Posts

ইন্টারভিউ

বোনের ছেলের জন্য পাত্রীর ইন্টারভিউ নিতে গ্রামে।

June 6, 2026

Shafin pro

24
View

আমার বোনের ছেলের জন্য প্রত্যন্ত গ্রামে (অজ পাড়াগাঁয়ে) পাত্রী দেখতে যাওয়া এবং ইন্টারভিউ নেওয়ার অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে একটি বিস্তারিত এবং দীর্ঘ ইন্টারভিউ বা কথোপকথন নিচে দেওয়া হলো। এটি আপনাদের ও পাঠকের চাহিদা অনুযায়ী অত্যন্ত নিখুঁত ও বাস্তবসম্মতভাবে সাজানো হয়েছে কি না তাহা আমি জানিনা তবে ছোট্ট জ্ঞান বিয়ের যতটুকু ধরে ছে তুলে তা আমি তুলে ধরলাম।1আলতাফ হোসেন (গল্পের প্রধান কথক, বরের বড় মামা, ঢাকা শহরের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও মার্জিত ব্যক্তিত্ব)২. রেহানা বেগম (বরের মা, আলতাফ হোসেনের ছোট বোন, মন কিছুটা শহুরে আভিজাত্যে ঘেরা হলেও অন্তরে স্নেহময়ী)৩. মোজাম্মেল হক (ঘটক এবং দূর সম্পর্কের আত্মীয়, যিনি এই বিয়ের মধ্যস্থতা করছেন)৪. আবদুর রহমান (পাত্রীর বাবা, গ্রামের অত্যন্ত সহজ-সরল, আত্মমর্যাদাশীল এবং ধার্মিক গৃহস্থ)৫. হামিদা বানু (পাত্রীর মা, অত্যন্ত অতিথি পরায়ণ এবং শান্ত স্বভাবের গ্রাম্য নারী)৬. সুলতানা রাজিয়া (পাত্রী, গ্রামের সরকারি কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্রী, বুদ্ধিদীপ্ত ও মায়াবী চেহারার অধিকারী)দৃশ্যপট: গ্রামে আগমন ও প্রারম্ভিক পরিবেশ(ঢাকা শহর থেকে সকাল ৫টায় রওনা দিয়ে আলতাফ হোসেন এবং তার বোন রেহানা বেগম দুপুর ১২টার দিকে পৌঁছালেন এক প্রত্যন্ত গ্রামে, যার নাম স্থানীয় মানুষের মুখে 'অজু পাড়া'। ভাঙাচোরা রাস্তা, কাদা-মাটি মাড়িয়ে এবং শেষ তিন কিলোমিটার ভ্যানে চড়ে অবশেষে তারা পাত্রীর বাড়িতে এসে পৌঁছান। বাড়িটি টিন এবং মাটির তৈরি হলেও চারপাশটা বেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। উঠোনে একটি বড় আম গাছ এবং তার নিচে বসার জন্য কাঠের পিঁড়ি ও চেয়ার পাতা। ঘরের ভেতর ছোট কিন্তু পরিপাটি বৈঠকখানায় এসে সবাই বসলেন। হামিদা বানু কাঁসার গ্লাসে লেবুর শরবত দিয়ে গেলেন। শরবত খেয়ে আলতাফ হোসেন রুমাল দিয়ে কপালের ঘাম মুছতে মুছতে কথা শুরু করলেন।)১. গ্রামে পৌঁছানো এবং গ্রামীণ যাতায়াত নিয়ে প্রথম প্রতিক্রিয়াআলতাফ হোসেন: (লম্বা একটা শ্বাস নিয়ে) মোজাম্মেল সাহেব, আপনার এই 'অজু পাড়া' গ্রাম তো আসলেই নামের সার্থকতা শতভাগ প্রমাণ করল! ঢাকা শহর থেকে রওনা দিয়েছি সেই কাকডাকা ভোরে। প্রথমে হাইওয়ে, তারপর জ্যাম, এরপর লোকাল বাস, আর শেষমেশ এই কাদা-জল মাড়িয়ে ভ্যানে চড়ে আসা। আমার তো মনে হচ্ছিল মাঝপথ থেকেই ফিরে যাই। কোমর আর পিঠের যা অবস্থা, শহরে গিয়ে তিনদিন ফিজিওথেরাপি নিতে হবে মনে হয়!