনোঘনো পড়ে হে,হে হেহে - হে।"
মানে পিরোজপুর মাজে চাচার শ্বশুর বাড়ি। চাচী প্রায়প্রায় রাগ করে বাপের বাড়ি চলে যায়। চাচা যেয়ে আবার হাতেপায়ে ধরে নিয়ে আসে।
মাজে চা এইবার সাইফুলকে ধরলো।
" ওরে দামড়া, বয়স ৩০ হলো ছেলেপুলে সব গায় বসে গেলো বউয়ের মুখ তো চোখে দেখলে না।তুমি কী করে বুঝবা কৃষ্ণ কেনো রাধার জন্যে যমুনায় নৌকা নিয়ে বসে থাকে?"
সাইফুলের মুখ কালো হয়ে গেলো।আমি ঢোক চিপলাম।কারণ, তখন আমিও অবিবাহিত।
দোকানদার বিপ্লব এইবার হেসে রোখালোভাবে বললো," মাজে চা, তোমার বয়স তো ৭ ০ এর কম না।কাশতে কাশতে পেদে ফেলো, পাদদেদে হেগে ফেলো।তুমি আবার এই বয়সে কৃষ্ণ হচ্ছো।"
এ কথা শুনে মাজে চাচার মুখ শুকিয়ে আমচুর হয়ে গেছে।লোকজনের ভিতর আকস্মিক এত বড় অপমান! তার উল্টে পড়া অবস্থা। মুখ হা করে মাথাটা খুঁটিতে লাগিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। দেখে মায়াও হচ্ছে। তার ডান পা লুঙ্গি সহ উচু হতে শুরু করেছে। পেদে ফেলবে কি-না কে জানে।আমরা আতংকিত হয়ে তাকিয়ে আছি।কিন্তু হঠাৎ তার মাথার চুলগুলো খাড়া হতে শুরু করেছে।মানে, সে মনেমনে বুদ্ধি শান দিচ্ছে। বিপ্লবেকে কঠিন শাস্তি দেওয়ার বুদ্ধি বের করছে।কিন্তু না।সমস্ত শরীর কাপিয়ে, ব্যপক শব্দ করে সে এক মহা হাঁচি দিলো।হাঁচির তীব্র বেগে নাক থেকে পোঁটা বের হয়ে আসলো।সেই ঘনো সাদা ময়লা পোঁটা মুছলো বাম হাতে। ডান হাতে নাক টিপে বের করলো পরিষ্কার পানির মতো পোঁটা। চুন লাগানো পানের বোটা নিলো বাম হাতে। ডানহাতের তর্জনীতে পরিষ্কার পোটা নিয়ে চুনের সাথে মিশিয়ে জিভের ডগায় সুন্দর করে লাগালো।তারপর পানের সাথে পোঁটা মিশিয়ে আরাম করে চিবাতে লাগলো।
ঘৃণায় আমার চোখ মুখ শক্ত হয়ে গেছে। সাইফুল থুথু ফেলছে। বিপ্লবের প্রায় বমি করা অবস্থা। আমি মুখ বিকৃত করে জিজ্ঞেস করলাম, " মাজে চা তুমি করলে কী?"
মাজে চা পোঁটার ঢোক গিলে তৃপ্তি সহকারে বললো," আজ কয়দিন সর্দি সারে না।হঠাৎ ওস্তাদের কাছে শেখা চিকিৎসা মনে পড়লো।পাঁচদিন পাঁচটা পানের সাথে পরিষ্কার পোঁটা মিশিয়ে খাও। সর্দি কোথায় চলে যাবে।"
" ঠিক বলছো?"
" তোর সাথে মিথ্যা বলে আমার লাভ কী? আমি কি তোকে খেতে বলছি? আমার সমস্যা আমি খাচ্ছি। "
বিপ্লবের বমি থেমে গেছে। তার চির সর্দি। ওষুধ খেয়ে সারে না। সে অবিশ্বাসের সুরে বললো," চাচা, তুমি গুল মারছো।এভাবে সর্দি সারলে মানুষ ওষুধ খায় কেনো?"
" জ্ঞানীরা ওষুধ খায় না । ওষুধ খায় পোকায়।আমরা ধানে ওষুধ দিই,সবজিতে ওষুধ দিই। পোকায় খায়।খেয়ে মরে।আমরা কি পোকা, যে ওষুধ খাবো?ওষুধ শরীরে একটা উপকার করলে ১০ টা ক্ষতি করে।খাও ওষুধ খাও খেয়ে মরো।"
আমি বললাম," তাই বলে নিজের সর্দি নিজে?"
" কেন, সমস্যা কী?তোর পেটের ভিতর গু নেই এখন?"
" আছে।"
" বমি কর।পেট ফেলে দে। শোন,নিজের সর্দিতে নিজের সর্দি সারার এন্টিবায়োটিক থাকে ক্ষত সারার উপাদান থাকে। এন্টিবায়োটিক ডাক্তার কয়দিন খেতে বলে?"
" পাঁচদিন বা সাত দিন।"
" আমি পোঁটা - পান কয়দিন খেতে বলেছি?"
" পাঁচদিন।"
আমরা কথা বলছি।বিপুল মুখে পান চিবাচ্ছে। নাক থেকে সর্দি নিয়ে চুনের সাথে মিশিয়ে সে খাওয়া শুরু করেছে। তার মুখ দেখে মনে হচ্ছে সে কেন্নো চিবাচ্ছে। ঘৃনায় মুখ কুঁকড়ে আছে।
মাজে চা বললো," ঘৃনা করে খেলে হবে না। আনন্দের সাথে খেতে হবে।মুখ থাকবে হাসিহাসি। "
বিপুল আনন্দ করে, হেসেহেসে পোঁটা পান খাচ্ছে।তার চোখে রাশিরাশি পানি টলমল করছে। আমার মাথা ঘুরছে।
মাজে চা বললো," আমার বয়স ৭০ পার হলো।কোনদিন ওষুধ খেতে দেখেছিস?"
দোকানের সবাই প্রায় সমস্বরে বললো," না।"
আমি আর্ত চোখে তাকালাম।ও আল্লাহ, একি? সবাই স্বঘোষিত জ্ঞানী মাজে চাচাকে বিশ্বাস করতে শুরু করেছে।
মাজে চা বললো," আমি গ্যাসের চিকিৎসাও জানি।কোনো ওষুধ লাগবে না। বিনা টাকায় গ্যাস ভালো।"
সবাই বললো," তা বলো কী সেই চিকিৎসা? "
মাজে চা উঠতে উঠতে বললো," বেলা চলে যাচ্ছে। বাজার করে আসি।"
মাজে চা বাজারে চলে যাচ্ছে। আমরা সবাই তার দিকে তাকিয়ে আছি। পশ্চিম পাড়ার সলিম চাচা বললো," আসলে- মাজে জ্ঞানী মানুষরে।ও অনেক কিছু জানে।ও গু খেতে বললে গু ও খাওয়া যায়।"
সলিম বুড়োর কথা শুনে আমার জ্ঞান হারানোর অবস্থা।কোনো রকম টলতে টলতে বাড়ির পথ ধরলাম।
জ্ঞানী মাজে চা ২
হুমায়ূন কবীর মাসয
৩০/৫/২৬