অনন্ত নীলিমার নিচে জেগে আছে যে জলধি,
তার বুকের গভীরে লুকিয়ে আছে এক অতল আকুতি।
জোয়ার-ভাটার খেলায় কাটে সহস্র রাত,
সেখানে সাগর জমিয়ে রেখেছে এক গোপন অনুরাগ।
ঢেউয়ের পর ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে বালুচরে,যেন এক ব্যাকুল প্রেমিক তার প্রিয়তমাকে স্পর্শ করতে মরে।
সাগরের বুক উজর করা সেই ভালোবাসার নেই কোনো শেষ,তাতে মিশে আছে এক অদ্ভুত, মায়াবী আবেশ।
উথাল-পাথাল তরঙ্গের মাঝে যে ক্রন্দন শোনা যায়,তা তো বিরহের নয়, তা হলো মিলনের মহিমায়।
কখনো সে শান্ত, স্নিগ্ধ, যেন এক শান্তিময় নীড়,কখনো সে অশান্ত, উন্মাল, ভাঙতে চায় সব তীর।
বুকের ভেতরে তার লুকিয়ে আছে কত শত রতন,যেমন করে মানুষ হৃদয়ে লুকিয়ে রাখে প্রিয়জন।
গুঞ্জনে শোনা যায় সেই ভালোবাসার গান,যা শুনলে জুড়িয়ে যায় তৃষিত ব্যাকুল প্রাণ।
সাগরের নীল জলরাশি যেন এক বিশাল ক্যানভাস,যেখানে আঁকা আছে চিরন্তন প্রেমের এক দীর্ঘশ্বাস।
পূর্ণিমার চাঁদের আলো যখন সাগরের বুকে পড়ে,তখন রূপালী আলোয় এক জাদুকরী মায়া সৃষ্টি করে।
সাগর তখন নেচে ওঠে তার সমস্ত উজার করা টানে,প্রিয়তমার কাছে নিজেকে সঁপে দেওয়ার আকুল গানে।
সে ভালোবাসায় কোনো কৃপণতা নেই, নেই কোনো বাঁধ,সাগর বিলিয়ে দিতে পারে তার সবটুকু সাধ।
ঝড়-তুফানের রাতে যখন সাগর গর্জে ওঠে ভীষণ সুরে,সে তো আসলে ভালোবাসারই অভিমান, যা যায় দূরে।
আবার পরক্ষণেই শান্ত হয়ে চুমু খায় সৈকতের বুকে,সব রাগ ভুলে গিয়ে মগ্ন হয় এক অনাবিল সুখে।
সাগরের এই ভালোবাসা এক মহাসমুদ্রের সমান,যার গভীরতা মাপার সাধ্য নেই কোনো মানুষের জ্ঞান।
হে সাগর, তোমার বুক উজর করা এই প্রেম চিরকাল রবে,মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রবে।
যতদিন থাকবে এই পৃথিবী, থাকবে নীল জলরাশি,ততদিন সাগরের ঢেউয়ে শোনা যাবে প্রেমের মধুর বাঁশি।
এই অনন্ত জলধির বুকে যে ভালোবাসার জোয়ার আসে,তা যেন প্রতিটি মানব হৃদয়কে চিরকাল ভালোবাসতে শেখায়।