News

৫৬ বছর বয়সে মারা গেছেন ‘পার্সেপোলিস’ এর লেখক মারজান সাত্রাপি

June 9, 2026

163 views
Featured Image

ইরানি বংশোদ্ভূত ফরাসি লেখক মারজান সাত্রাপি ৪ জুন মাত্র ৫৬ বছর বয়সে মারা গেছেন বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। তিনি আত্মজীবনীমূলক বই ‘পার্সেপোলিস’ এর জন্য সুপরিচিত। এটি একবিংশ শতাব্দীর গ্রাফিক সাহিত্যের একটি মাইলফলক হিসেবে ব্যাপকভাবে বিবেচিত হয়।  

সাত্রাপির ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, স্বামী ও জীবনের ভালোবাসা মাতিয়াস রিপার মৃত্যুর এক বছরের কিছু বেশি সময় পরে শোক সইতে না পেরে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন তিনি।    

উল্লেখ্য, মারজান সাত্রাপি ১৯৬৯ সালে ইরানে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। ১৪ বছর বয়সে বাবা-মা তাকে পড়াশোনার জন্য অস্ট্রিয়ায় পাঠান এবং তিনি সেখানে চার বছর থাকার পর গৃহহীনতা ও প্রাণঘাতী ব্রঙ্কাইটিসের শিকার হয়ে ইরানে ফিরে আসেন। পরে তিনি প্যারিসে চলে যান।       

২০০০ সালে ফরাসি ভাষায় প্রকাশিত গ্রাফিক নভেল ‘পার্সেপোলিস’ এর প্রথম খণ্ডের মাধ্যমে সাহিত্য জগতে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এই বইতে তিনি ইরানে ইসলামি বিপ্লবের সময় একটি মেয়ে হিসেবে বেড়ে ওঠার কাহিনী বর্ণনা করেছেন। প্রথম এবং এর পরবর্তী খণ্ডগুলোর ইংরেজি অনুবাদ যথাক্রমে ২০০৩ ও ২০০৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয়। এটি ব্যাপক প্রশংসা লাভ করে।         

২০২৩ সালে লেখক গ্রেগরি ম্যাকনামি একটি প্রবন্ধে এই বইটি সম্পর্কে লিখেছেন,‘পার্সেপোলিস’ তার সমগোত্রীয় অন্যান্য ক্লাসিক—‘আ ভিন্ডিকেশন অব দ্য রাইটস অব ওম্যান’ থেকে শুরু করে ‘লেটার ফ্রম আ বার্মিংহাম জেল’ এবং ‘মেমোয়ার্স অব আ রেভোলিউশনিস্ট’ এর পাশে এক অদম্য প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বিশ বছর পরেও এটি একটি জরুরি ও অবশ্যপাঠ্য বই।  

ফরাসি চলচ্চিত্র নির্মাতা ভিনসেন্ট পারোনোর ​​সঙ্গে সাত্রাপি ২০০৭ সালে ‘পার্সেপোলিস’ অবলম্বনে একটি অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। এটির চিত্রনাট্য ও পরিচালনাও ছিল যৌথভাবে। চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ অ্যানিমেটেড ফিচার বিভাগে অস্কার পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল। সাত্রাপির অন্যান্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে গ্রাফিক বই ‘এমব্রয়ডারি’, ‘চিকেন উইথ প্লামস’ এবং উনা দিমিত্রিজেভিচ অনূদিত ‘উইমেন, লাইফ, ফ্রিডম’।      

এদিকে প্রভাবশালী ব্রিটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সাত্রাপির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ‘তার শিশুসুলভ দৃষ্টিভঙ্গি, বিদ্রূপ, কোমলতা এবং অন্তরের অতল গহ্বর দিয়ে তিনি এমন এক মর্মস্পর্শী জগৎ সৃষ্টি করেছেন, যার সঙ্গে পাঠকরা একাত্ম হতে পেরেছেন।’ 

Picked up where you left off

Comments

    Please login to post comment. Login