কারো মুখে কোনো কথা নেই। শুধু ভারী একটা চাপা অস্বস্তি চারপাশে ছড়িয়ে আছে।
ইশতিয়াক শেখ চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছেন। কিন্তু তার ভেতরে যেন ঝড় বইছে।
আমার 22 বছরের ভয়টাই সত্যি হলো ?
চোখ বন্ধ করে ফেললেন । সাথে সাথে ভেসে উঠল 22 বছর আগের সেই নিঝুম রাত।
বাবার কণ্ঠ, " সম্মান গেলে আর ফেরত আসে না।
সেই রাতে তিনিও ভয় পেয়েছিলেন। মান-সম্মানের ভয়ে অন্যের মেয়েকে মারার জন্য বাবাকে সাহায্য করেছিলেন।
কথাটা বুকের ভেতর ছুরির মতো বিঁধল।
আজ আমার নিজের মেয়ে কিনা সেই একই পথে পা দিয়েছে?
তিনি ইনায়ার মুখের দিকে তাকালেন।
চোখে পানি, ঠোঁট কাঁপছে। ঠিক যেমন 22 বছর আগে পারলের ছিলো।
ইনায়া পুরোপুরি ভেঙে পড়ার মতো অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। তার হাত কাঁপছে, মাথার ভেতর শুধু একটাই কথা ঘুরছে,
“পারুল খালামুনির মতো আমার সাথেও কিছু হবে না তো…?
ফারহানা বেগম কাঁদছেন। তার চোখে ভয়, হারানোর ভয়।
"আমি আমার মেয়ের কিছু হইতে দিবো না।
কাঁদতে কাঁদতেই বললেন ফারহানা বেগম ।
ঘরের পরিবেশটা এতটাই ভারী হয়ে উঠেছে। যেন কেউ নিঃশ্বাস নিতেও ভয় পাচ্ছে।
এই এক মুহূর্তে— অতীত আর বর্তমান একসাথে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেছে।