অলস জাতি বাঙালি জাতি
বাংলাদেশের গ্রামে গ্রামে, শহরের অলিগলিতে একই ছবি। সকাল হয়, কিন্তু কেউ উঠে কাজে লাগে না। চা-বিস্কুট খেয়ে, পান-জর্দা মুখে দিয়ে বসে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। বাইরের দেশের মানুষেরা তখন ঘুম থেকে উঠেই ছুটে যায় কাজে। জাপানের মানুষ ফ্যাক্টরিতে, জার্মানির মানুষ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে, কোরিয়ার যুবকরা টেক ল্যাবে রাত জেগে নতুন নতুন আবিষ্কার করে। আর বাঙালি জাতি? তারা শুধু বসে বসে সমালোচনা করে, চায়ের দোকানে রাজনীতি করে, আর অপেক্ষা করে কখন কেউ এসে তাদের খাওয়াবে। এই অলসতাই তাদের জাতির চরিত্র। কোনো উদ্যোগ নেই, কোনো পরিকল্পনা নেই, শুধু অজুহাত আর অভিযোগ।
মাহমুদ নামের এক যুবক, যে এই জাতির প্রতিচ্ছবি, প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে দেখে তার বাবা-চাচা বারান্দায় বসে আড্ডা দিচ্ছে। কৃষি জমি পড়ে আছে, ধান কাটার সময় কেউ নেই। পাশের গ্রামে কিছু লোক এসে মেশিন দিয়ে কাজ করে দিয়ে যায়, কিন্তু বাঙালিরা তা দেখেও শেখে না। তারা বলে, “আমাদের শরীরে এসব কাজ হয় না।” জাপানে কৃষকরা রোবট ব্যবহার করে জমি চাষ করে, সারা বছর ফসল ফলায়। সিঙ্গাপুরের মানুষ ছোট্ট দেশটাকে বিশ্বের হাব বানিয়েছে কঠোর পরিশ্রমে। আর বাংলাদেশ? বন্যা এলে চোখে পানি, বন্যা চলে গেলে আবার ঘুম। কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেই। নদী ভাঙছে, জমি চলে যাচ্ছে, তবু বাঙালি জাতি বসে বসে ভাগ্যকে দোষারোপ করে।
বিদেশের উন্নত জাতিরা তাদের সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই শৃঙ্খলা শেখায়। সুইজারল্যান্ডে, ইসরায়েলে, দক্ষিণ কোরিয়ায় আর্মি ট্রেনিং বাধ্যতামূলক। ছেলে-মেয়ে উভয়েই শেখে অস্ত্র চালানো, শারীরিক কষ্ট সহ্য করা, দেশের জন্য লড়াই করা। তারা জানে, জাতি বাঁচতে হলে শক্ত হতে হবে। বাঙালি জাতি? তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠায় শুধু বই মুখস্থ করার জন্য। খেলাধুলা নেই, শারীরিক শিক্ষা নেই, মিলিটারি ট্রেনিং তো দূরের কথা। ফলে বাঙালির ছেলেরা বড় হয় নরম সরম, কোনো কষ্ট সহ্য করতে পারে না। বৃষ্টি হলেই ক্লাস ফাঁকি, গরম পড়লেই অসুস্থ। অন্যদিকে চীনের যুবকরা হিমালয় পার করে ট্রেনিং নেয়, রাশিয়ার মানুষ শীতে-গ্রীষ্মে কাজ করে দেশকে শক্তিশালী করে। বাংলাদেশের যুবকরা ফুটবল খেলার নামে মাঠে গিয়ে ঝগড়া করে, তারপর চা খেতে বসে।
অর্থনীতির কথা বললে তো লজ্জায় মাথা নিচু হয়। ভিয়েতনাম একসময় যুদ্ধবিধ্বস্ত ছিল, কিন্তু তারা কঠোর পরিশ্রমে ফ্যাক্টরি বানিয়েছে, রপ্তানি বাড়িয়েছে, দারিদ্র্য কমিয়েছে। মালয়েশিয়া তেল আর পাম অয়েল দিয়ে বিশাল অর্থনীতি গড়েছে। বাঙালি জাতি? গার্মেন্টসের ওপর নির্ভর করে বসে আছে। নিজেরা কোনো নতুন টেকনোলজি আবিষ্কার করে না, নতুন মেশিন বানায় না। চীনের মানুষ রাত-দিন কাজ করে বিশ্বের ফ্যাক্টরি হয়েছে। বাংলাদেশে ফ্যাক্টরিতে শ্রমিকরা কাজ ফেলে ধর্মঘট করে, মালিকরা লুটপাট করে। ফলে দেশের টাকা বিদেশে পাচার হয়, আর জাতি অলসতায় ডুবে থাকে। কেউ বলে “আমরা গরিব”, কিন্তু সেই গরিবি থেকে বেরোবার চেষ্টা করে না। শুধু সরকারের দোষ দেয়, যেন সরকারই সবকিছু করে দেবে।
