ছোট্ট আমি, অবুঝ আমি, কিছুই বুঝতাম না,
কান্না ছাড়া আড়াল-আবডাল কিচ্ছু খুঁজতাম না।সেই আমাকে আগলে রেখে বুকে দিলেন ঠাঁই,
এই জগতে মায়ের চেয়ে আপন কেহ নাই।
আমার মুখে অন্ন দিতে নিজে থাকেন উপোস,
কষ্ট হাজার লুকিয়ে বুকে হাসেন মায়ের চোখ।
রাত জেগে মোর মাথার পাশে কাটান কত রাত,
কপালে মোর বুলিয়ে দেন স্নেহের কোমল হাত।আমার একটু অসুখ হলে মা যে কেঁদে ব্যাকুল,
প্রার্থনাতে কাটত সময়, হারিয়ে কূল-কিনারা।নিজের সুখের আহ্লাদ যত সঁপে দিলেন মোরে,
আগলে রাখলেন আমায় অবহেলা আর ঝড়ে।
কত কষ্ট, কত কান্না বুকে চেপে রাখা,
মায়ের জীবন মানেই যেন শুধু আমার জন্য বাঁচা।শত আঘাত সয়েও মা যে দেননি আমায় ব্যথা,
মনে পড়ে ছোটবেলার সেই রূপকথার কথা।আজকে আমি বড় হয়েছি, বুঝি মায়ের মন,
আমার জন্য হারিয়েছেন তাঁর শ্রেষ্ঠ যৌবন।
চামড়া কুঁচকে গেছে আজ, চুলে ধরেছে পাক,
তবুও মায়ের আঁচল যেন পরম এক আশ্রয় থাক।পৃথিবীতে আসবে কত চেনা-অচেনা মানুষ,
উড়বে মনে ক্ষণিকের ওই রঙিন ফানুস।
কেউ তো আমার হবে না গো মায়ের মতন আপন,
মায়ের ভালোবাসাই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ বাঁধন।কাউকে আমি বাসতে পারব না মায়ের চেয়ে বেশি,
মায়ের মুখে ফুটিয়ে তুলব চিরদিনের হাসি।বিধাতার কাছে এই মিনতি, এই তো আমার চাওয়া,
মায়ের চরণে যেন পাই জান্নাতের হাওয়া।
মায়ের কষ্ট সার্থক করতে চলব সঠিক পথে,
রেখে দেব আগলে মাকে আমার জীবন-রথে।
মা গো তুমি আমার আকাশ, আমার সারা পৃথিবী,
তোমার স্নেহের তুলিতে আঁকা আমার জীবনের ছবি।
তাই মা এর ঋণ পরিশোধ আজ পর্যন্ত কেউ পায়নি।