Posts

উপন্যাস

এক ছাতার মতো। পর্ব:৪৬

June 4, 2026

busra islam

4
View

#গল্প- এক ছাতার নিচে 

#লেখিকা- বুশরা নাদরাহ

 #পর্ব - ৪৬  

ইনায়ার এক্সাম চলছে।   

সকালে কলেজে যাচ্ছে,আর রাত হলেই বই খুলে বসে পড়ছে। দিনগুলো যেন শুধু পড়া আর টেনশনের মধ্যে কাটছে।  

রাত একটা বাজে, ইনায়া বই খুলে বসে আছে।কিন্তু তার মাথা একদম কাজ করছে না।  এক পৃষ্ঠা পড়ছে,আবার বন্ধ করে রাখছে।

  "নাহ, আর ভালো লাগছে না। নিজেই আনমনে বলল। 

চোখে ক্লান্তি, মাথায় চাপ, সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে আর পারছে না।  ফোনটা হাতে নিল। রায়হানের নামটা দেখে একটু থেমে গেল, তারপর কল দিল। 

 "হ্যালো।রায়হানের কণ্ঠ। 

 ইনায়া ধীরে বলল,

 " ভালো লাগছে না।  

" কেন?  কি হয়েছে? 

  " কিছু হয়নি।   

" তাহলে?কিছু খেতে ইচ্ছা করছে?   

 ওপাশে চুপ। রাইহান আবার বলল, 

"কি খেতে ইচ্ছে করছে?  

" কিছু না।  

" তাহলে ভালো লাগছে না কেন?  

  "জানিনা। 

 " ওহ। ফোন টা কেটে গেল। 

 রায়হান শুধু অহ  বলে ফোন টা কেটে দেয়ায় ইনায়ার মন টা খারাপ হয়ে গেলো, ইনায়ার মাথায় চিন্তা ঘুরছে,  ওনি শুধু ওহ বলে ফোন টা কেটে দিলেন।এখন আমার সাথে আগের মতো কথাও বলে না। বারবার মনে হচ্ছে ওনি কি তাহলে অন্য কাউকে ভালোবাসে? আমাকে কি আর ভালো না?   

ভাবতে ভাবতে কখন যে সময় পেরিয়ে যাচ্ছে ইনায়ার তাতে কোন খবর নেই। প্রায় ৩০ মিনিট পর ইনায়ার ফোনে টুং করে আওয়াজ হয় কোন নোটিফিকেশন এসেছে।

   ইনায়া তাকিয়ে দেখে রায়হানের মেসেজ দেখবে নাকি দেখবে না এসব ভাবতে মোবাইলটা হাতে নিয়ে মেসেজ ওপেন করে।   

" ইনায়া নিছে আসো।আমি দাঁড়িয়ে আছি,,।

  ইয়ানায়া তড়িঘড়ি উঠে জানালার কাছে যেয়ে দেখে সত্যি সত্যি রায়হান বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, কালো টাওজার আর  সাদা কারাল টি-শার্ট পরা হাতে হেলমেট চুলগুলো এলোমেলো বাইক এর সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। 

   ইনায়া রায়হান কে দেখে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে,নিজেই বিড়বিড় করে বলল, এতো সুন্দর কেন লাগে আপনাকে?যতই রাগ করি ওই চেহারা দেখলে আমার রাগ কোথায় যায়? 

  হঠাৎ রায়হান উপরের দিকে তাকিয়ে হাত ইশারা করে ইনায়া কে নিচে নামতে বলে।

  ইনায়া মাথা নাড়ে, রুম থেকে বের হয়ে আস্তে আস্তে নিচে নেমে আসে। রায়হানের সামনে যেয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে ।  রায়হান বলে উঠলো,

  কি হয়েছে ইনায়া? চুপ হয়ে আছো কেন? 

  " কিছু হয়নি। এই বলে ইনায়া আবার চুপ হয়ে গেলো। 

 "মন খারাপ করে আছো কেন বলো কি হইছে?  

  ইনায়া মাথা নিচু করে আস্তে করে বলল,

"আপনার কি এখন আর আমায় ভালো লাগে না?

  রায়হান ইনায়ার এমন কথা শুনে অবাক হয়ে গেলো, 

 "কি সব বলছো ইনায়া তোমাকে কেন আমার ভালো লাগবে না?আমি তোমায় খুব খুব ভালোবাসি। 

"  তাহলে তখন আমি বললাম আমার ভালো লাগছে আপনি শুধু ওহ বলে ফোন টা কেটে দিলেন?আর এখন আপনি আমার সাথে আগের মতো কথাও বলেন না। 

 " তোমার ভালো লাগছে না শুনে আমি কল কেটে বের হয়ে গিয়েছি তোমার কাছে আসার জন্য। আর তোমার পরিক্ষা চলছে, তাই বেশি ফোন দেয় না। 

 " পরিক্ষা শেষ হলে আবার আগের মতো কথা বলবেন?  

 " হুম।এবার দেখি তোমার হাত টা দেও তো।  

 ইনায়া হাত বাড়িয়ে দিলো।  

রায়হান ইনায়ার হাতে সুন্দর করে এক মুঠ কাচের চুড়ি পরিয়ে দিলো।

  ইনায়া হাত ভরা চুড়ির দিকে তাকিয়ে আছে। মনে মনে নিজেকে বকছে কিভাবে উনাকে সন্দেহ করতে পারলাম। 

 রায়হান ইনায়ার দিকে একটা ব্যাগ এগিয়ে দিলো,ব্যাগ ভর্তি ছিলো চিপস, চকলেট, জুস আর আইস্ক্রিম।   

ইনায়া ব্যাগটা হাতে নিয়ে চুপ হয়ে গেল।  চোখে অদ্ভুত একটা অনুভূতি।

  " আপনি এভাবে এতো কিছু নিয়ে চলে আসলেন? দোকান খোলা পেয়েছেন?

  রায়হান আস্তে বলল,   

"তা নিয়ে তোমার ভাবতে হবে না। 

 একটু নীরবতা। চারদিকে হালকা বাতাস বইছে।আশেপাশে কোন মানুষ নেই শুধু তারা দুজন দাড়িয়ে আছে। 

  কিছুক্ষণ পরে রায়হান চলে গেল।  

ইনায়া উপরে উঠে রুমে চলে গেলো।

Comments

    Please login to post comment. Login