মোজাম্মেল হক: (হেসে হাত কচলাতে কচলাতে) আরে আলতাফ ভাই, একটু কষ্ট না করলে কি আর খাঁটি সোনার খোঁজ পাওয়া যায়? এই যুগের শহরের মেয়েরা তো শুধু বিউটি পার্লার, শপিং মল আর রেস্টুরেন্ট চেনে। কিন্তু আমাদের আবদুর রহমান ভাইয়ের মেয়ে সুলতানা যেমন রূপবতী, তেমনই গুণবতী। একদম খাঁটি গ্রামীণ আলো-বাতাসে বড় হওয়া মেয়ে, কোনো কৃত্রিমতা নেই। আর পড়াশোনায় যে কত ভালো, তা তো আপনাদের আগেই বলেছি। একটু পরেই নিজের চোখে দেখবেন।রেহানা বেগম: (একটু অসন্তুষ্টির সুরে আঁচল দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে) তা তো বুঝলাম মোজাম্মেল ভাই। কিন্তু আমার একমাত্র ছেলে ফাহিম থাকে কানাডায়। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে খুব ভালো বেতন পায়, নাগরিকত্বও পেয়ে যাবে কিছুদিনের মধ্যে। তার জন্য পাত্রী দেখতে এতদূরে আসতে হবে, আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। আমার ইচ্ছা ছিল ঢাকার কোনো নামী দামী পরিবারের মডার্ন মেয়ে ঘরে আনা, যে বিদেশের মাটিতে গিয়ে হাই-সোসাইটির সাথে চলতে পারবে। কিন্তু ফাহিমের এক জেদ—তার নাকি একদম সহজ-সরল, পরহেজগার গ্রামীণ মেয়ে পছন্দ। কিন্তু আমার ভয় হচ্ছে, এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়ে কি টরন্টোর মতো মেগাসিটির পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে পারবে? সে কি শুদ্ধ করে দুটো ইংরেজি কথা বলতে পারবে? নাকি সেখানে গিয়ে আমাদের মুখ কাটাবে?আলতাফ হোসেন: আপা, তুমি এত অধৈর্য হইয়ো না। ফাহিম আমাদের ওপর ভরসা করে পাঠিয়েছে। আমি তো আছি। আমি নিজেই ফাহিমের পক্ষ থেকে মেয়েটিকে ভালোভাবে ইন্টারভিউ নেব। তার মনমানসিকতা, শিক্ষা, চিন্তাভাবনা আর যোগ্যতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই না করে তো আর আমরা পাকা কথা দেব না। আজকাল গ্রামের মেয়েরাও কিন্তু অনেক এগিয়ে গেছে।(এই সময় ঘরে প্রবেশ করলেন পাত্রীর বাবা আবদুর রহমান। পরনে সাদা সুতির পাজামা-পাঞ্জাবি, মাথায় টুপি, মুখে সুন্নতি দাড়ি ও বিনয়ী হাসি। তার পেছনে পেছনে পাত্রীর মা হামিদা বানুও এলেন।)আবদুর রহমান: আসসালামু আলাইকুম। আপনারা অনেক দূর থেকে এসেছেন, রাস্তায় অনেক কষ্ট হয়েছে আপনাদের। এই অজ পাড়াগায়ে আপনাদের মতো শহরের সম্মানিত মানুষদের একটু ভালো বসার জায়গাও দিতে পারলাম না। আমাদের ভাঙা ঘরে আপনাদের মতো হাতির পা পড়েছে, আমরা ধন্য। কোনো ভুলত্রুটি হলে দয়া করে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।আলতাফ হোসেন: ওয়ালাইকুম আসসালাম। না না, রহমান সাহেব, ঠিক আছে। কষ্ট তো একটু হয়েছেই, তবে আপনার বাড়ির চারপাশের এই সবুজ প্রকৃতি আর শান্ত পরিবেশ দেখে মনটা জুড়িয়ে গেল। শহরের ইট-পাথরের খাঁচায় এই শান্তি তো পাওয়া যায় না। তবে হ্যাঁ, রাস্তাঘাটের একটু উন্নয়ন হওয়া দরকার। তা রহমান সাহেব, কাজের কথায় আসি। আপনার মেয়ে সুলতানাকে ডাকুন। আমরা তো মূলত ওর সাথেই কথা বলতে এসেছি। ফাহিম আমাদের সব দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছে।আবদুর রহমান: জ্বী, অবশ্যই। ওর মা ওকে সাজিয়ে নিয়ে আসছে। আপনারা একটু বসুন, আমি ওকে ডেকে আনছি। ও একটু লজবতী, তবে আপনাদের সব প্রশ্নের উত্তর ও দিতে পারবে ইনশাআল্লাহ।