Posts

উপন্যাস

এক ছাতার নিচে। পর্ব:৪৭

June 6, 2026

busra islam

6
View

#গল্প- এক ছাতার নিচে

 #লেখিকা- বুশরা নাদরাহ

 #পর্ব - ৪৭ 

আজ ইনায়ার শেষ এক্সাম। হলরুমে বসে শেষ উত্তরটা লিখে যখন খাতা জমা দিল, তখন মনে হলো বুকের ভেতর জমে থাকা একটা বিশাল চাপ হঠাৎ করেই হালকা হয়ে গেছে। ধীরে ধীরে হলরুম থেকে বের হলো ইনায়া। 

বাইরে রোদটা আগের মতোই ঝলমলে, সবকিছু ঠিক আগের মতোই আছে,  তবুও আজ সবকিছু যেন কেমন আলাদা লাগছে। 

চারপাশে হাসি, চিৎকার, আনন্দে ভরা একটা পরিবেশ সবাই যেন মুক্তির স্বাদ নিচ্ছে। কিন্তু সেই আনন্দটা বেশিক্ষণ টিকল না। হঠাৎ রিয়া বলল,

 “দোস্ত… আমরা তো আর একসাথে থাকতে পারবো না।

 একটা কথাই যেন মুহূর্তেই সব থামিয়ে দিল। হাসির শব্দগুলো ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল। চারপাশে নেমে এলো এক অদ্ভুত নীরবতা। কারো চোখ ভিজে উঠলো, কেউ জোর করে হাসার চেষ্টা করল। ইনায়া তাকিয়ে দেখল, তার পাশেই আরিশা চুপচাপ চোখ মুছছে। 

"এই আরু, কাঁদছিস কেন?

 ইনায়া বলল, কিন্তু তার নিজের গলাও কেঁপে উঠল। 

হঠাৎ ফাহিমা এসে ইনায়াকে জড়িয়ে ধরল।

 “তোদের ছাড়া কিভাবে থাকবো? 

 এক এক করে সবাই জড়িয়ে ধরতে লাগল একে অপরকে। কেউ হাউমাউ করে কাঁদছে, কেউ নিঃশব্দে চোখের পানি ফেলছে। ইনায়ার চোখ দিয়েও টুপটাপ করে পানি গড়িয়ে পড়ল। এই গেট, এই মাঠ, এই কলেজ— সবই ঠিক আগের মতো থাকবে… শুধু থাকবে না তারা। কিছু বিদায় খুব নীরব হয়, কিন্তু সেই নীরবতার ভেতরেই লুকিয়ে থাকে সবচেয়ে বেশি কান্না।

সবশেষে স্যার-ম্যাডামদের সাথে দেখা করে বিদায় নিয়ে, সবাই যে যার মতো বাড়ির পথে রওনা হলো।

 আরু আর ইনায়া একসাথে কলেজ থেকে বের হচ্ছিল, গেটের সামনে যেতেই দেখে  রায়হান দাঁড়িয়ে আছে। ইনায়া একটু অবাক হয়ে গেল। কারণ রায়হানের আসার কথা ছিল না। আরু দুষ্টুমি করে বলল,

"কিরে ইনু, ভাইয়া যে আসবে আগে তো বললি না।

 ইনায়া একটু অপ্রস্তুত হয়ে বলল,

"আরে, আমি নিজেই তো জানতাম না উনি আসবেন।

 আরু হেসে বলল 

"আচ্ছা ঠিক আছে, তুই ভাইয়ার সাথে যা, আমি চলে যাই।

এই বলে আরু বিদায় নিয়ে চলে গেল। ইনায়া ধীরে ধীরে রায়হানের সামনে গিয়ে দাঁড়াল।

 রায়হান বাইকের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, এখনো অফিসের ড্রেস পরা, মনে হচ্ছে অফিস থেকেই সোজা এখানে চলে এসেছে। ইনায়াকে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে রায়হান বলল,

"কি হলো? চুপচাপ কেন? এক্সাম খারাপ হয়েছে?

ইনায়া মাথা নেড়ে বলল,

না,এমন কিছু না?  

"তাহলে?

একটু থেমে ইনায়া বলল,

"আজকে কলেজ লাইফ শেষ,তাই ভালো লাগছে না।

" ওহ। 

কিছুক্ষণ পর বাইক এসে ইনায়াদের বাড়ির সামনে থামল। ইনায়া নামতে যাবে, ঠিক তখনই রায়হান বলল,

"আমি খুব খুশি।

ইনায়া অবাক হয়ে তাকাল,

 "কেন?

রায়হান একটু হেসে বলল,

"যতো দিন যাচ্ছে তোমাকে নিজের করে পাওয়ার দিনটা ধীরে ধীরে কাছে চলে আসছে।

কথাটা শুনে ইনায়ার গাল লাল হয়ে উঠল। লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলল সে। ইনায়া দ্রুত বাসার ভেতরে চলে গেল, কিন্তু তার ঠোঁটের কোণে লুকানো হাসিটা আর লুকিয়ে থাকল না।

Comments

    Please login to post comment. Login