একবার একটি ছোট্ট গ্রামের ছেলে ছিল, যার নাম ছিল নিবিড়। নিবিড়ের পাখির খুব শখ ছিল। সে সর্বদাই আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতো এবং ভাবতো, "আমি যদি পাখির মতো উড়তে পারতাম!"
একদিন বনের ধারের একটি বড় গাছের নিচে পড়ে থাকা একটি নিখুঁত সুন্দর বাঁশি খুঁজে পেল নিবিড়। সে বাঁশিটি নিয়ে মুখে দিয়ে বাজিয়ে উঠলো। অবাক কাণ্ড! বাঁশিটিতে ফুঁ দেওয়ার সাথে সাথে এক ঝাঁক রঙিন পাখি আকাশ থেকে নেমে এলো এবং তার চারপাশে ঘুরতে লাগলো। নিবিড় বুঝতে পারলো এটা কোনো সাধারণ বাঁশি নয়, এটি একটি জাদুকরী বাঁশি।
নিবিড় পাখিদের সাথে কথা বলতে শুরু করলো। পাখিরা তাকে গ্রামের বাইরে একটি গহীন বনের কথা বললো, যেখানে একটি বড় পাহাড়ের চূড়ায় একটি নিখুঁত সুন্দর ঝর্ণা আছে। সেই ঝর্ণায় নাকি খুব দুর্লভ কিছু ফুল ফোটে, যা মানুষের মনের যেকোনো ভালো ইচ্ছা পূরণ করতে পারে। নিবিড় ঠিক করলো সে সেই বনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে, তাতে যতই বড় বাধা আসুক না কেন।
তার যাত্রা শুরু হলো। বনের মধ্যে ঢুকেই সে দেখলো পথ খুব মসৃণ নয়। অনেক ঝোপ-ঝাড় আর বড় বড় গাছ। কিন্তু যখনই সে পথে কোনো বড় সমস্যায় পড়তো, সে তার জাদুকরী বাঁশি বাজিয়ে উঠতো। বাঁশির সুর শুনে রঙিন পাখিরা এসে তাকে সঠিক পথ দেখিয়ে দিতো। পাখিদের সাহায্যে সে বড় বড় নদী আর পাহাড় পার হয়ে গেলো।
শেষমেশ, অনেক কষ্টের পর, নিবিড় সেই পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছালো। সেখানে দেখা গেলো সেই সুন্দর ঝর্ণা আর তার পাশে ফুটে থাকা দুর্লভ নীল রঙের ফুল। নিবিড় ফুলটির কাছে গিয়ে চোখ বন্ধ করে একটি নিখুঁত মনের ইচ্ছা করলো। তার ইচ্ছা ছিল তার গ্রামের সব মানুষ যেন সব সময় সুখে থাকে আর কারও যেন খাদ্যের অভাব না হয়।
যখন সে চোখ খুললো, দেখলো ফুলটি থেকে একটি উজ্জ্বল আলো বের হয়ে আকাশে মিলিয়ে গেলো। নিবিড় যখন তার গ্রামে ফিরে এলো, সে দেখলো গ্রামের সব শুকনো জমি সবুজ শস্যে ভরে গেছে, সবাই খুব খুশি। নিবিড় তার জাদুকরী বাঁশি আর পাখিদের ধন্যবাদ জানালো। সে বুঝতে পারলো, যদি মনের ইচ্ছা সৎ হয়, তবে যেকোনো বড় বাধাই পার করা সম্ভব।