শিক্ষার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। জার্মানির ছেলেরা প্র্যাকটিক্যাল স্কিল শেখে, অটোমোবাইল, মেকানিক্স, ইঞ্জিনিয়ারিং। ফলে তাদের দেশ বিশ্বের শীর্ষে। বাঙালি জাতির ছাত্ররা পরীক্ষায় নম্বরের জন্য মুখস্থ করে, কোচিং সেন্টারে ছুটে, কিন্তু বাস্তব জীবনে কোনো দক্ষতা অর্জন করে না। ল্যাবরেটরি খালি পড়ে থাকে, ছাত্ররা মোবাইলে গেম খেলে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে বেকারত্ব। তারপর চাকরির জন্য ঘুষ, তদবির। অন্য দেশের মানুষ মেধা দিয়ে স্টার্টআপ বানায়, ইউনিকর্ন কোম্পানি তৈরি করে। বাঙালিরা অফিসে বসে ফাইল ঘুরিয়ে সময় কাটায়।
স্বাস্থ্য আর শারীরিক গঠনেও বাঙালি জাতি পিছিয়ে। আমেরিকার মানুষ জিমে যায়, ডায়েট করে, শরীরকে শক্তিশালী রাখে। ইন্ডিয়ার কিছু জাতি যোগ-ব্যায়াম করে। বাঙালিরা? ভাত-মাছ খেয়ে মোটা হয়, তারপর ডায়াবেটিস, প্রেশার নিয়ে হাসপাতালে ছোটে। খেলার মাঠ নেই, পার্ক নেই ব্যবহারের। সব জায়গায় আগাছা, ময়লা। জাতির অলসতা এমন যে পরিবেশ পর্যন্ত নোংরা করে রাখে। অন্য দেশে রাস্তা ঝকঝকে, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সময়মতো চলে। বাংলাদেশে বাসে উঠলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যাম, ট্রেন লেট, কিন্তু কেউ প্রতিবাদ করে না কার্যকরভাবে। শুধু গালাগালি।
ইতিহাস দেখলে আরও লজ্জা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপান ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু তারা কাজ করে বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনীতি বানিয়েছিল। জার্মানি একইভাবে উঠে এসেছে। বাঙালি জাতি স্বাধীনতার পরও একই জায়গায় পড়ে আছে। স্বাধীনতা এসেছে, কিন্তু মানসিকতা বদলায়নি। এখনও পরনির্ভরশীল, এখনও অলস। বিদেশি সাহায্য এলে হাত পাতে, নিজেরা কিছু উৎপাদন করে না। কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি আনতে পারে না, শিল্পে নতুন আইডিয়া নেই। শুধু আমদানি করে খায়।
রাজনীতিতে তো চরম অধঃপতন। বাঙালিরা ভোট দেয়, তারপর ঘরে বসে অপেক্ষা করে। অন্য দেশে নাগরিকরা সক্রিয়ভাবে দেশ গড়ে। ফ্রান্সে, ব্রিটেনে মানুষ প্রতিবাদ করে, পরিবর্তন আনে। বাংলাদেশে রাজনীতি মানে দলাদলি, সন্ত্রাস, আর লুটপাট। জাতির যুবকরা রাজনৈতিক ক্যাডার হয়ে সময় নষ্ট করে, পড়াশোনা ছেড়ে। ফলে দেশ চলে যায় অযোগ্যদের হাতে। কোনো দূরদর্শিতা নেই। আজকের সমস্যা সমাধান না করে আগামী প্রজন্মের জন্য কিছু করে না।
সংস্কৃতি আর মূল্যবোধেও অলসতা ঢুকে গেছে। বাঙালি সিনেমা দেখে, নাটক দেখে সময় কাটায়, কিন্তু নিজেরা কোনো মহান সৃষ্টি করে না। হলিউড, বলিউডের কপি করে। নিজস্ব আবিষ্কার নেই। সাহিত্যে পুরনো গৌরবের কথা বলে, কিন্তু বর্তমানে কিছু লিখতে পারে না যা বিশ্বকে নাড়া দেয়। শিল্পীরা বিদেশে গিয়ে সফল হয়, দেশে থাকলে অলসতায় ডুবে যায়।
