Posts

উপন্যাস

এক ছাতার নিচে। পর্ব:৪৫

June 2, 2026

busra islam

4
View

#গল্প- এক ছাতার নিচে 

#লেখিকা- বুশরা নাদরাহ 

#পর্ব - ৪৫

  দেখতে দেখতে সময়টা যেন কিভাবে পেরিয়ে গেল—কেউ বুঝতেই পারল না।  একদিন… দুইদিন… তারপর পুরো একটা মাস।  

এই এক মাসে অনেক কিছু বদলে গেছে।  ইনায়া সত্যিই রাইহানের কথা রেখেছে–

 নিয়ম করে কলেজে গিয়েছে, পড়াশোনায় মন দিয়েছে, নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছে একটু একটু করে।  

রায়হানের সাথে দেখা কম হয়েছে ঠিকই, কিন্তু প্রতিদিন রাতের সেই ছোট্ট ফোনালাপ— ওটাই যেন তাদের ভালোবাসাকে আগের থেকেও বেশি গভীর করে তুলেছে। 

 আজ ১৪ তারিখ।  

ঘরের ভেতর এক অন্যরকম চাপা উত্তেজনা… কারণ—

কাল থেকে শুরু এক্সাম।  টেবিল ভর্তি বই, খাতা, ইনায়া মাথা নিচু করে পড়ছে।  মাঝে মাঝে থেমে যাচ্ছে— কোনো একটা জায়গা বুঝতে চেষ্টা করছে, আবার লিখছে।আবার পড়ছে।  তার চোখে এখন আর আগের সেই দ্বিধা নেই, বরং আছে দৃঢ়তা।  

 রাত অনেকটা হয়ে গেছে।  

হঠাৎ ফোনে রিং হলো— রায়হান। 

 ইনায়া ফোন রিসিভ করতেই,,

  "পড়ছো?ওপাশ থেকে প্রশ্ন।  

"হুম, একটু বাকি আছে,শেষ করছি। 

 ইনায়া ক্লান্ত কিন্তু আত্মবিশ্বাসী।  

রায়হান মৃদু হেসে বলল— 

 "টেনশন নিও না। তুমি পারবে। 

 ইনায়া একটু থেমে,

" আপনি পাশে আছেন তো?

  ওপাশে কয়েক সেকেন্ড চুপ, তারপর খুব নরম গলায়,  

"সবসময়। 

 রাতটা কেটে গেল প্রস্তুতির মধ্যেই।  

পরদিন সকালে ইনায়া খুব সকালেই উঠে গেছে।  ফ্রেশ হয়ে পড়া রিভার্স করছে। কিছুক্ষন পর ফারহানা বেগম এসে ইনায়াকে খায়িয়ে দিয়ে গেলেন। 

 নয় টার সময় ইনায়া নিজেকে গুছিয়ে, সবার থেকে বিদায় নিয়ে, ব্যাগ কাধে দরজার সামনে এসে দাঁড়াল। হালকা নার্ভাস লাগছে, কিন্তু ভিতরে কোথাও একটা শক্তিও কাজ করছে।

  বাইরে বের হতেই দেখে ইহান আর রায়হান দাঁড়িয়ে আছে।  ইনায়া একটু অবাক হয়ে বলল,

  "তোমরা? 

 ইহান হেসে বলল, 

"আজ তোকে একা যেতে দিবো নাকি?  

রায়হান শুধু চুপচাপ তাকিয়ে ছিল,,  চোখে সেই পরিচিত ভরসা। 

 " চল। রাইহান আস্তে বলল।  

তিনজন একসাথে গাড়িতে উঠল।  রাস্তায় হালকা সকালবেলার রোদ,চারপাশে একটা নতুন দিনের গন্ধ।  ইনায়া হাতে শক্ত করে ব্যাগটা ধরা।চুপচাপ বসে আছে।  

হঠাৎ রায়হান আস্তে বলল,

  "টেনশন হচ্ছে?  

ইনায়া হালকা হেসে মাথা নাড়ল,  

"একটু।   

ইহান সঙ্গে সঙ্গে বলল—  

"এইটা ভালো সাইন, মানে সিরিয়াসলি নিয়েছিস।

  তিনজনের মাঝেই হালকা হাসি ছড়িয়ে পড়ল।

  কলেজের সামনে এসে গাড়ি থামল। ইনায়া নামার আগে একবার দুজনের দিকে তাকাল।

  রায়হান আস্তে বলল—  

"যাও।ভালো করে এক্সাম দেও।  

ইহান যোগ করল, 

 "আমরা আছি বাইরে।  

ইনায়ার বুকটা হালকা কেঁপে উঠল, এই ‘আমরা আছি’ কথাটা যেন তাকে ভেতর থেকে শক্তি দিল।  সে মাথা নাড়িয়ে ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকে গেল। 

 আজ শুধু একটা এক্সাম না, আজ তার বদলে যাওয়ার প্রমান।

Comments

    Please login to post comment. Login