(কিছুক্ষণ পর হামিদা বানু তার মেয়ে সুলতানাকে নিয়ে ঘরে প্রবেশ করলেন। সুলতানার পরনে একটি সুন্দর, মার্জিত হালকা নীল রঙের জামদানি সুতি শাড়ি। মাথায় সুন্দর করে ঘোমটা দেওয়া, তবে মুখটি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। কোনো ভারী মেকআপ নেই, এক স্বাভাবিক ও সহজাত মায়াবী সৌন্দর্য তার মুখে। চোখে-মুখে এক ধরনের শান্ত, আত্মবিশ্বাসী ও বুদ্ধিদীপ্ত আভা। সুলতানা ঘরে ঢুকেই অত্যন্ত নিচু ও ভদ্র সুরে সবাইকে সালাম জানাল এবং রেহানা বেগম ও আলতাফ হোসেনের পা ছুঁয়ে সালাম করতে গেল।)সুলতানা: আসসালামু আলাইকুম, আম্মাজান। আসসালামু আলাইকুম, মামুজান। আপনারা ভালো আছেন?রেহানা বেগম: (সালাম নিয়ে মেয়েটিকে হাত ধরে তুললেন এবং একটু খুঁটিয়ে দেখলেন) ওয়ালাইকুম আসসালাম। হ্যাঁ মা, ভালো আছি। এসো, আমার পাশে এই চেয়ারটায় এসে বোসো। ভয় পাওয়ার কিছু নেই, সহজ হয়ে বোসো।(সুলতানা তার মায়ের পাশে একটি কাঠের চেয়ারে বসল। আলতাফ হোসেন তার চশমাটি ঠিক করে পকেট থেকে একটি নোটপ্যাড বের করলেন এবং ইন্টারভিউ শুরু করার জন্য প্রস্তুত হলেন।)২. শিক্ষা, ভাষা ও প্রযুক্তি জ্ঞান যাচাইআলতাফ হোসেন: মা সুলতানা, আমি ফাহিমের বড় মামা, আলতাফ হোসেন। আর ইনি ফাহিমের আম্মা, অর্থাৎ তোমার হবু শাশুড়ি। ফাহিম নিজে আসতে পারেনি কারণ ও কানাডায় একটা বড় সফটওয়্যার প্রজেক্টে লিড দিচ্ছে, ছুটি পায়নি। তো, আমরা সরাসরি মূল কথায় আসি। তোমার শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে একটু জানতে চাই। তুমি এখন কোথায় কী পড়ছ?সুলতানা: জ্বী মামুজান। আমি আমাদের উপজেলা সদরের সরকারি কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্য নিয়ে অনার্স ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষা দিয়েছি। এখন রেজাল্টের জন্য অপেক্ষা করছি। পাশাপাশি আমি কিছু ইসলামিক ছোটখাটো কোর্সও সম্পন্ন করেছি।রেহানা বেগম: (একটু ভ্রু কুঁচকে) বাংলা সাহিত্য? শোনো মা, আমার ছেলে ফাহিম কিন্তু ছোটবেলা থেকেই ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ালেখা করেছে। এরপর বুয়েট থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে পাস করে সরাসরি কানাডায় স্কলারশিপ নিয়ে গেছে। ওর ফ্রেন্ড সার্কেল, কলিগ সবাই হাই প্রোফাইল এবং তারা ইংরেজিতে কথা বলে। তুমি বাংলা নিয়ে পড়াশোনা করেছ, এটা ভালো। কিন্তু ইংরেজি পারো কিছু? নাকি ফাহিম বাইরে কোনো পার্টিতে নিয়ে গেলে এক কোনায় চুপ করে বসে থাকতে হবে?