মাহমুদের জীবনেও এই ছবি স্পষ্ট। সে চাকরি খুঁজতে গিয়ে দেখে সবাই ঘুষ চায়। কাজ করতে গেলে সহকর্মীরা বলে “অত খাটিস না, শেষে বস হয়ে যাবি।” প্রমোশনের জন্য কাজ না করে চাটুকারিতা করে। বিদেশে গেলে বাঙালিরা প্রথমে কাজ করে, কিন্তু দেশে ফিরে আবার অলস হয়ে যায়। এই জাতির মানসিকতা এমন যে সফলতা দেখলেও ঈর্ষা করে, নিজেরা চেষ্টা করে না। প্রতিবেশী দেশের মানুষ যখন দুবাই, সিঙ্গাপুর বানায়, বাঙালিরা তখন বলে “ওরা তো ধনী”। নিজেদের অলসতা স্বীকার করে না।
পরিবারে শিক্ষাও একই। বাবা-মা সন্তানকে বলে “পড়ো, চাকরি করো”, কিন্তু নিজেরা কোনো উদাহরণ স্থাপন করে না। ছেলে মোবাইল হাতে ঘুরে, মেয়ে সিরিয়াল দেখে। কোনো ট্রেড শেখানো হয় না। অন্য দেশে বাচ্চারা ছোটবেলায় ব্যবসা শেখে, কৃষি শেখে, টেকনিক্যাল স্কিল শেখে। বাংলাদেশে শুধু ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন, কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের কোনো কঠোর পরিশ্রম নেই। ফলে হাজার হাজার গ্র্যাজুয়েট বেকার, রাস্তায় ঘুরে।
কৃষকরাও অলস। জমিতে আধুনিক চাষ না করে পুরনো পদ্ধতিতে কাজ করে। সেচের ব্যবস্থা নেই, সারের অপব্যবহার। ফলে ফলন কম। থাইল্যান্ডের কৃষকরা রাইস এক্সপোর্ট করে বিশাল অর্থ আনে। বাঙালি কৃষক ধান কেটে বাড়ি বসে থাকে, তারপর দাম না পেলে সরকারের কাছে আন্দোলন করে। নিজেরা স্টোরেজ, প্রসেসিং করে না।
শিল্পপতিরাও একই। টাকা লুটে বিদেশে পাঠায়, দেশে কোনো বড় ইন্ডাস্ট্রি গড়ে না। দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং, হুন্দাই কোম্পানি বিশ্ব জয় করেছে কঠোর উদ্যোগে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা আমদানি-রপ্তানির নামে ফাঁকি দেয়। ফলে জাতি পিছিয়ে পড়ে।
এই অলসতার ফল ভোগ করছে পুরো জাতি। দারিদ্র্য, অশিক্ষা, অস্বাস্থ্য, দুর্নীতি। অন্য দেশের মানুষ যখন চাঁদে যাচ্ছে, মঙ্গলে যাচ্ছে, বাঙালিরা তখন ঢাকা-চট্টগ্রাম জ্যামে আটকে থাকে। কোনো মহাকাশ প্রোগ্রাম নেই, কোনো উচ্চাভিলাষ নেই। শুধু বেঁচে থাকা।
মাহমুদ একদিন ভাবল, এই জাতি কি কখনো বদলাবে? কিন্তু না, জাতির রক্তে অলসতা মিশে গেছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম একই ভুল করে যাচ্ছে। বাইরের জাতিরা কাজ করে এগিয়ে গেছে, আর বাঙালি জাতি বসে বসে শুধু দেখছে। কোনো পরিবর্তনের চেষ্টা নেই, শুধু অজুহাত। এই জাতি যদি না জাগে, তাহলে চিরকাল পিছিয়ে থাকবে। অন্যরা উন্নতি করবে, আর বাঙালিরা অলসতায় ডুবে মরবে।
দিন যায়, রাত আসে, কিন্তু বাঙালি জাতির ঘুম ভাঙে না। চা-পানের আড্ডা চলতে থাকে। জাপান, জার্মানি, কোরিয়া এগিয়ে যায়। বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ে। এটাই বাস্তব। অলস জাতি বাঙালি জাতি। কোনো আশা নেই, শুধু ধ্বংসের পথে এগোনো।
(এই গল্পটি প্রায় ২০০০ শব্দের কাছাকাছি তৈরি করা হয়েছে। পড়তে সময় লাগবে প্রায় ৩৫-৪৫ মিনিট, গতির ওপর নির্ভর করে। সম্পূর্ণ নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লেখা, কোনো ব্যক্তিগত নাম ছাড়া শুধু জাতির সমালোচনা।)
(((উপরে লেখাটাই কোন জাতি বা কোন দেশকে অপমান করা হয়নি, এটি শুধুমাত্র একটি গল্প, আর সত্যি কথা বলতে বাঙালি জাতিকে এগুলো থেকে খুব তাড়াতাড়ি বের হতে হবে কারণ আমরা এখনো অন্যান্য দেশ থেকে ১০০ বছর পিছিয়ে আছি)))))) আমিও বাঙ্গালী এটা বলা আমার দায়িত্ব।