Posts

উপন্যাস

এক ছাতার নিচে। পর্ব:৪৯

June 10, 2026

busra islam

5
View

#গল্প- এক ছাতার নিচে

 #লেখিকা- বুশরা নাদরাহ 

#পর্ব - ৪৯ 

কারো মুখে কোনো কথা নেই। শুধু ভারী একটা চাপা অস্বস্তি চারপাশে ছড়িয়ে আছে। 

ইশতিয়াক শেখ চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছেন। কিন্তু তার ভেতরে যেন ঝড় বইছে। 

আমার নিজের মেয়ে এটা কি করল?  

  আমার 22 বছরের ভয়টাই সত্যি হলো ?  

চোখ বন্ধ করে ফেললেন । সাথে সাথে ভেসে উঠল 22 বছর আগের সেই নিঝুম রাত। 

বাবার কণ্ঠ,  " সম্মান গেলে আর ফেরত আসে না। 

  সেই রাতে তিনিও ভয় পেয়েছিলেন। মান-সম্মানের ভয়ে অন্যের মেয়েকে মারার জন্য বাবাকে সাহায্য করেছিলেন।  

কথাটা বুকের ভেতর ছুরির মতো বিঁধল। 

 আর আজ, 

আজ আমার নিজের মেয়ে কিনা সেই একই পথে পা দিয়েছে?  

তিনি ইনায়ার মুখের দিকে তাকালেন। 

  চোখে পানি, ঠোঁট কাঁপছে। ঠিক যেমন 22 বছর আগে পারলের ছিলো।  

 বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল।  হাত মুঠো হয়ে গেল।   কিন্তু মুখে একটা শব্দও বেরোলো না।  তার বুকটা ভারী হয়ে উঠল। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে যেন চোখের সামনে বারবার ভেসে উঠছে সেই অতীত— যা তিনি কোনোদিন ভুলতে পারেননি। 

অন্যদিকে—

 ইনায়া পুরোপুরি ভেঙে পড়ার মতো অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। তার হাত কাঁপছে, মাথার ভেতর শুধু একটাই কথা ঘুরছে, 

“পারুল খালামুনির মতো আমার সাথেও কিছু হবে না তো…? 

তার বুক ধড়ফড় করছে। সে জানে, তার বাবা মান-সম্মানের ব্যাপারে কতটা কঠিন আর আজ সব সত্য সামনে চলে এসেছে। চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে কিন্তু সে কাঁদতে চাইছে না । গলা শুকিয়ে গেছে। 

ইনায়া আস্তে আস্তে এক পা পিছিয়ে গেল। মনে হচ্ছে— এই ঘরটা, এই মানুষগুলো, সবকিছু আজ হঠাৎ করেই অচেনা হয়ে গেছে। 

ইহান দূর থেকে সব দেখছে। তার বুকের ভেতরটা কেমন চেপে ধরেছে। সে বুঝতে পারছে, আজ সে সত্য বলেছে ঠিকই,কিন্তু সেই সত্যটা সবকিছু বদলে দিচ্ছে। 

ফারহানা বেগম  কাঁদছেন। তার চোখে ভয়, হারানোর ভয়।  

"আমি আমার মেয়ের কিছু হইতে দিবো না।

 কাঁদতে কাঁদতেই বললেন ফারহানা বেগম ।

 ঘরের পরিবেশটা এতটাই ভারী হয়ে উঠেছে। যেন কেউ নিঃশ্বাস নিতেও ভয় পাচ্ছে। 

এই এক মুহূর্তে— অতীত আর বর্তমান একসাথে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেছে।

Comments

    Please login to post comment. Login