সুলতানা: (বিনীতভাবে কিন্তু মুখে মৃদু হাসি রেখে, অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে) আম্মাজান, আপনার এই সংশয়টা খুবই স্বাভাবিক। বাংলা সাহিত্য আমার মায়ের ভাষা, আমার সংস্কৃতির ভাষা, তাই আমি এই বিষয়টিকে ভালোবেসে বেছে নিয়েছি। তবে এর মানে এই নয় যে আমি অন্য ভাষা জানি না। আমাদের অনার্সের পাঠ্যক্রমে ইংরেজি একটি আবশ্যিক বিষয় ছিল। তাছাড়া, বর্তমান যুগের সাথে তাল মেলাতে আমি নিজের আগ্রহেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে ব্রিটিশ কাউন্সিলের কিছু অনলাইন স্পোকেন ইংলিশ কোর্স করেছি। আমি নিয়মিত ইংরেজি পত্রিকা পড়ি এবং বিবিসি, সিএনএনের মতো আন্তর্জাতিক সংবাদগুলো দেখার চেষ্টা করি। আমি হয়তো শহরের ইংরেজি মাধ্যমের ছাত্র-ছাত্রীদের মতো অনর্গল বা কৃত্রিম উচ্চারণে কথা বলতে পারব না, তবে বিদেশের মাটিতে যেকোনো মানুষের সাথে যোগাযোগ করা, ব্যাংকিং, শপিং বা সামাজিক স্তরে মনের ভাব প্রকাশ করার মতো ইংরেজি দক্ষতা আমার আছে, ইনশাআল্লাহ।আলতাফ হোসেন: (একটু চমৎকৃত হয়ে রেহানা বেগমের দিকে তাকিয়ে) বাঃ! চমৎকার উত্তর দিয়েছ তো মা। তোমার উচ্চারণে এক ধরনের স্পষ্টতা আর আত্মবিশ্বাস আছে। আচ্ছা সুলতানা, তোমার এই গ্রাম 'অজু পাড়া' তো বেশ প্রত্যন্ত। শহর থেকে এত দূরে। এখানে ইন্টারনেট বা আধুনিক সুযোগ-সুবিধা কেমন? তুমি কিভাবে নিজেকে এই অজ পাড়াগায়ে থেকেও আপ-টু-ডেট রাখো?সুলতানা: মামুজান, আমাদের গ্রামটি ভৌগোলিক দিক থেকে শহর থেকে দূরে এবং রাস্তাঘাট কাঁচা হতে পারে, কিন্তু প্রযুক্তিগতভাবে আমরা এখন আর পিছিয়ে নেই। আমাদের গ্রামে এখন ফোর-জি ইন্টারনেট পাওয়া যায়। আমার একটা স্মার্টফোন এবং একটি সাধারণ ল্যাপটপ আছে, যা আমার বাবা আমার পড়াশোনার সুবিধার জন্য কষ্ট করে কিনে দিয়েছিলেন। আমি ঘরে বসেই গুগলের বিভিন্ন শিক্ষণীয় সাইট, অনলাইন লাইব্রেরি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনারের তথ্য রাখি। প্রযুক্তি আমাদের এই অজ পাড়াগাঁকেও এখন গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশ্বগ্রামের সাথে যুক্ত করে দিয়েছে। তাই নিজেকে আপডেট রাখতে আমার কোনো সমস্যা হয় না।৩. প্রবাস জীবন, পরিবেশের পরিবর্তন ও অভিযোজন ক্ষমতারেহানা বেগম: আচ্ছা মা, প্রযুক্তির কথা তো শুনলাম। কিন্তু বাস্তব জীবন তো সম্পূর্ণ আলাদা। তুমি বড় হয়েছ এই শান্ত গ্রামে, যেখানে চারপাশে গাছপালা, পাখি ডাকে, মুক্ত হাওয়া, কাদা-মাটি আর ধুলোবালি। কিন্তু কানাডার জীবনযাপন সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে বছরের প্রায় ছয় মাস প্রচণ্ড ঠাণ্ডা থাকে, চারদিকে শুধু বরফ পড়ে। মানুষের জীবনযাত্রা অত্যন্ত যান্ত্রিক এবং দ্রুত। সেখানে প্রতিবেশী চেনা যায় না, একাকীত্ব গ্রাস করে। তুমি কি মনে করো তুমি ওই রকম একটা চরম বৈরী পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে? নাকি সেখানে গিয়ে কয়েকদিন পরেই কান্নাকাটি শুরু করবে আর বলবে—আমি গ্রামে মা-বাবার কাছে ফিরে যাব?সুলতানা: আম্মাজান, আপনার এই প্রশ্নটি অত্যন্ত গভীর এবং বাস্তবসম্মত। গ্রামের একটা মেয়ে হুট করে অন্য একটা দেশে গেলে মানিয়ে নিতে কষ্ট হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে আমার মনে হয়, মানুষের সবচেয়ে বড় গুণ হলো তার অভিযোজন ক্ষমতা বা যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার শক্তি। গাছ যেমন ঝড়ের দিনে নিজেকে বাঁকিয়ে নিয়ে টিকে থাকে, মানুষও তেমন। আমি যদি আমার শিকড়কে শক্তভাবে মনে রাখি, তবে যেকোনো নতুন পরিবেশকে গ্রহণ করা আমার জন্য সহজ হবে। আর সবচেয়ে বড় কথা, যেখানে আমার স্বামী আমার পাশে থাকবে, যিনি আমার অভিভাবক এবং পরম বন্ধু হবেন, সেখানে একাকীত্ব বা হোমসিকনেস আমাকে কাবু করতে পারবে না বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আর বরফ বা ঠাণ্ডা আবহাওয়া তো প্রকৃতিরই একটা অংশ, গ্রামের মানুষ হিসেবে আমরা রোদ, বৃষ্টি, ঝড়—সব ধরনের প্রকৃতির সাথেই লড়াই করে অভ্যস্ত। তাই কানাডার ঠাণ্ডাও আমি ইনশাআল্লাহ সামলে নিতে পারব।আলতাফ হোসেন: (নোটপ্যাডে কিছু একটা লিখলেন এবং মাথা নাড়লেন) চমৎকার! তোমার চিন্তাভাবনা তো অনেক ম্যাচিউরড, সুলতানা। আচ্ছা মা, এবার একটু বাস্তব জীবনের কাজ নিয়ে কথা বলি। বিদেশে কিন্তু কোনো কাজের লোক, বুয়া বা সাহায্যকারী পাওয়া যায় না। সেখানে ফাহিমকেও নিজের সব কাজ নিজে করতে হয়—যেমন ঘর পরিষ্কার করা, কাপড় ধোয়া, এমনকি রান্না করা। বিয়ের পর ঘরের বউকেও সমস্ত রান্না এবং গৃহস্থালির কাজ একহাতে সামলাতে হবে। শহরের অনেক মেয়েই কিন্তু আজকাল রান্না করতে চায় না বা পারে না। তুমি ঘরের কাজ কেমন পারো?সুলতানা: (মুচকি হেসে) মামুজান, আমি গ্রামের মেয়ে। মা আমাকে ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি ঘরের সব কাজ শিখিয়েছেন। আমাদের এখানে যৌথ পরিবার, চাচা-জ্যাঠারা সবাই একসাথে থাকেন। তাই প্রতিদিন অনেক মানুষের রান্না করতে হয়। আমি দেশি সব ধরনের ঐতিহ্যবাহী রান্না, পিঠা-পুলি, মাছ-মাংস রান্না করতে পারি। আর ফাহিম ভাইয়ার যদি অন্য কোনো দেশের খাবার বা ওয়েস্টার্ন ফুড পছন্দ হয়, তবে আমি ইন্টারনেট এবং ইউটিউব দেখে সেই রেসিপিগুলো সহজেই শিখে নিতে পারব। রান্নার বিষয়ে বা ঘর গুছানোর বিষয়ে আপনাদের একটুও চিন্তা করতে হবে না। নিজের জীবনসঙ্গীর জন্য রান্না করা তো আমার জন্য আনন্দের বিষয় হবে, কষ্টের নয়।৪. পোশাক, আধুনিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধরেহানা বেগম: (মেয়ের রান্নার কথায় একটু খুশি হলেন, কিন্তু আবার গম্ভীর হয়ে বললেন) রান্না তো বুঝলাম। কিন্তু পোশাক-আশাকের বিষয়ে তোমার মতামত কী? বিদেশে তো সবাই জিন্স, টপস, স্কার্ট বা আধুনিক সব পোশাক পরে। তুমি তো এখানে শাড়ি আর থ্রি-পিস পরছ, মাথায় ঘোমটা দিচ্ছ। সেখানে গিয়ে কি তুমি এগুলোই পরবে নাকি যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেকে পরিবর্তন করবে? ফাহিম আবার চায় তার স্ত্রী যেন শালীন কিন্তু স্মার্ট থাকে। ইন্টারভিউ এর ভিতরে আরো কিছু কথা  হয়েছিল ।যা ইন্টারভিউ দীর্ঘ হয়ে যায় বিধায় লেখাটি এখানেই শেষ করিতেছি।

Comments

    Please login to post comment. Login